SylhetNews24.com

কে সেই মন্ত্রী ? যার কারনে শেখ হাসিনার কপালে ক্ষতচিহ্ন !

সিলেটনিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ১১:৪৮ এএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৬ শুক্রবার

গণভবনে নারায়ণগঞ্জের নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতির আলাপচারিতায় উঠে আসা একটি মন্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পর এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

একটি সংবাদপত্রে ছাপা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যার কারণে তার কপালে সেলাই দিতে হয়েছে, দেশের স্বার্থে তাকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়েছেন।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে বহু মানুষ প্রশ্ন রেখেছেন, কে এই মন্ত্রী? কিন্তু জবাব দেয়ার কেউ নেই। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মুখেও কুলুপ। যোগাযোগ করা হলে তাদের একটি বড় অংশই জানিয়েছেন, এ নিয়ে কথা বলবেন না। কেউ কেউ কথা বললেও একেকজন একেক কথা জানিয়েছেন। তাদের সবাই আবার নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন।

ওই সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানকে মেয়র পদে সেলিনা হায়াত আইভীর পক্ষে কাজ করতে বলেন।  জবাবে শামীম ওসমান বলেন, এটা তার পক্ষে কীভাবে সম্ভব। তার দাবি, আইভী তার পরিবারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। এমনকি মায়ের কবর নিয়েও বাজে মন্তব্য করেছেন। এগুলোও তিনি মুখ বুঁজে সহ্য করেছেন। কিন্তু আইভী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন অভিযোগ করে শামীম ওসমান বলেন, ‘যখন আপনাকে উদ্দেশ করে বিরূপ মন্তব্য করেন তখন আমি স্থির থাকতে পারি না। কারণ আমি আসলে হাসিনা লীগ করি।’

শামীম ওসমানের বক্তব্য শেষ হলে প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেন, তুমি মোট ৪১ মিনিট কথা বলেছ। তোমার দীর্ঘ বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছি।

তুমি জেনে রাখ, আমি নীলকণ্ঠ। নীলকণ্ঠর মতোই বিষ পান করেও তা হজম করতে পারি। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তার কপালের ওপর থেকে চুল সরিয়ে ক্ষতচিহ্ন দেখিয়ে বলেন, আমার কপালের এ জায়গাটায় এখনও সেলাইয়ের দাগ আছে। কিন্তু তোমরা জান না এ সেলাইয়ের দাগ যার কারণে পড়েছিল তাকেও আমি বর্তমান মন্ত্রিসভায় রেখেছি।

কারণ আমি ব্যক্তিগত লাভের জন্য রাজনীতি করি না। আমি দেশের মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছি। যেটা করেছিলেন আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।’

প্রধানমন্ত্রীর এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের সমর্থক, রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তি এবং উৎসুক বহু মানুষ সেই মন্ত্রীর পরিচয় প্রকাশের অনুরোধ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। পরিচিত গণমাধ্যম কর্মীদের সাথেও যোগাযোগ করছেন কেউ কেউ।  

মিঠু মীর নামে একজন তার ফেইসবুকে লিখেছেন, ‘আমরা আপাকে নীলকণ্ঠ হিসেবে দেখতে চাই না। মোশতাকদের ক্ষমা নয়। কঠিন শাস্তি দিতে হবে।

ড্রিমলেস ফয়সাল নামে একজন লিখেছেন, ‘কাটা দাগটি কার জন্য হয়েছিল?

সাংবাদিক ফারদিন ফেরদৌস লিখেছেন, ‘নীলকন্ঠীর কপাল কাটা মন্ত্রী সাপ কেমন আছ গো তুমি...?’। আর এই স্ট্যাস্টসে নাফ খান নামে একজন লিখেছেন, ‘মন্ত্রীসাপ আর ইনশাল্লাহ খোলস বদলাতে পারবে না।’

আরেক সাংবাদিক শাহীন রহমান লিখেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্লিজ ওই নেতার নাম বলুন। যার কারণে আপনার কপালে দাগ!’।

দুটি ঘটনার কথা বলছেন আওয়ামী লীগ নেতারা

বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা হয়েছে ঢাকাটাইমসের। তবে তারাও সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে পারেননি। তবে দুটি ঘটনাকে ইঙ্গিত করেছেন তিন জন নেতা। ঘটনা দুইটিই ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি দেশে আসার বছর দুয়েকের মধ্যেই ঘটেছে বলে তাঁরা নিশ্চিত করেছেন।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর তিনজন সদস্য ঢাকাটাইমসকে জানান, ৮১ সাল আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দেশে আসার পর নেত্রী দলকে গতিশীল করতে বিভিন্ন জেলা সফরে করেন। তখন ময়মনসিংহ বিভাগের একটি জেলায় একটি ঘটনা ঘটে। তখন এক পর্যায়ে একটি ঢিল গিয়ে লাগে শেখ হাসিনার কপালে। ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত দুই নেতা পরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভায় স্থান পান। তারা অবশ্য এখন বেঁচে নেই।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর আরেক নেতা জানান, ৮১ সালের পরপরই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরেও একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। তখনও শেখ হাসিনার কপালে আঘাত লেগেছিল। যিনি এই ঘটনার জন্য দায়ী ছিলেন তিনি ৯৬ সালের পাশাপাশি বর্তমান মন্ত্রিসভাতেও আছেন।

ওই নেতা যার কথা বলেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত। তবে ওই নেতা এই মন্ত্রীর নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করায় তার সঙ্গেও যোগাযোগ করেনি ঢাকাটাইমস।