ঢাকা, ২৬ মে, ২০১৯
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
ব্রেকিং নিউজ---শ্রীলংকায় ৮টি পৃথক বোমা হামলায় নিহত বেড়ে ২০৭,কারফিউ জারি ‘সরকার বেকায়দায় নেই যে খালেদাকে প্যারোলে মুক্তি দিতে হবে’ আওয়ামী লীগ সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে: প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জে যুবক খুনের নেপথ্যে নৌ-পথে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার ৮ নুসরাত হত্যা: আ’লীগ নেতা রুহুল আমিন আটক সিলেটের ওসমানীনগরে বিধবাকে ধর্ষণের অভিযোগে মামাশ্বশুর গ্রেফতার

সৌদিতে খুন সিলেটের গোয়াইনঘাটের বশির উদ্দিনের পরিবার ব্লাড মানি পেয়েছেন ২ কোটি টাকা

প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭  

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বাসিন্দা বশির উদ্দিন। ২০১০ সালে এক সৌদি কিশোরের হাতে খুন হয়েছিলেন।

ওই খুনের বিচারের আশায় দীর্ঘদিন থেকে অপেক্ষা করে আসছিলেন তার পরিবার। এ ব্যাপারে তারা একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলাটি পরিচালনা করছিলেন প্রবাসী কর্মীদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে ৭টি বছর।

সৌদি খুনি কিশোর থেকে যুবকে পদার্পণ করেছেন। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে বশির উদ্দিনের পরিবারের। দেশটির আদালত রায় দিয়েছে তাদের পক্ষে। রায়ে ওই কিশোরের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় খুনিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়। পরে বশির উদ্দিনের পরিবারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আদালত ব্লাড মানি নির্ধারণ করে দেয়।

আদালতের দেয়া রায়ে এর পরিমাণ ২ কোটি ৯ লাখ ৮২ হাজার টাকা। সেই টাকা হাতে পেয়েছে তার পরিবার। গতকাল প্রবাসী কল্যাণ ভবনে বশির উদ্দিনের ৫ জন উত্তরাধিকারের কাছে ওই টাকার চেক হস্তান্তর করে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম শামছুন নাহার তাদের হাতে চেক তুলে দেন।

এ সময় বশিরের স্বজনরা কল্যাণ বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এই টাকা পেতে তাদের কোনো টাকাই খরচ হয়নি। বোর্ডের কর্মকর্তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তারা ক্ষতিপূরণ পেলেন। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ যাবতকালে বিদেশে ক্ষতিপূরণ বাবদ পাওয়া

সর্বোচ্চ পরিমাণ এটি। বশির উদ্দিনের পরিবার ছাড়াও এদিন কাতারে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া নারায়ণগঞ্জের রকিবের পরিবারের হাতে কোম্পানি থেকে ক্ষতিপূরণ ৪৩ লাখ টাকা তুলে দেন। ওই টাকা গ্রহণ করেন তার বৃদ্ধ পিতা রকমত আলী।

সূত্র জানায়, ২০১০ সালে ১১ই নভেম্বর সৌদি এক কিশোর দেশটিতে কর্মরত গোয়াইনঘাটের বশির উদ্দিনকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর ওই কিশোরের বিরুদ্ধে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সহযোগিতায় মামলা করেন পরিবরটি। মামলা পরিচালনা করেন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড।

দীর্ঘদিন ধরে ওই মামলাটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। মামলা পরিচালনাকারী ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিকভাবে তত্ত্বাবধান করছিলেন। গত বছর মামলার রায় হয়। রায়ে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত। এই রায়ের প্রেক্ষিতে ব্লাড মানির মাধ্যমে দণ্ড মওকুফের আবেদন জানায় খুনি।

অবশেষে ২০১৬ সালের অক্টোবরে খুনিকে ব্লাড মানি নির্ধারণ করে দেয়। আদালত রায়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ২ কোটি ৯ লাখ ৮২ হাজার টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ দেয়। ওই রায় সৌদিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠানো হয়। এরপর দূতাবাস গত ১৬ই অক্টোবর তা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডকে অবহিত করে। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড দূতাবাসের মাধ্যমে ওই টাকা আদায় করে। পরে তা ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে হাতে তুলে দেয়। বোর্ড বশির উদ্দিনের ৫ জন উত্তরাধিকারের হাতে ওই চেক তুলে দেয়। এর মধ্যে বশির উদ্দিনের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম পেয়েছেন ২৬ লাখ ২২ হাজার ৭৬১ টাকা, দুই ছেলে সাঈদ আহমেদ ও আশরাফ আহমদ প্রত্যেকে ৬১ লাখ ১৯ হাজার ৭৭৬ টাকা এবং দুই মেয়ে রুমানা আক্তার রুমি ও আরফিনা আক্তার প্রত্যেকে পেয়েছেন ৩০ লাখ ৫৯ হাজার ৮৮৮ টাকা করে। এ সময় কাতারে নিহত রকিবের বাবা রকমত আলীর হাতে ক্ষতিপূরণ পাওয়া ৪৩ লাখ ৪২ হাজার ৬৯৮ টাকার চেক তুলে দেয়া হয়। রকিব গত রমজানে পেট্রোল পাম্পে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে নিহত হয়েছিলেন। এছাড়া তিনজন প্রবাসীর সন্তানকে শিক্ষাবৃত্তির চেকও হস্তান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত