SylhetNews24.com

ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ফণি দুর্বল হয়ে বাংলাদেশে আঘাত হানবে

অনলাইন ডেস্ক

সিলেট নিউজ ২৪

প্রকাশিত : ০২:১৪ পিএম, ৩ মে ২০১৯ শুক্রবার

ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ফণি ভারতের ওডিশা রাজ্যের পুরী উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হেনেছে। পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে আঘাত হানবে এ ঝড়।  ১৭০ থেকে ২০০ কিলোমিটার গতির শক্তিসম্পন্ন ফণি ওডিশায় আঘাত হানার পর দুর্বল হয়ে পড়বে।

শুক্রবার সকালে ওডিশায় আছড়ে পড়ার সময় ফণির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার। ভারতীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ওডিশায় তাণ্ডব চালাবে ফণি। তারপর তা এগোতে থাকবে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দিকে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণি প্রায় অর্ধেক গতিবেগ নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ পুরো বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড়ের আওতায় থাকবে। ঘূর্ণিঝড়টি শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারারাত বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাবে। সে সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০-১২০ কিলোমিটার থাকতে পারে। ফণি সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল অঞ্চলের দিক থেকে ফরিদপুর, ঢাকা হয়ে ভারতের মেঘালয়ের দিকে যাবে।

ফণির প্রভাবে শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে বৃষ্টি হচ্ছে। মোংলা, পায়রা বন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত বহাল রাখা হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের জন্য জারি করা হয়েছে ৬ নম্বর বিপদসংকেত। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় এবার আগেভাগেই জানমাল রক্ষায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এর আগে ২০১৭ সালে 'মোরা' এবং ২০১৬ সালে 'রোয়ানু'র প্রবল আঘাতের আগেও সরকারি তরফে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ায় জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হয়।

বিশেষ করে ২০০৭ সালে সিডর ও ২০০৯ সালে আইলার তাণ্ডবে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পর সরকারি তরফে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় অনেক বেশি সতর্ক অবস্থান দেখা যাচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের অস্তিত্ব দৃশ্যমান হওয়ার পর থেকেই সরকারি কর্মযজ্ঞও শুরু হয়ে যায়।

যুক্তরাজ্য সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। ফণির প্রভাবে হাওর ও অন্যান্য এলাকায় পাকা বোরো ধানের ক্ষতি হতে পারে আশঙ্কায় কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার নির্দেশ দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।