ঢাকা, ২৬ জুন, ২০১৯
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে ইইউ প্রতিনিধিদলের উদ্বেগ পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ জারদারি গ্রেফতার ৪০ লাখ ঘুষ: দুদক পরিচালক এনামুল বাসির সাময়িক বরখাস্ত ওসি মোয়াজ্জেমকে খুঁজেই পাচ্ছে না পুলিশ!

সোলেমান আলীর জীবন-সংগ্রাম

শাহ আখতারুজ্জামান, ছাতক

প্রকাশিত: ১০ মে ২০১১   আপডেট: ২০ মে ২০১১

ছাতকের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সোলেমান আলী। শারীরিক প্রতিবাদী সোলেমান আলী এ সমাজের আর দশ জনের মত স্বাভাবিক নন। তার বাম হাতের এক তৃতীয়াংশ নেই। এক সড়ক দূর্ঘটনার পর হাতের একটি অংশ কেটে ফেলা হয়। তার পরও থমকে যায়নি তার জীবন-সংগ্রাম।

তিনি কারো করুনার পাত্র হয়ে বেচে থাকতে পছন্দ করেন না। সংসারের হাল ধরেছেন এক হাত দিয়েই। শহরের মধ্যবাজারে কাঁচা মালের ব্যবসা করছেন গত ২০ বছর ধরে।

সোলেমান আলীর গ্রামের বাড়ী নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার পাড়গোপালপুরে। তিনি এক সময় ব্যবসা করতেন নিজ এলাকায়। ১৯৭৩ সালে এক সড়ক দূর্ঘটনায় বাম হাতের এক তৃতীয়াংশ কেটে ফেলা হয়।

১৯৯১ সালের নিজের এলাকার এক পুলিশ সদস্যের পরিচয়ের মাধ্যমে ছাতকে এসে ব্যবসা শুরু করেন। তখন তার ব্যবসার পুজি ছিল মাত্র ৪শ’ টাকা। বর্তমানে রাস্তার পাশে এক কাপড়ের দোকানের সামনে ৬ শ’ টাকা ভাড়া দিয়ে ফুটপাতে ব্যবসা করছেন। ১৯৮৪ সালে বিয়ে করেন নিজ  এলাকায়। ২ ছেলে আর ২ মেয়ে নিয়ে তার সংসার। জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে মোকাবেলা করে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের খরচ চালিয়ে নিচ্ছেন।

৫২ বছর বয়সের সোলেমান আলী শহরের মধ্য বাজারের মসজিদের পাশে কাঁচা মরিচ, লেবু, আধা, পিয়াজ, রসুনের ব্যবসা করছেন। ধার্মিক এ মানুষটি ব্যবসার ফাঁকে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে ভুল হয় না। এক দু’দিন পর পর বিভাগীয় শহর সিলেটের সোবাহানীঘাট পাইকারী বাজার থেকে কাঁচামাল ক্রয় করে ছাতকে এনে বিক্রি করেন।

২৪ বছর বয়সের  বড় ছেলে রানা ঢাকার একটি গামেন্টর্সে কাজ করে। ২য় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন ৪ বছর আগে। ৩য় ছেলে অষ্টম শ্রেণীতে ও ছোট মেয়েটা সপ্তম শ্রেণীতে গ্রামের স্কুলে পড়া-লেখা করছে। আনেক কষ্ট করে ছেলে-মেয়ের পড়া-লেখা চালিয়ে যাচ্ছেন সোলেমান আলী। তার নিজের সম্বল গ্রামের বাড়ীতে ছোট একটি টিনের ঘর। অল্প কিছু ধানের জমি আছে । ২/৩ মাস পর পর গ্রামের বাড়ীতে গিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের দেখে আসেন। ফজরের নামাজের পরই তিনি ব্যবসার প্রস্তুতি শুরু করেন। তার ব্যবসায় প্রতিদিন থাকা-খাওয়া সহ সব খরচের পর ১শ’ থেকে ২শ’ টাকা পর্যন্ত লাভ হয়। আর এ টাকা দিয়েই চলে তার ৫ সদস্যের সংসার।

বর্তমানে তার ব্যবসায়িক মূলধন ১০ হাজার টাকা। সোলেমান আলী বলেন, বয়স বাড়ছে তাই শরীর দিন দিন দূর্বল হয়ে পড়ছে। এখন আর আগের মতো পরিশ্রম করতে পারি না। এখনও সৎ পথে উপার্যন করে বেচে আছি।  আমার ছেলে-মেয়ে গুলো পড়া-লেখা করে মানুষের মত মানুষ হলেই আমার জীবনের সকল পরিশ্রম স্বার্থক হবে।

আরও পড়ুন
মুক্তিযুদ্ধ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত