ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
চলতি বছরের গত ৮ মাসে সীমান্তে ৩৩ বাংলাদেশি নিহত:বিজিবি এবার সেই প্রদীপের বিরুদ্ধে বোনের সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছেন সিটি মেয়র আরিফ ও প্রধান প্রকৌশলী ভারতে ১৫`শ টন ইলিশ রপ্তানির বিশেষ অনুমতি করোনা সংক্রমণে বিশ্বে দ্বিতীয় ভারত,একদিনে আক্রান্ত সাড়ে ৯৬ হাজার করোনা: ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১,৭৯২ জন

সীমান্তে মিয়ানমারের সেনাদের তৎপরতায় বাংলাদেশের উদ্বেগ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০  

বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্তে মিয়ানমারের সেনাদের গতিবিধি গত কয়েকদিনে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনে এ ধরণের তৎপরতা বৃদ্ধি পাবার প্রেক্ষাপটে উদ্বেগ জানিয়ে রোববার একটি চিঠি দেয়া হয়েছে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, গত শুক্রবার থেকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকার কাছাকাছি মিয়ানমারের সৈন্যদের টহল স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়েছে বলে দেখা গেছে।

সূত্র জানায়, গত শুক্রবার সকাল থেকে সীমান্ত এলাকায় অন্তত তিনটি পয়েন্টে মাছ ধরার ট্রলারে করে মিয়ানমারের সেনাদের টহল দিতে দেখা যায়। এরপরই দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এ তৎপরতা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছে বাংলাদেশ।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বিনা উসকানিতে এভাবে সীমান্তের কাছে নতুন করে সেনাসমাবেশের প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে বলা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করবে। এসব অপতৎপরতা বন্ধ করে দুই দেশের মধ্যে ভুল–বোঝাবুঝি অবসানের জন্য মিয়ানমারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেছে বাংলাদেশ।

চেকপোস্টে হামলার দাবি তুলে ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে গণহত্যা শুরু হয়। ওই সময়ও একইভাবে সীমান্ত এলাকায় সেনা সদস্যদের জড়ো করেছিল মিয়ানমার।

আর যে তিনটি পয়েন্টে তাদের দেখা গেছে সেগুলো হল কা নিউন ছুয়া, মিন গালারগি ও গার খুইয়া আর এই জায়গাগুলো মূলত মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা।

এটাকে সন্দেহজনক বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। কারণ মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় এ ধরণের সেনা টহল বাড়লে পরে, হয়ত সেখানকার মুসলমানদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়তে পারে।

যার ফলে আরো কিছু লোকজন হয়ত বাংলাদেশে ঢুকে পড়তে চাইবে, তারও একটা ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে এই সব বিষয় মাথায় রেখেই আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে মিয়ানমারকে।

এদিকে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ও অন্য গোষ্ঠীগুলো নৃশংস গণহত্যা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ আনে জাতিসংঘ ও অন্য মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তারা বলছে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের হত্যা, গণধর্ষণ, তাদের বাড়ি-ঘরে আগুন ও ধ্বংস করছে সেনাবাহিনী। সেই সময় দেশটির সেনাবাহিনী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে।

তবে, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যা ও ধর্ষণের দায় স্বীকার করেছে দুই পলাতক সেনা সদস্য; কর্তৃপক্ষের আদেশে তারা এসব কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল।

নির্যাতনের শিকার হয়ে বেঁচে থাকা রোহিঙ্গাদের বক্তব্যের সঙ্গে সেনা সদস্যদের বক্তব্যের মিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

সিএনএন বলছে, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইনে যে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চলেছে, দুই সেনা সদস্যের স্বীকারোক্তির মাধ্যমে সেনা সদস্যদের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো এটি স্বীকার করে নেওয়া হলো।

মাইয়ো উইন তুন ও জো নাইং তুং নামের এই দুই সেনা সদস্যের ভিডিওটি গত জুলাইয়ে ধারণ করে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধরত আরাকান আর্মি। এটি প্রকাশ করেছে ফোর্টিফাই রাইটস বলেছে, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তার সত্যতা পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত