ঢাকা, ০৭ আগস্ট, ২০২০
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
সব মানুষের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক, ১১ নির্দেশনা পবিত্র হজ ৩০ জুলাই চুক্তিতে থাকা বিতর্কিত স্বাস্থ্যের ডিজি ডা. আবুল কালামের পদত্যাগ ১ আগস্ট পবিত্র ঈদুল আজহা

সুনামগঞ্জ আবারও বন্যা কবলিত, জেলা শহর ও গ্রামঅঞ্চল প্লাবিত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২০  

প্রবল বর্ষণ আর সীমান্তের উজান থেকে নেমে আসা অব্যাহত পাহাড়ি ঢলে  হাওর জনপদ সুনামগঞ্জ আবারও বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা শহরেও প্রবেশ করেছে বানের পানি। শহরের ১০/১১টি এলাকাসহ সুরমা তীরবর্তী এলাকা বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বন্যায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলাসহ জেলার সব ক'টি উপজেলাই কমবেশি বন্যা কবলিত। সড়ক সমুহ বানের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কয়েকটি উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন জেলার প্রায় লাখো মানুষ।।

এদিকে, হাওর পাড়ের গ্রাম সমুহের বাড়িঘর প্রচন্ড বাউরি বাতাস আর সুবিস্তৃত হাওরের অবিরাম ঢেউয়ের আঘাতে হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্থ। অবিরাম বর্ষণ এবং হাওরের অব্যাহত ঢেউ আর বাউরি বাতাসের তান্ডবে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন হাওর পাড়ের অগণিত আদম সন্তান।
গতকাল সন্ধ্যা থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সুনামগঞ্জসহ সমগ্র সিলেট বিভাগে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।২৪ ঘন্টার মধ্যে বৃষ্টিপাত একবারও পুরোপুরি বন্ধ হয় নি। কখনও হালকা, কখনও মাঝারি আবার কখনও ভারী বর্ষণ হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানা গেছে, আগামী দু'তিন দিন সিলেট বিভাগে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে, পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল এলাকা চেরাপুঞ্জি সহ সীমান্তের উজানেও হচ্ছে বৃষ্টিপাত। এমতাবস্থায়, বর্ষণ ও সীমান্তের উজান থেকে প্রবাহিত পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে সুনামগঞ্জ জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ অফিস সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে আজ সুরমা বিপদ সীমার ৫৪ সে.মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছাতকেও সুরমা প্রবাহিত হচ্ছে বিপদ সীমার উপর দিয়ে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং কক্ষ থেকে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি এবং ত্রাণ কার্যক্রম মনিটরিং করা হচ্ছে। সব ক'টি উপজেলা সদরেও বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং-এ উপজেলা প্রশাসনকেও তৎপর রাখা হয়েছে।

এদিকে, বন্যা উপদ্রুত ও পানিবন্দি মানুষদের আশ্রয় দানের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমুহ খুলে দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, জেলার ১১টি উপজেলা ও ৪ টি পৌর এলাকায় ৪২ হাজার ৫৭ টি পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
বন্যা দুর্গতের মাঝে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত