ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
ব্রেকিং নিউজ--বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

৪২ বছর পর মেয়েকে নিয়ে ঘরে ফিরলেন মুক্তিযোদ্ধা মফিজুল!

প্রকাশিত: ৬ জানুয়ারি ২০১৬  

সচরাচর এ দৃশ্যগুলো সিনেমায় দেখা যায়। তবে বাস্তবে এর দেখা মিললো চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য- স্বাধীনতাত্তোর স্মৃতিশক্তি হারিয়ে এক মুক্তিযোদ্ধা ৪২ বছর পর তার নিজ বাড়ির ঠিকানা ফিরে পেলেন।

এ নিয়ে গত ৩দিন ধরে ওই মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে শত শত মানুষ ভিড় করছেন।

জানা গেছে, ফরিদগঞ্জ উপজেলাধীন ১নং বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের সেকদি গ্রামের মিজি বাড়ির মৃত সুলতান মিজির ছেলে মুক্তিযোদ্ধা মফিজুল হক এলাকায় স্বাধীনতা যুদ্ধে ১৯৭১ সালে ভারতে ত্রিপুরা রাজ্যের মেঘালয়ে ২মাস সেক্টর কমান্ডার মেজর হায়দার আলীর নেতৃত্বে ভারতীয় সেনা সদস্যের সঙ্গে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

অতঃপর ভারত থেকে প্রশিক্ষণ শেষে তৎকালীন আরেক কমান্ডার জহিরুল পাঠানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে আসেন। যুদ্ধকালীন গ্রুপ কমান্ডার ফরিদগঞ্জ কড়ৈতলীর গ্রামের আবুল হোসেনের নেতৃত্বে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে ফরিদগঞ্জের গাজীপুর, কড়ৈতলী, চাঁদপুর সদরের মহামায়াসহ বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

যুদ্ধ শেষে  তিনি ১৯৭৩ সালের শেষের দিকে অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় পড়ে তার আরেক সহযোদ্ধা ফরিদগঞ্জের কেরোয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহানের হাত ধরে খুলনায় পাড়ি জমান। সেই সময় থেকে তিনি কিছুটা স্মৃতি শক্তি হারাতে থাকেন। সেখানে মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহানের বড় ভাই রুহুল আমিনের সাথে খুলনা সদরের সাউথ সেন্টার রোডের পাইউনিয়ার কলেজের সামনে বাসায় ওঠেন এবং জীবিকার তাগিদে তিনি খুলনার মংলা বন্দরের শিপিং লাইনের কর্মরত ছিলেন।

MOFIZUL

১৯৮২ সালে মুক্তিযোদ্ধা মফিজুল হকের সঙ্গে তার বড় ভাই তাজুল ইসলাম কাজলের দেখা হয় খুলনা নিউ মার্কেট এলাকায় । এরপর থেকে তার সঙ্গে গ্রামের ও পরিবারের লোকজনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তিনি ১৯৮২ সালে খুলনার বাগের হাটে সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে বিবাহ বন্ধনের আবদ্ধ হন। ১৯৮৯ সালে তিনি মাফিয়া হক মৌসুমী নামে একটি কন্যা সন্তানের জনক হন। ১৯৯২ সালে পুনরায় সন্তান প্রসবকালে তার স্ত্রী মারা যান।

স্ত্রীর মৃত্যুর পর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুল হক মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পুরোপরি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পূর্বের স্মৃতি হারিয়ে ফেলেন। গত ১ দশক ধরে তার একমাত্র মেয়ে মাফিয়া হক মৌসুমী ধীরে ধীরে বড় হওয়ার পর মাঝে মধ্যে তার স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলা পিতা মফিজুল হকের সাথে স্মৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা এবং তার কাছ থেকে তার পৈত্রিক নিবাসের ঠিকানা জানার চেষ্টা করতেন।

এরই মধ্যে মফিজুল হক ধীরে ধীরে স্মৃতিশক্তি ফিরে ফেলে মৌসুমী তার পৈত্রিক নিবাসের ঠিকানা বাবার কাছ থেকে জানতে পারেন। অতঃপর গত ৫ জানুয়ারি ঢাকা হয়ে চাঁদপুরে লঞ্চে গিয়ে বাবার পৈত্রিক নিবাস গ্রামের বাড়ি সেকদি মিজি বাড়িতে ওঠেন।

৪২ বছর আগে এলাকা থেকে চলে যাওয়া সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুল হককে দেখতে তার সহযোদ্ধা মো. সফি উল্যা মুন্সিসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা যান। এসময় মুক্তিযোদ্ধা সফি উল্যা মুন্সি যুদ্ধকালীন সময়ে মফিজুল হকসহ নিজের একটি দুর্লব ছবি মফিজুলের একমাত্র মেয়ে মাফিয়া হক মৌসুমীর কাছে হস্তান্তর করেন। মাফিয়া হক মৌসুমী বর্তমানে খুলনা আজম খাঁন সরকারি কমার্স কলেজে ডিগ্রি শেষ বর্ষে অধ্যায়নরত আছেন।