SylhetNews24.com

রাখাইনকে বাংলাদেশের অংশ করার কোনো মানসিকতাই নেই: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

সিলেট নিউজ ২৪

প্রকাশিত : ০৯:৩৯ পিএম, ৮ জুলাই ২০১৯ সোমবার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‌‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন চেষ্টা করবে। চীন নিজেকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়কেই বন্ধু বলে উল্লেখ করে দেশটির রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং বলেছেন তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিবে।’


চীন সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে বিকেল ৪টায় এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারকে সম্মত করতে চেষ্টা করবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করেন। রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা। চীন তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুবার মিয়ানমারে পাঠিয়েছেন। আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনে তারা আবারও মন্ত্রীকে মিয়ানমারে পাঠাবেন।

তিনি বলেন, আমি উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করি। রোহিঙ্গা সঙ্কটের কারণে এ শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হাতে পারে বলে আমি উল্লেখ করি।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মার্কিন কংগ্রেসের পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বাজেটবিষয়ক শুনানিতে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের এশিয়া প্রশান্ত-মহাসাগরীয় উপকমিটির চেয়ারম্যান ব্রাড শেরম্যান রোহিঙ্গাদের জন্য মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যকে দেশটি থেকে আলাদা করে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার জন্য পররাষ্ট্র দফতরের প্রতি আহ্বান জানান।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কোনো মানসিকতাই বাংলাদেশের নেই।

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়িয়ে ৩৫ করার দাবিতে চলা আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে বয়স বাড়ানো হবে কিনা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী ৩৫, ৩৬ ও ৩৭তম বিসিএসে অংশগ্রহণকারীদের বয়সভেদে পাসের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। এতে দেখা যায়, বেশি বয়সী পরীক্ষার্থীদের তুলনায় কম বয়সী পরীক্ষার্থীদের পাসের হার বেশি। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানো উচিত কিনা সেটা দেশের মানুষকেই ভেবে দেখতে বলেন তিনি।

গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বলা হচ্ছে ভারতের গ্যাসের দাম কমানো হচ্ছে। কিন্তু ভারতের গ্যাসের দাম বাংলাদেশের তুলনায় বেশি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ভারতের গ্যাসের দামের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

এর আগে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তার চীন সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

প্রসঙ্গত, পাঁচ দিনের দ্বিপক্ষীয় সরকারি সফরে গত ১ জুলাই চীনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২ জুলাই ডালিয়ান শহরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের গ্রীষ্মকালীন সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি, ৪ জুলাই চীনের বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে দু'দেশ পাঁচটি চুক্তি, তিনটি সমঝোতা ও একটি লেটার অব এক্সচেঞ্জে সই করে।

৫ জুলাই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক ও তার দেওয়া নৈশভোজেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সফর শেষে গত শনিবার দুপুরে দেশে ফেরেন তিনি।