SylhetNews24.com

ডিনামাইটে গুড়িয়ে দেওয়া হবে ১৫ তলা বিজিএমইএ ভবন

অনলাইন ডেস্ক

সিলেট নিউজ ২৪

প্রকাশিত : ১১:৫৬ পিএম, ১৬ এপ্রিল ২০১৯ মঙ্গলবার

আদালতের রায়ে অবৈধ ঘোষিত রাজধানীর হাতিরঝিলের বিজিএমইএ পুরান ভবনটি ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় বুলডোজার ও প্রয়োজনীয জনবলসহ বিজিএমইএ ভবনের সামনে উপস্থিত হন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কর্মকর্তারা। বিদ্যুৎ, পানিসহ সব সেবা বিচ্ছিন্ন করার জন্য সংশ্নিস্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরাও রাজউকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছিলেন।

তবে ভবন ভাঙার মূল কাজ শুরু হয়নি। মালামাল সরিয়ে নিতে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত দফায় দফায় সময় দেওয়া সত্বেও মালামাল সরানোর কাজ এখনও শেষ হয়নি। এ অবস্থার মধ্যেই সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ভবন সিলগালা করে দেয় রাজউক। বিজিএমইএর কার্যক্রম ছাড়াও এপিম ব্যাংক এবং কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানার অফিসসহ মোট ১৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে ভবনটিতে।

রাজউক কর্মকর্তারা বলছেন, বুধবার থেকে ভাঙ্গার প্রক্রিয়া আবার শুরু হবে। এক সপ্তাহর মধ্যে ভাঙ্গার কাজ শেষ হবে। চীনা প্রকৌশলীদের সহযোগিতায় ডিনামাইট দিয়ে ভবনটি গুড়িয়ে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে চীনা প্রকৌশলীরা সরেজমিনে ভবন দেখে গেছেন।

জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, এই ভবনটি এখন আর বিজিএমইএর নয়। নতুন ভবনে গত সোমবার থেকেই দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন তারা। তার আগেই ভবন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রফতানি প্রক্রিয়ার গুরত্বপূর্ণ কাজ কাঁচামাল আমদানির প্রাপ্যতা সনদ (ইউডি) সংক্রান্ত কিছু কাজ ছিল ভবনটিতে সেটাও বুধবার গুটিয়ে আনা হয়েছে।

গত ১০ এপ্রিল ভবনটি ভাঙতে আদালতের কাছে আরও এক বছর সময় চেয়ে আপিল করা হয়। বলা হয়, রাজধানীর উত্তরায় নতুন ভবনটি এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি। একারণে রফতানি প্রক্রিয়ার ইউডি দেওয়াসহ অন্যান্য কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এরকম প্রধান প্রধান আটটি কারণ উল্লেখ করা হয় আপিলে। বিজিএমইএর নবনির্বাচিত কমিটি এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে নতুন কমিটির একজন নেতা মঙ্গলবার সমকালকে বলেন, আদালত ভবনটি ১২ এপ্রিলের মধ্যে ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতে কোন আবেদন করা না হলে সেটা আদালত অবমাননা হতো। সে বিবেচনায় একজন আইনজীবী আবেদনটি করেছেন।

ভূমির মালিকানাস্বত্ব না থাকা এবং ইমারত বিধিমালা ও জলাধার আইন ভঙ্গ করার দায়ে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিজিএমইএ ভবনকে অবৈধ ঘোষণা করে এটি ভেঙ্গে ফেলার রায় দেন হাইকোর্ট। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে বিজিএমইএ। হাইকোর্টের দেওয়া রায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগও বহাল থাকে। পরে ভবন ভাঙ্গতে আদালতের কাছে সময় চায় বিজিএমইএ। দুই দফা বৃদ্ধির পর তৃতীয় দফায় ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেন আদালত।

এই সময়সীমা পার হওয়ার চতুর্থদিনে মঙ্গলবার সকালে বুলডজারসহ ভাঙার যন্ত্রপাতি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে বিজিএমইএ ভবনের সামনে উপস্থিত হন রাজউকের কর্মকর্তারা। এ সময় রাজউকের পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার অলিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ভবন ভাঙার জন্য তাদের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে ভবনে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে। তাদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

রাজউকের নির্দেশের পর ভবনে অবস্থিত বিভিন্ন ব্যাংক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করে। প্রথমে তাদের দুই ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। কিন্তু এসময়ের মধ্যে সরানোর কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় দুপুর আড়াইটায় হাতিরঝিল প্রকল্পের পরিচালক রায়হান ফেরদৌস সাংবাদিকদের জানান, ভবনে ব্যাংক ও আর্থিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মালামাল সরিয়ে নিতে তাদের মানবিক কারণেই সময় দিতে হয়।

ভবনটি ভাঙ্গার বিষয়ে তিনি বলেন, পনের তলা এই ভবন নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ পদ্ধতিতে ভাঙা হবে।

এসময় রাজউকের পরিচালক অলিউর রহমান বলেন, এর আগে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের র‌্যাংগস টাওয়ার সনাতনি পদ্ধতিতে ভাঙার সময় হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল। সেই দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে এই ভবনটি ভাঙতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। এখানে যেমন কারিগরি বিষয় রয়েছে তেমনি রয়েছে ব্যবস্থাপনার বিষয়। ভবনটি ভাঙতে চীনা প্রকৌশলীদের সহযোগিতা নেওয়া হবে। তারা ইতিমধ্যে সরেজমিনে ভবনটি দেখে গেছেন।

মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বিজিএমই ভবন এলাকায় দেখা যায় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো ট্রাকে, হাতে ও ভ্যানে করে নিজেদের মালামাল সরিয়ে নিচ্ছে। এ সময় এফডিসির সামনের সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত মালামাল সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলতে থাকে।

রাজউকের কর্মকর্তারা জানান, ভবনের ভেতর আটকে পড়া মালামাল বুধবার সরিয়ে নিতে চাইলে রাজউকের কাছে আবেদন করতে হবে। রাজউক মানবিক কারণে এই আবেদন বিবেচনা করে দেখবে। -সমকাল।