SylhetNews24.com

জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের ফাঁসির দণ্ডাদেশ আপিলেও বহাল

সিলেট নিউজ ২৪

প্রকাশিত : ০৩:৫২ পিএম, ৩১ অক্টোবর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের ফাঁসির দণ্ডাদেশ আপিলেও বহাল রয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগ আজহারের খালাস চেয়ে করা আপিল আংশিক মঞ্জুর করে বৃহস্পতিবার সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে আপিল নিস্পত্তি করে সংক্ষিপ্ত এ চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।

এই বেঞ্চের অপর তিন সদস্য হলেন-বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি জিনাত আরা এবং বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান। রায়ে সংক্ষিপ্ত আদেশে বলা হয়, 'দ্য আপিল ইজ এলাউ ইন পার্ট।'

সর্বোচ্চ আদালতে আজহারের ফাঁসি বহাল রাখার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ। রায়কে অভিনন্দন জানিয়ে দ্রুত রায় কার্যকর করতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

এর আগে আপিল বিভাগের একই বেঞ্চ গত ১০ জুলাই উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে এ আপিলের রায় অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন। বুধবার আপিল বিভাগের কার্য তালিকায় রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি এক নম্বরে রাখা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রংপুরের আলবদর বাহিনীর কমান্ডার জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। পাশাপাশি তাকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

এটিএম আজহারুল ইসলাম একাত্তরে ইসলামী ছাত্রসংঘের জেলা কমিটির সভাপতি ছিলেন। সে সময় তার নেতৃত্বেই বৃহত্তর রংপুর এলাকায় হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতন, বাড়িঘরে লুটপাট-অগ্নিসংযোগসহ বর্বরতা চালানো হয়। রায়ে তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে পাঁচটি এবং পরিকল্পনা-ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে রংপুর অঞ্চলে গণহত্যা চালিয়ে অন্তত ১৪০০ লোককে হত্যা এবং নিজেই ১৪ জনকে খুনের অপরাধে তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

ট্রাইব্যুনালের দেওয়া এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি ১১৩ যুক্তিতে খালাস চেয়ে ২ হাজার ৩৪০ পৃষ্ঠার আপিল করেন দণ্ডিত এই যুদ্ধাপরাধী। এরপর ২০১৭ সালের ১৩ আগস্ট এক আদেশে আপিল বিভাগ আসামিপক্ষকে সারসংক্ষেপ দাখিলের নির্দেশ দেন। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকার পর গত ১৮ জুন সর্বোচ্চ আদালতে এ মামলার শুনানি শুরু হয়ে ১০ জুলাই শেষ হয়।