SylhetNews24.com

ছাতকের প্রাথমিক শিা ব্যবস্থা বহুমূখী সমস্যায় জর্জরিত

ছাতক প্রতিনিধি

সিলেটনিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ১১:৩৫ এএম, ১৭ মে ২০১১ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৪:১৭ এএম, ২০ মে ২০১১ শুক্রবার

শিল্প নগরী ছাতক উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা এখন বহুমূখী সমস্যায় জর্জরিত। বেশীরভাগ বিদ্যালয় গুলোতে বৈদ্যুতিক সংযোগ না থাকায় প্রচন্ড গরমে বিদ্যালয় বিমূখ হয়ে পড়ছে অনেক ক্ষুদে শিক্ষার্থী।

এছাড়া কয়েকটি বিদ্যালয়ে রয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও টয়লেটের সমস্যা। ভবন ও শিক সংকটে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায়ও ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিার্থী ও শিকদের প্রতিনিয়তই নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। 

উপজোলার ১৩টি ইউনিয়নের মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৭৫টি। এর মধ্যে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১২২টি, রেজিষ্ট্রার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৪১টি ও কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১২টি। এ উপজেলায় মোট শিশু সংখ্যা ৬৪ হাজার ৭শ’ ৯১ জন। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে সিংচাপইড় ও জিয়াপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অধিক ঝুকিপূর্ণ। বেশীর ভাগ বিদ্যালয়ে আসবাবপত্রের অভাবে শিার্থীরা মাটিতে চাটাই বিছিয়ে লেখাপড়া করতে হচ্ছে।

রামপর, চাঁনপুর, পুরান সিংচাপইড়, কাইতকোণা, বুরাইয়া, মোহাম্মদপুর, আইনাকান্দি ও ভাতগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। সহকারী প্রাথমিক শিকের পদ শূন্য রয়েছে ৩১টি। ২/৩ জন শিক দিয়ে প্রাথমিক দ্যিালয়ের পাঠদান চলছে এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যাও কম নয়।

এদিকে উপজেলার প্রাথমিক শিা অফিসে সহকারী শিা কমৃকর্তার ৭টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৩জন। অফিস সহকারী পদের ৩টির মধ্যে ২টি পদ শূন্য রয়েছে। ফলে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালাতে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সংশিষ্ট কর্তৃপরে বরাবরে একাধিক বার আবেদন করেও কোন সুফল পাওয়া যায়নি। পূরো উপজেলায় তুলনামূলক হারে বিদ্যালয়ের সংখ্যা কম থাকায় ইতিমধ্যে ১৪টি গ্রামে নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য গত ২৩ মার্চ প্রাথমিক শিা অধিদপ্তরে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। গ্রাম গুলো হচ্ছে রংপুর, গাংপার নোয়াকোর্ট, ফুরকান নগর, এলঙ্গি, কহলা, পূর্ব শহিদপুর, কটালপুর, রুক্কা, কুপিয়া, গৌরনগর, মদুকোনি, পাগনার পাড়, ঝাওয়া নৌকাকান্দি ও পৌর এলাকার মোগলপাড়া। 

উপজেলা প্রাথমিক শিা কর্মকর্তা আলী আহসান বলেন, পদোন্নতি বন্ধ থাকায় ৮টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিকের শূন্যপদ পূরণ করতে বিলম্ব হচ্ছে। শিার মান বাড়াতে পর্যাপ্ত শিক নিয়োগের বিকল্প নেই। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত কুমার রায় বলেন, সমস্যায় জর্জরিত বিদ্যালয় গুলোর ও শিক স্বল্পতার বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। 

উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, শিার হার বাড়াতে শিা বিষয়ক সভায় নানা পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিদ্যালয় গুলোর সমস্যা দূর করা করা না গেলে শিার মানও বাড়ানো সম্ভব নয়।