SylhetNews24.com

দিস ইজ দ্যা বেস্ট টাইম ফর ইনভেস্টমেন্ট:পররাষ্ট্র মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার

সিলেট নিউজ ২৪

প্রকাশিত : ১০:৫৮ পিএম, ৩০ মার্চ ২০১৯ শনিবার

পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন বলেছেন, দিস ইজ দ্যা বেস্ট টাইম ফর ইনভেস্টমেন্ট। কারণ শেখ হাসিনা যতদিন ক্ষমতায় আছেন ততদিন প্রবাসীদের বিনিয়োগের সর্বোত্তম স্থান হচ্ছে বাংলাদেশ। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মঙ্গল চান, উন্নয়ন চান ও প্রবাসী বিনিয়োগ চান। প্রবাসীদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে কিছুটা বাঁধার সৃষ্টি হলেও শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছালে তা আর আটকাবেনা। তাই এখনই সময় বাংলাদেশে বিনিয়োগের। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের মহাসড়কে আমাদের বহুমুখী বিনিয়োগ প্রয়োজন। আমাদের আইন-কানুন পরিবর্তন করে হলেও প্রবাসীদের বিনিয়োগের বাঁধা দূর করতে হবে। 

শনিবার (৩০ মার্চ ২০১৯) সন্ধ্যায় বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে প্রবাসী বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র উদ্যোগে “বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে প্রবাসী বিনিয়োগ:একটি সামগ্রিক পর্যালোচনা” শীর্ষক গবেষণাপত্রের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রী একথাগুলো বলেন। 

সিলেট চেম্বারের কনফারেন্স হলে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান হাফিজ আহমদ মজুমদার এমপি, আরটিএম ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান ড. আহমদ আল কবির, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। 

অনুষ্ঠানে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন গবেষক শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফজলে এলাহী মোঃ ফয়সল। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের লন্ডন রিজিওনাল প্রেসিডেন্ট বশির আহমদ ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী।   

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রবাসী বিনিয়োগ বিষয়ক গবেষণাপত্র তৈরীর উদ্যোগ নেওয়ায় সিলেট চেম্বারের ভূঁয়সী প্রশংসা করেন। তিনি সিলেটে বিভিন্ন ইকোনমিক জোনে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জড়িত করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য চেম্বারের প্রতি আহবান জানান। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে এখন বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরী করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসীরা যাতে নিশ্চিন্তে, নিরাপদে বিনিয়োগ করতে পারেন সে ব্যাপারে শেখ হাসিনা খুবই আন্তরিক। প্রবাসীরা বিনিয়োগ করতে এসে যাতে কোন ধরণের হয়রানির শিকার না হন এবং তাদেরকে উন্নয়নের মহাসড়কে কিভাবে সংযুক্ত করা যায় সেজন্য ইআরডি-তে একটি আলাদা সেল করা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এনআরবি টাস্কফোর্স করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সের একজন সদস্য হিসেবে আমি ‘রিপেন’ নামে একটি প্রস্তাব দিয়েছি কিভাবে প্রবাসীদের আমরা দেশের উন্নয়নে তাদের জ্ঞান কাজে লাগাতে পারি। বিমানবন্দরগুলোতে প্রবাসীরা যাতে আর হয়রানির শিকার না হন সেজন্য আমরা সিলেটের মন্ত্রীরা মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিমানবন্দরগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য। প্রবাসীদের সুবিধার জন্য এম্বেসি ও মিশনগুলোতে ২৪ ঘন্টা হটলাইন চালু করা হয়েছে এবং প্রবাসীদের বিভিন্ন ধরণের পাওয়ার অব অ্যাটর্নী, সার্টিফিকেট ইত্যাদি অনলাইনে সত্যায়ন করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, প্রবাসীরা যাতে সিলেটে এসে হয়রানি ও ভূমিদস্যূতার শিকার না হন সেজন্য মেয়রের অফিসে একটি সেল করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে সিলেট চেম্বারের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ প্রধান অতিথি পররাষ্ট্র মন্ত্রীর কর্মকান্ডের প্রশংসা করে বলেন, তিনি তার কর্মকান্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সম্মান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এজন্য আমরা সিলেটবাসীরা গর্বিত। আগামী দিনেও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্রের কাতারে নিয়ে যাবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি। স্বাধীনতার এই মাসে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি প্রবাসী বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরী হয়েছে। যে কারণে নবীন উদ্যোক্তারাও বৃহত্তর সিলেট তথা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তিনি বলেন, সিলেট চেম্বারের উদ্যোগে সম্ভাবনাময় খাত নিয়ে যে গবেষণা পত্র প্রকাশ করা হয়েছে তার মাধ্যমে কোন খাতে বিনিয়োগ করলে লাভ হবে তা বিনিয়োগকারীরা জানতে পারবেন। তিনি আগামীতে এই প্রকশনার ইংলিশ ভার্সন প্রকাশ করা হবে বলে জানান। তিনি সিলেটের সাথে চট্টগ্রাম এবং ঢাকার রেল যোগাযোগ আরো উন্নত, রেলে এসি কোচ চালু ও ব্রডগেজে রূপান্তর এবং গোয়াইনঘাট স্পেশাল ইকোনমিক জোন চালুর আহবান জানান। 

সভায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সিলেট চেম্বারের সিনিয়র সহ সভাপতি মাসুদ আহমদ চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের জিএম জীবন কৃষ্ণ রায়, ডিজিএম শামীমা নার্গিস, সিলেট সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহাম্মদ হায়াতুল ইসলাম আকঞ্জি, স্কলার্স হোমের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী (অব.), সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার আলাওর, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ, সিলেট চেম্বারের সহ সভাপতি মোঃ এমদাদ হোসেন, পরিচালক জিয়াউল হক, মোঃ সাহিদুর রহমান, পিন্টু চক্রবর্তী, মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান (ভূট্টো), মুশফিক জায়গীরদার, এহতেশামুল হক চৌধুরী, আব্দুর রহমান, চন্দন সাহা, ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, মোঃ আব্দুর রহমান (জামিল), হুমায়ুন আহমেদ, মোঃ আতিক হোসেন, সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি শাহ আলম, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির বিবিএ ডিপার্টমেন্টের প্রধান মোঃ মাসুদ রানা, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা জাবেদ সিরাজ, সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদ নিউইয়র্কের সহ সভাপতি রানা ফেরদৌস চৌধুরী, শাবিপ্রবির নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হায়দার, লিডিং ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. মোঃ রাশেদুল আজিম এসিএস, সাংবাদিক ইকরামুল কবির, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তাপস দাস পুরকায়স্থ, সাধারণ সম্পাদক শাহ্ দিদার আলম নোবেল, হৃদয়ে একাত্তর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী উজ্জ্বল, ঢাকা রিজেন্সি হোটেলের চেয়ারম্যান মোসলেহ আহমেদ, এক্সেলসিয়র সিলেটের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত খান, বাংলাদেশ-ডাচ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট জি.আর. চৌধুরী (ফারুক), গোল্ডেন হার্ভেস্টের এক্সক্লুসিভ ডাইরেক্টর মঈনুল ইসলাম চৌধুরী, বিবিসিসিআই এর সাবেক সহ সভাপতি এম. এ. কাইয়ুম, সিলেট বিভাগ গণদাবী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এম. শফিকুর রহমান, প্রিমিয়াম ফিস এন্ড এগ্রো’র সিইও মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম চৌধুরী, লুব-রিফ বিডি জালাল উদ্দিন ইউসুফ, সিলেট চেম্বারের সদস্য শমসের জামাল, মাহবুবুল হাফিজ চৌধুরী মসফিক প্রমুখ। 

ছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, বিনিয়োগকারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সিলেট চেম্বারের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।