ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
২৫ জনকে আসামি করে আবরার হত্যার চার্জশিট:অভিযুক্তরা উচ্ছৃঙ্খল ছিল

১৪ বছর পর সিলেট জেলা ও মহানগর আ`লীগে সম্মেলন ৫ ডিসেম্বর

খালেদ আহমদ

প্রকাশিত: ২ ডিসেম্বর ২০১৯  

দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর পর  সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগে সম্মেলনকে ঘিরে নেতা কর্মিদের মধ্যে এখন তাই উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। চতুর্দিকে সাজ সাজ রব।

''অমূক ভাইকে সভাপতি পদে দেখতে চাই-তমূখ ভাইকে সেক্রেটারী চাই'' ছবি সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়ক মোড়।অন্যদিকে পদপ্রত্যাশী নেতাদের এখন ঘুম হারাম হওয়ার অবস্থা। জেলা ও মহানগর শাখায় শীর্ষ দুটি পদ পেতে দুই ডজনেরও বেশি নেতা এখন দৌড়ঝাঁপে  ব্যস্হ। পদপ্রত্যাশী এসব নেতারা একদিকে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন, অন্যদিকে কাউন্সিলরদের সাথেও যোগাযোগ রাখছেন।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর পর আগামী ৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন নগরীর ঐতিহাসিক আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

সিলেট আওয়ামী লীগে সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০০৫ সালে। এরপর এবার হচ্ছে সম্মেলন। তবে মধ্যখানে ২০১১ সালে সম্মেলন ছাড়াই উভয় শাখায় কমিটি গঠিত হয়। তিন বছরের ওই কমিটি দিয়ে পার হয়েছে আট বছর। সম্প্রতি কেন্দ্রের নির্দেশে প্রতীক্ষিত সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
জানা গেছে, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১৫ নেতা আগ্রহী। সভাপতি পদে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফুর রহমান, বর্তমান সহসভাপতি ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি, সহসভাপতি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি, সাবেক এমপি ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ,  বিশ্বনাথের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুহবিুর রহমান ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদের নাম আলোচিত হচ্ছে। তন্মধ্যে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফুর রহমান,সাধারন সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও  মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি রয়েছেন মূল আলোচনায়।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সহসভাপতি এডভোকেট শাহ ফরিদ আহমদ, বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, এডভোকেট রুহুল আনাম মিন্টু, এডভোকেট  নিজাম উদ্দিন ও অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, কোষাধ্যক্ষ ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট শাহ মোশাহিদ আলী ও মোহাম্মদ আলী দুলাল, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক রণজিৎ সরকার, উপ-দফতর সম্পাদক জগলু চৌধুরীকে ঘিরে চলছে আলোচনা। তবে নাসির উদ্দিন, অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, এডভোকেট নিজাম উদ্দিন ও বেসরকারী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান ড. তৌফিক রহমান চৌধুরীর নাম ঘিরে আছে জোর গুঞ্জন।

এ প্রসঙ্গে জেলা সভপতি পদ প্রত্যাশি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সিলেট-২ আসনের সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীরা আমাকে সভাপতি পদে দেখতে আগ্রহী, কাউন্সিলররা আমার সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছেন। তবে নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’
সিলেট-৩ আসনের এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী বলেন, ‘নেত্রী যদি আমাকে দায়িত্ব দেন, আমি অবশ্যই তা যথাযথভাবে পালন করবো।’
মহানগর আওয়ামী লীগ: এদিকে,সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, সহসভাপতি এডভোকেট মফুর আলী, এডভোকেট রাজ উদ্দিন আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালিক এবং যুগ্ম সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার আলোয়ারের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে কামরানকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের পর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এক্ষেত্রে নেতাকর্মীদের ধারণা, আসাদই এগিয়ে রয়েছেন মহানগর সভাপতির দায়িত্ব পেতে।

মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন ও বিজিত চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ও এটিএম হাসান জেবুল, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তপন মিত্র, বন ও পরিবেশ সম্পাদক জগদীশ দাস, সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রিন্স সদরুজ্জামান চৌধুরী এবং সদস্য সিটি কাউন্সিলার সালেহ আহমদ সেলিম আলোচনায় আছেন। তবে নেতাকর্মীদের মধ্যে জাকির, বিজিত, নাদেল ও আজাদের নামই আলোচিত হচ্ছে বেশি।
এ প্রসঙ্গে মহানগর শাখার বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতি হচ্ছে গণমানুষের জন্য। এখানে পদপদবী মুখ্য নয়। তারপরও দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা আমাকে সভাপতি পদে দেখতে চাইছেন। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুকন্যা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই সবাইকে মানতে হবে।’


মহানগর শাখার শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও ২০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ মন্তব্য করেছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ দলের কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ‘ব্যর্থ’। আর এ ‘ব্যর্থতা’ থেকে দলকে বের করে আনতেই তিনি নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করতে চান।তিনি বলেন, ‘সিলেটে দলকে সুসংগঠিত করতে নেতাকর্মীরা আমাকে সাধারণ সম্পাদক পদে চাইছেন। তবে দল আমাকে যেখানে মূল্যায়ন করবে, আমি সেখানেই দায়িত্ব নেব।’

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পদপ্রত্যাশী এসব নেতারা বর্তমানে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ছুটছেন। বিশেষ করে দলের সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদকের কাছে ধরনা দিচ্ছেন তারা। বিগত দিনে কে দলের জন্য কী করেছেন, বিভিন্ন নির্বাচনে কার কী ভূমিকা ছিল, এসব কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে তুলে ধরছেন তারা। এছাড়া সিলেটে দলের সকল শাখার কাউন্সিলরদের সাথেও পদপ্রত্যাশীরা যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। অনেকেই মনে করছেন, সম্মেলনে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে নেতৃত্ব আসতে পারে। সেজন্য কাউন্সিলরদের ভোট নিজেদের পক্ষে টানতে কৌশলী ভূমিকা নিচ্ছেন পদপ্রত্যাশী নেতারা।

আরও পড়ুন
সংগঠন সংবাদ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত