ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
ব্রেকিং নিউজ--বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

নৃশংসতার শিকার সেই খাদিজা এবার ডিগ্রি পরীক্ষা দিয়েছেন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল ২০১৯  

দেশব্যাপি আলোচিত চাপাতি বদরুলের  নৃশংসতা ও নিষ্ঠুরতা শিকার সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী  সেই  খাদিজা আক্তার নার্গিস (২৫) ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।

দুই মাস আগে তিনি ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন । ফলাফল ভালো হবে বলে আশা করছেন।

দুর্বৃত্ত বদরুলের এলোপাতারি চাপতির কুপে ক্ষত বিক্ষত খাদিজা বর্তমানে আর সব মানুষের মতো স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। শারীরিক ও মানসিক সব দিক থেকেই সুস্থ তিনি। পড়াশোনায় মনযোগী হয়েছেন, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর পরিবারের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানোসহ সবকিছুই নিজের মতো করে করতে পারছেন তিনি। তবে সব পদক্ষেপ চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়েই করছেন।

সোমবার  গণমাধ্যমকে এমনটাই জানিয়েছেন খাদিজার চাচা আব্দুল কুদ্দুস। তিনি বলেন, ‘জীবনযুদ্ধে জয়ী হয়েছে আমাদের মেয়ে। সে এখন পুরোপুরি সুস্থ ও স্বাভাবিক। পড়াশোনা থেকে শুরু করে সব কিছুই সে নিজের মতো করে করতে পারছে।

প্রায় দুই মাস আগে খাদিজা ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষাও দিয়েছে। আমরা আশাবাদী, সে পরীক্ষায় ভালো করবে। আমরা আবার আমাদের আগের মেয়েকে ফিরে পেয়েছি।’

খাদিজার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার পরিবর্তনের কথা শুনে তার প্রবাসী বাবা মাসুক মিয়া ও তার বড় ভাই শাহীন আহমদও খুব খুশি। তারা প্রতিদিন খাদিজার সঙ্গে কথা বলেন বলে জানান আব্দুল কুদ্দুস। তবে খাদিজার চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ীই আমরা তার দেখভাল করছি। তার চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। তার এমন উন্নতি পরিলক্ষিত। যেকারণে নিয়মের ভেতরেই চলতে হচ্ছে তাকে। অবসরে পরিবারকে ও বন্ধুদের সময় দেয় খাদিজা।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সিলেটের এমসি কলেজের পুকুরপাড়ে তাকে উন্মত্তের মতো কুপিয়েছিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম।

বদরুল অতর্কিত চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ক্ষত বিক্ষত করে খাদিজাকে। দূর থেকে অনেকেই সেটির ভিডিও করেছিল। কিন্তু কেউ বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। এরপর দীর্ঘদিন খাদিজা ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ছিল জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

সেই নৃশংস দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে খাদিজাকে হত্যার চেষ্টাকারী বদরুলকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবীতে দেশব্যাপী তোলপাড় হয়।

এ ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানায় বদরুলকে প্রধান আসামী করে মামলা দায়ের করেন খাদিজার চাচা আব্দুল কুদ্দুস।

২০১৭ সালের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আসামী বদরুল আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।

রায়ের সময় বিচারক বলেছিলেন, ‘খাদিজা অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া নারী। আমার বিশ্বাস, আসামীর ওপর সর্বোচ্চ শাস্তি আরোপের মাধ্যমে প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হাজার হাজার বদরুল ভবিষ্যতে এমন কাণ্ড থেকে বিরত থাকবে এবং আমাদের নারী সমাজ সুরক্ষিত হবে।’

রায়ে আদালত আরও বলেন, ‘প্রেমের বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি। মানুষের মধ্যে প্রেম-ভালোবাসা থাকতেই পারে। কিন্তু, তার জন্য এ ধরনের নৃশংসতা, নিষ্ঠুরতা ও ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড কাম্য হতে পারে না।’

আরও পড়ুন
এক্সক্লুসিভ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত