SylhetNews24.com

নবনির্মিত দক্ষিণ সুনামগঞ্জ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্কুল জুয়ারীদের আখড়া

মো:নুরুল হক, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ

সিলেট নিউজ ২৪

প্রকাশিত : ০১:৫৪ এএম, ১১ জুন ২০১৯ মঙ্গলবার

সুনামগঞ্জ জেলার একমাত্র  সরকারি সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মানের দু'বছর পরও পরিত্যক্ত অবস্তায় পড়ে রয়েছে। নবনির্মিত ভবনটিতে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি অন্যদিকে এটি মাদকসেবী ও জুয়ারীদের আখড়ায় পরিনত হয়েছে। 

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার উজানীগাঁওয়ে জয়কলস-উজানীগাওঁ রশিদিয়া সরকারী কাইস্কুলের পাশে  নির্মিত সরকারি সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। এতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ থেকে সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুরা।

সরেজমিন দেখা যায়, শিক্ষা কার্যক্রম চালু না হলেও খোলা রয়েছে ভবনের গেইট। আর ভবনের মূল দরজার পাশে খালি জায়গায় ধান ও খড় পড়ে রয়েছে। এখানে ধান শুকানোর কাজ করছেন অনেকেই। অযত্মে-অবহেলায় পড়ে রয়েছে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি ভবন। নষ্ট হচ্ছে এর মূল্যবান যন্ত্রাংশ। ভবনের লাইটগুলোও বিকল হয়ে পড়েছে। এখানে প্রতিনিয়তই জুয়ার আসার বসে অভিযোগ স্থানীয়দের। সেখানে মদ ও গাঁজার আসর বসে বলেও জনশ্রুতি রয়েছে। 

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস গ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কন্যা কলি আক্তারের বাবা হায়দার আলী ও মাতা রেশমী বেগম বলেন, আমার মেয়ে জন্মের পরে অন্ধ । সমাজের বোঝা না হয়ে সে যাতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে ভবিষ্যতে স্বাবলম্বী হতে পারে-এই আশায় বুক বেঁধেছিলাম। কিন্তু প্রতিষ্ঠান চালু না হওয়ায় শেষ আশা দুরাশায় পরিণত হয়েছে।

উজানীগাঁও গ্রামের রহিম উদ্দিন ও পল্লী চিকিৎসক সইফুল আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘এ পরিত্যক্ত ভবনে প্রতিদিন রাইত জুয়া, মদ গাঞ্জা চলে। গেইট খোলা থাকায় মানুষে ইকানো ধান তয় খের তয়, গরু তয়। পুরুতাইনতে ইটাইয়া হকল লাইট ভাঙ্গিলিছে। এত ট্যাকার বিল্ডিং নষ্ট অইয়া যার। ইতা কেউ দেখে না’।

এদিকে, সরকারি সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রম ভবন নির্মাণের ২ বছরেও চালু না হওয়ায় স্থানীয় লোকজনের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। অনেকেই মন্তব্য করেন, বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধীদের জন্য খুবই আন্তরিক। কিন্তু, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার প্রতিবন্ধীদের জন্য স্থাপিত শিক্ষালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। নির্মাণ হওয়ার পরেও চালু না হওয়ার নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান জিনিসপত্র। তাই দ্রুত এই বিদ্যালয় চালুর দাবী জানান স্থানীয় লোকজন। 

এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা সভাপতি রাধিকা রঞ্জন তালুকদার বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রমটি চালু করা খুবই জরুরী। এতে প্রতিবন্ধীরা সমাজের মূল  ধারায় সম্পৃক্ত হয়ে আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে।
যোগাযোগ করা হলে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিমা বলেন, ‘আমি নতুন জয়েন করেছি। এ বিষয়ে আমার কিছুৃ জানা নেই।’

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক নূর হোসেন বলেন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে একটি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রম স্থাপিত হয়েছে-যা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। কিন্তু নির্মাণের ২ বছর পেরিয়ে গেলেও শিক্ষা কার্যক্রম ভবনটি চালু না হওয়া দু:খজনক। শিক্ষা কার্যক্রমটি কে বা কারা তদারকি করেন তা জানি না। তবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে দ্রুত যেন শিক্ষা কার্যক্রমটি চালু করা হয়। 

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা সুচিত্রা রায় বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা ভবনটির উদ্বোধন হয়ে গেছে। গত বছর ছাত্র জটিলতার কারণে ক্লাস শুরু করা যায়নি। এবছর জুন- জুলাইয়ের দিকেই শিক্ষা কার্যক্রমটি চালু করা হবে।