ঢাকা, ২০ জুলাই, ২০১৯
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
ব্রেকিং নিউজ--বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

১৫ বছর পর সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের মাঠে গড়িয়েছে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবলের

প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০১৫  

জাকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সন্ধ্যা ৫ টায় অবশেষে মাঠে গড়িয়েছে বহু প্রতীক্ষিত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবলের ।

উদ্বোধনী ম্যাচে বর্তমানে মাঠে লড়াই করছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া ফুটবল দল ।
এর আগে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবলের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে।


প্রথমে বাউল সাধক আব্দুল করিমের গান দিয়ে শুরু হয় ।এর পর মনিপুরী নৃত্য শেষ হওয়া পর গান পরিবেশন করছেন শুভ্র দেব । তিনি তার জনপ্রিয় গান `গোল গোল গোল` প্রথমে পরিবেশন করেন । এর জনপ্রিয় একটি সিলেটী গান ও পরিবেশন করেন তিনি ।শুভ্র দেব মঞ্চ ত্যাগ করার পর মঞ্চ মাতান মিলা ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্ব শেষ হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ।

সিলেট জেলা স্টেডিয়াম চত্বরে হাজারো মানুষের ভিড়। বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীর ছবি দিয়ে টাঙানো নানা ব্যানার দেখে পথচারীরা একটু হলেও থমকে দাঁড়াচ্ছেন। অবিরাম মাইকিং করে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে উপলক্ষটা। হ্যাঁ, বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টকে ঘিরে সিলেট নগরে এখন সাজ সাজ রব।
এই ম্যাচ দিয়েই দীর্ঘ ১৫ বছর পর নিজেদের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের খরা কাটাচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

ছয় দলের ১১ দিনের টুর্নামেন্টের খরচ ধরা হয়েছে ১৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশের ফুটবলে এটিই সবচেয়ে বড় বাজেটের টুর্নামেন্ট, যদিও দলসংখ্যা মাত্র ৬।

স্বাগতিক বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার জাতীয় দল খেলছে। বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠিয়েছে। অন্তত দুটি জাতীয় দলের অংশগ্রহণের শর্ত পূরণ হওয়ায় এই টুর্নামেন্ট পেয়েছে ফিফার প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্টের মর্যাদা।

স্মরণযোগ্য যে বঙ্গবন্ধু কাপ সর্বশেষ হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। সেটি ছিল দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু কাপ। এটির সূচনা ১৯৯৬ সালে। তার আগে আশির দশকে বেশ কয়েকটি প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপ আয়োজন করে বাংলাদেশ। সত্তরের দশকে এ দেশের ফুটবলপ্রেমী জনতার স্মৃতিতে ভাস্বর আগাখান গোল্ডকাপ।

বাফুফে ফিরিয়ে আনতে চায় পুরোনো দিন। তাই এবারের বঙ্গবন্ধু কাপ নানা দিক থেকেই বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। মাঠে ও মাঠের বাইরে বড় এক চ্যালেঞ্জও। দেশের ফুটবল অগ্রগতির চাকা সম্প্রতি আবার ঘুরতে শুরু করেছে। সেটিকে গতিশীল করতে পারে বঙ্গবন্ধু কাপের সাফল্য।

সাফল্যের খোঁজেই এই প্রথম সিলেটের মতো বিভাগীয় শহরকে ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়া। গত বছর আগস্টের শেষ দিকে এখানেই বাংলাদেশ-নেপাল প্রীতি ম্যাচে হাজার হাজার দর্শক খেলা দেখতে মাঠে ঢুকে পড়েছিলেন ফটক ভেঙে। গ্যালারিতে তিল পড়ার জায়গা ছিল না সেদিন।

আয়োজকদের আশা, এবারও দর্শক আগ্রহ গোটা আয়োজনকে নিয়ে যাবে অন্য উচ্চতায়। সেই সম্ভাবনাও বেশ জোরালো। গ্রুপপর্বের ছয়টি ম্যাচের তিনটি হবে সিলেটে। আজ, কাল ও পরশু। ১-৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনটি গ্রুপ ম্যাচ। ৫ ফেব্রুয়ারি সিলেটেই প্রথম সেমিফাইনাল।

নেপাল ম্যাচের অভিজ্ঞতা থেকে এবার আয়োজকেরা সতর্ক। স্থানীয় আয়োজক জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (ডিএফএ) সহায়তা করছে স্থানীয় প্রশাসন। নিরাপত্তাব্যবস্থা খুব জোরদার। শুধু টিকিটধারীরাই স্টেডিয়াম চত্বরে প্রবেশ করতে পারবে।

স্টেডিয়ামের আসন আসলে কত, তার নির্দিষ্ট তথ্য নেই। কেউ বলেন ১৬ হাজার, কেউ ১৮, কেউবা ২০ হাজার। নেপাল ম্যাচে ২৫ হাজারেরও বেশি টিকিট ছেড়ে সমস্যা ডেকে এনেছিলেন আয়োজকেরা।

তবে এবার বলা হচ্ছে, টিকিট ১৫ হাজারের বেশি ছাড়া হচ্ছে না। সেই ১৫ হাজার টিকিটও শেষ বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। কিন্তু কাল বিকেলেও স্টেডিয়াম ফটকের বুথে টিকিট বিক্রি হতে দেখা গেছে।
স্টেডিয়ামে কিছু সংস্কারকাজ হয়েছে, ফ্লাডলাইটের আলো এখন ১২০০ লাক্সের ওপরে। আগে ছিল ৭-৮ শ।

কাচঘেরা নতুন ভিভিআইপি বক্স করা হয়েছে। কাঠের ছোট্ট দুটি গ্যালারিও হয়েছে। প্রেসবক্স এখন মাঠের মাঝামাঝি ভিভিআইপি বক্সের ওপর, যেটি আগে ছিল মাঠের এক কোণের পেছনে। বসানো হয়েছে নতুন গোলপোস্ট, নতুন টেন্ট। আধুনিক সম্প্রচারের ব্যবস্থাও আছে।

আরও পড়ুন
বাণিজ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত