ঢাকা, ২৪ নভেম্বর, ২০২০
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
রাসূল (সা.) কে ব্যঙ্গ করে ফ্রান্স মুসলমানদের কলিজায় আগুন লাগিয়েছে সেনাপ্রধানকে প্রধানমন্ত্রীর ‘সেনাবাহিনী পদক’ প্রদান প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ: দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ সিলেট নগরীর পাঠানটুলায় বাসা থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার, তরুণী আটক

৫ নভেম্বরের মধ্যে এসআই আকবরকে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২০  

সিলেট নগরীর বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ‘পুলিশি নির্যাতনে’ রায়হান আহমদকে (৩৪) হত্যার ঘটনার ১৭ দিন অতিবাহিত হলেও আজও প্রধান অভিযুক্ত বরখাস্তকৃত এসআই আকবর হোসেন ভুইয়াকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

আকবর গ্রেফতার না হওয়া সর্বত্র নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এতে নিহত রায়হানের পরিবার ও সিলেট নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। আবার আকবর গ্রেফতার না হওয়ায় পুলিশের ইমেজ সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

অন্যদিকে, রায়হান হত্যা মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ে হস্তান্তর হলে তদন্ত কর্মকর্তারা নিয়মিত রায়হানের পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। কর্মকর্তারা জানান, তারা পলাতক আকবরকে গ্রেফতারের জোর চেষ্টায় আছেন।

৫ নভেম্বরে মধ্যে আকবর গ্রেফতার না হলে কঠোর কর্মসূচি

এদিকে, সিলেট জেলা ও মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের মঙ্গলবারের মানববন্ধন কর্মসূচি স্থগিত করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেছেন, আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে এসআই আকবরকে গ্রেফতার করা না হলে সিলেটবাসী সহ সারা দেশের মানুষকে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি শেখ মখন মিয়া চেয়ারম্যান ও মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, রায়হান হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত বহিষ্কৃত এসআই আকবরকে গ্রেপ্তারের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হলো। অন্যথায় আমরা কঠোর কর্মসূচি দেব।

আকবরের গ্রেফতার দাবি সিলেটবাসীর

পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান হত্যার পর দুই পুলিশ সদস্যসহ আটক রয়েছেন তিনজন। কিন্তু মূল হোতা এসআই আকবর এখনো পলাতক। 

তবে কোনো কোনো মহল আশা করছেন নতুন পুলিশ কমিশনার যোগ দেয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। অনেকেই বলেছেন, রায়হান হত্যা ঘটনায় উত্তাল সিলেটকে শান্ত করতে এখন দাবি একটাই, আকবর গ্রেফতার। আকবরকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত অনেকটাই অনড় নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম।

গত রবিবার বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনেই তিনি কাফনের কাপড় মাথায় দিয়ে আমরণ অনশনে নেমেছিলেন। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। পরে সিসিক মেয়র তাদের অনশন ভাঙান।

আকবর কিভাবে পালালেন ?

রায়হানের মৃত্যু ও আকবর পলায়নের বিষয়টি নিয়ে সিলেট পুলিশ বর্তমানে বড় বেকায়দায়। রায়হান পুলিশী নির্যাতনে নিহত হয় ১১ অক্টোবর সকালে। পরদিন সোমবার বিকাল পর্যন্ত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতেই এসআই আকবর ছিলেন। 

নির্যাতনে রায়হানকে হত্যার বিষয়টি আলোচনায় আসতে থাকলে তিনি ফাঁড়ির সিসি ক্যামেরার হার্ড ডিস্ক পাল্টিয়ে নেন। পরে গা ঢাকা দেন। প্রশ্ন হচ্ছে আকবর কিভাবে পালালেন। অবশ্য আকবরকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে বরখাস্ত করা হয় এই ফাঁড়ির এসআই হাসান উদ্দিনকে। তিনিও নজরদারিতে রয়েছেন বলে সূত্র জানায়। 

অভিযুক্ত অন্য সদস্য পুলিশ লাইন্সেই রয়েছেন। এএসআই আশেক এলাহি, কুতুব উদ্দিন, তৌহিদ মিয়া ও সজিব এখন পুলিশ লাইন্সে বিশেষ নজরদারিতে রয়েছেন বলে জানান এসএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের।

টিটু চন্দ্র দাসকে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে

রায়হান আহমদকে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় বরখাস্ত পুলিশ কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। রবিবার পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য টিটু চন্দ্র দাসকে হাজির করা হয়। 

তবে আদালতে আসার পর তিনি জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তাকে দ্বিতীয় দফায় পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানানো হয়। এ পর্যন্ত দুজন সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কনস্টেবলকে গ্রেফতার করা হয়।

টিটু ছাড়াও আরেক আসামি হারুনকে গত শনিবার রাতে পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পিবিআই। রায়হানকে আটকের আগে ছিনতাইয়ের অভিযোগকারী শেখ সাইদুর রহমানকে ৫৪ ধারায় আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

আরও পড়ুন
এক্সক্লুসিভ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত