ঢাকা, ১১ জুলাই, ২০২০
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
দেশে করোনা মোকাবিলার পরিস্থিতি দেখে হতাশ চীনা বিশেষজ্ঞ দল করোনার মধ্যেও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার সিলেট বিভাগে নতুন আরও ১৪২ জনের করোনা শনাক্ত,সিলেটেই ৭৮ সিলেটে করোনা রোগী বাড়ছেই, হাসপাতালে `ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই` অবস্হা

সিলেটে পরিবহন শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ-গুলি, আহত অর্ধশতাধীক

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২ জুন ২০২০  

সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় পরিবহন শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, গোলাগুলি, গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।

শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অর্ধশত মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র‌্যাব-পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে।

সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিকের বিরুদ্ধে প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তিনি বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে কদমতলীর বাস টার্মিনাল সংলগ্ন নগরীর বাবনার পয়েন্টে ফেডারেশনের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।

এ ঘটনার জেরে বিকেলে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় ফলিক ও তার বিরোধী বলয়ের শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সময় উভয় পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি বাস ও এনা পরিবহনের টিকেট কাউন্টার ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মিতালী শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মিলাদ আহমদ রিয়াদ অভিযোগ করে বলেন, শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের প্রায় আড়াই কোটি টাকা থাকার কথা। কিন্তু সেলিম আহমদ ফলিক হিসাব দিয়েছেন মাত্র ৪১ লাখ টাকার। বাকি ২ কোটি টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের পুরো টাকার হিসাব না দিলে তাকে কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

অভিযোগ, করোনা পরিস্থিতিতে ঈদের আগে কল্যাণ তহবিল থেকে শ্রমিকদের উপহার দেওয়ার দাবি উঠলেও ফলিক তা মানেননি। এমন পরিস্থিতিতে ফলিকের অনুসারীরা দুপুরের পর সমবেত হলে উভয় বিকেলে তারা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় সংষর্ঘে জড়িয়ে পড়েন।

এ ব্যাপারে সেলিম আহমদ ফলিকের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল জানিয়েছে, পরিবহণ শ্রমিকদের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এছাড়া র‌্যাব ৩ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। বাস টার্মিনাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

দক্ষিণ সুরমায় পরিবহন শ্রমিকদের দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষ, ৩০ রাউন্ড গুলি

এদিকে, দক্ষিণ সুরমায় আবারও সংঘর্ষে জড়িয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। মঙ্গলবার বিকাল ৬ টার দিকে ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে পরিবহন শ্রমিকদের দুটি পক্ষ।

বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহসভাপতি ও সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিককে কেন্দ্র করেই মূলত এ সংঘর্ষ। 
মঙ্গলবার বিকালে প্রথম দফার সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছিলেন। দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষে আরো ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ দফায় সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ প্রায় ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে।

আরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত