ঢাকা, ০৯ আগস্ট, ২০২২
SylhetNews24.com
শিরোনাম:

যাদুকাটা নদী পথে আমদানি-রপ্তানিতে বর্যাতেই ৭`শ কোটি টাকা রাজস্ব

বিশেষ সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ৯ জানুয়ারি ২০২২  

সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদী পথে পণ্য আমদানি-রপ্তানির রুটটি দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ থাকায় সরকার কয়েকশ'কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। 

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলেন, এই রুটে আবার আমদানি রপ্তানির কার্যক্রম চালু করা হলে শুধু বর্ষা মৌসুমের সাত মাস কয়লা ও পাথর আমদানি করে ৭ শতাধিক কোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব। 

তারা বলেন, অন্তত ৫০ সহস্রাধিক শ্রমিকেরও কর্মসংস্থান হবে। এলাকার অর্থনৈতিক চেহারা পালটে যাবে। সীমান্ত এলাকায় অবৈধ পাথর উত্তোলন, মাদক চোরাচালানিসহ নানা অপরাধ কর্ম হ্রাস পাবে। 

এদিকে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান গত বছর ১৫ নভেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত এক পত্রে লাউড়ের গড় বাজারে যাদুকাটা নদীপথ দিয়ে আমাদানি-রপ্তানির পয়েন্ট স্থাপনের সুপারিশ করে বলেছেন, ‘যাদুকাটা নদী পথে পাথর ও কয়লা আমদানি করা গেলে সরকারের ব্যাপক রাজস্ব আয় বেড়ে যাবে।

সূত্র মতে, যাদুকাটা নদীপথটি আমদানি-রপ্তানির জন্য ১৯৭১ সাল থেকে সরকারি এসআরও ভুক্ত। ১৯৮৯-৯১ পর্যন্ত এই নদী দিয়ে ভারত থেকে কয়লা আমদানি হয়। পরে অজ্ঞাত কারণে সেটি চলে যায় ১৩ কিলোমিটার দূরে বড় ছড়ায় এবং ৭ কিলোমিটার দূরে বাগলী ও চারাগাওয়ে। 

এই তিনটি স্টেশনই বড় ছড়া শুল্ক স্টেশনের অধীনে। কিন্তু ভারতের মেঘালয় থেকে ট্রাকে করে ঐ তিনটি স্টেশন দিয়ে যে পরিমাণ কয়লা, পাথর আসে তা বাংলাদেশের চাহিদার তুলনায় খুবই কম। তাছাড়া মেঘালয়ে ঐ পথে রাস্তাগুলো সরু হওয়ায় প্রতিনিয়ত জ্যাম লেগে থেকে এবং আমদানিতে ব্যাঘাত ঘটে। ফলে বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব হ্রাস পায়। কর্মসংস্থানেও সংকট সৃষ্টি হয়। 

সুনামগঞ্জের সাবেক এমপি নজির হোসেন যাদুকাটা নদী পথে পণ্য আমদানি-রপ্তানির রুটটি চালু করার ব্যাপারে দীর্ঘদিন থেকে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, ছাতক শুল্ক স্টেশনের অধীন চেলা ও ইছামতির আলোকে নৌকাযোগে পাথর, কয়লা চুনাপাথর আমদানি সম্ভব। যাদুকাটা নদীর পাশে একটি শুল্ক স্টেশন স্থাপন হলে অথবা বড়ছড়া শুল্ক স্টেশনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করলে এলাকাটি হয়ে উঠবে ব্যবসাবান্ধব। 
মাত্র পাঁচ দিনে নৌপথে কম খরচে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাথর, চুনাপাথর, কয়লাসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করা যাবে। 

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এখানে একটি নৌবন্দর স্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র জানায় গত ২০০৭-২০০৮ সাল থেকে ২০১৯-২০২০ সাল পর্যন্ত ১৩ বছরে ঐ তিনটি শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব আদায়ের চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায় ২০১৬-১৭ সালে সর্বোচ্চ ৮৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়। কিন্তু এর পর থেকে আয় কমে ২০১৯-২০২০ সালে সরকারি রাজস্ব ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকায় নেমে আসে। 

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশ বর্তমানে উন্নয়নের মহাসড়কে। ব্যাপক অবকাঠামোর কাজ চলছে। সরকারও ঢাকা-সিলেট-তামাবিল ছয় লেন মহাসড়ক, সিলেট বাদাঘাট-বিমানবন্দর বাইপাস, সুনামগঞ্জের হাওরের ওপর ১১ কিলিমিটার উড়াল সেতু নির্মাণসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশে কোটি কোটি টন পাথর, কয়লা, চুনাপাথরে পাথরে চাহিদা রয়েছে। যা ভিয়েতনাম, দুবাই, ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করে চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। 

সিলেট ও সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দ মনে করেন, ‘যাদুকাটা নদী পথটি পাথর, কয়লা, চুনাপাথর আমদানির উত্তম নৌপথ। 

কাস্টমস কমিশনার বলেন, যাদুকাটা নদী রুট দিয়ে কয়লা, পাথর ইত্যাদি আমদানির লক্ষ্যে আগামী ১৭ জানুয়ারি কাস্টমস বিভাগ এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জের পরিদর্শক টিম এলাকাটি পরিদর্শন করবেন। ঐ রুটে পণ্য আমদানির সম্ভাব্যতা নিরূপণ সাপেক্ষে তিন মাসের জন্য একটি পাইলট প্রজেক্ট গ্রহণ করা যেতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন
বাণিজ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত