ঢাকা, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
হাইকোর্টে জামিন চাইলেন প্রথম আলোর সম্পাদক এসএসসি পরীক্ষা ৩ ফেব্রুয়ারি,সংশোধিত রুটিন প্রকাশ ইভটিজিং ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে বাল্যবিবাহ রোধ ও শিক্ষা বাড়বে মৌলভীবাজারে বাগানে ৪ জনকে কুপিয়ে হত্যার পর ঘাতকের আত্মহত্যা ভারতের নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের প্রয়োজন ছিল না:প্রধানমন্ত্রী হাসিনা শিক্ষা বানিজ্যের প্রতিবাদে সিলেট ল কলেজের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ‘প্রথম আলো’র সম্পাদকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ঢাবি ছাত্রীকে ধর্ষণ: আদালতে মজনুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সিলেটে বিয়ের প্রলোভনে কিশোরীকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ১ ‘হাইকোর্টের আদেশ মেনে আন্দোলন থেকে বিরত থাকুন’....কাদের দক্ষিণ সুরমায় ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিতের বিষয়ে যা বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল রিট খারিজ,৩০ জানুয়ারিই হবে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন মুজিববর্ষ উদযাপনে মহাপরিকল্পনা,বছরজুড়ে দেশ-বিদেশে ২৯৮টি অনুষ্ঠান

সিলেটে আসছেন রাষ্ট্রপতি:এক যুগ পর শাবির তৃতীয় সমাবর্তন বুধবার

খালেদ আহমদ

প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারি ২০২০  

*এক যুগ পর শাবির তৃতীয় সমাবর্তন কাল বুধবার : সমাবর্তনে অংশ নিচ্ছেন ৭ হাজার , রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক ২০ জন ও উপাচার্য পদক পাচ্ছেন ৮৯ জন শিক্ষার্থী

প্রায় এক যুগ পর সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) তৃতীয় সমাবর্তন বুধবার (৮ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ। ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে বুধবার বেলা সোয়া ১২টায় রাষ্ট্রপতি ওসমানী আন্তর্জতিক বিমান বন্দরে এসে পৌছাবেন। প্রথমে তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করবেন। বেলা ৩টায় তিনি শাবির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন।  সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি ঢাকায় ফিরে যাবেন।

বিশ^বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে কাক্সিক্ষত এই সমাবর্তন।সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক ২০ জন ও উপাচার্য পদক পাচ্ছেন ৮৯ জন শিক্ষার্থী।

সমাবর্তন বক্তা থাকবেন কথা সাহিত্যিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

১৯৯১ সালে শাবি’র একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার দীর্ঘ ২৮ বছরে মাত্র দু’টি সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৯৮ সালের ২৯ এপ্রিল প্রথম সমাবর্তন এবং এর ৯ বছর পর ২০০৭ সালের ৬ ডিসেম্বর দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজন করা হয়। পরবর্তীতে সাবেক উপাচার্যবৃন্দ অনেকবার চেষ্টা করলেও আয়োজন করতে পারেননি তৃতীয় সমাবর্তন। কিন্তু বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট ১১তম উপাচার্য হিসেবে যোগ দিয়ে সমাবর্তন দ্রুত আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন সেই সমাবর্তন সফল হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

বিশ^বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ^বিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করবেন।
তৃতীয় সমাবর্তনে মোট ৬ হাজার ৭৫০ জন নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে স্নাতকের ৪ হাজার ৬১৭ জন এবং স্নাতকোত্তরের ১ হাজার ১২৭ জন শিক্ষার্থী।

এছাড়া পিএইচডি ২ জন, এমবিবিএস ৮৭৮ জন, এমএস ও এমডি ৬ জন এবং নার্সিংয়ের ১২০জন শিক্ষার্থী। এদিকে, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে সর্বোচ্চ ফলাফলের জন্য ২০ জন শিক্ষার্থীকে রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক দেয়া হবে। এর মধ্যে ১০ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও ৫ জনকে স্নাতকোত্তর ফলাফলের জন্য এবং দ্বিতীয় সমাবর্তনে বাদ থাকা ৫ জনকেও স্বর্ণপদক দেয়া হবে। এছাড়া বিভিন্ন অনুষদে প্রথম হওয়া ৮৯ শিক্ষার্থীকে ‘ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হবে।

দীর্ঘ এক যুগ পর সমাবর্তন হওয়ায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীদের মাঝে। সমাবর্তনকে সফল করতে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এদিকে, সম্প্রতি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ঘোষণা দিয়েছেন চলতি বছরের ডিসেম্বরে চতুর্থ সমাবর্তনের আয়োজন করা হবে।

সমাবর্তনকে সামনে রেখে বিশ^বিদ্যালয়কে সাজানো হয়েছে নতুন মোড়কে। বিশ^বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে সমাবর্তনস্থল পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে রং-বেরংয়ের পতাকা এবং আলোকশজ্জা করা হয়েছে, গোলচত্বরকে নতুনভাবে মেরামত করা হয়েছে এবং ফুল গাছ লাগানো হয়েছে, বিভিন্ন ভবনের সামনে এবং উপরে টানানো হয়েছে সমাবর্তনের ব্যানার-ফেস্টুন। ভবনগুলোতে নতুন করে রং করা হয়েছে।

সমাবর্তনকে কেন্দ্র বিশ^বিদ্যালয়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।গত সোমবার থেকে শুরু হয়েছে কস্টিউম, গিফট ও আমন্ত্রণপত্র বিতরণ এবং গতকাল মঙ্গলবারও দিনব্যাপী নিবন্ধনকৃত শিক্ষার্থীদেরকে নির্ধারিত কাউন্টার থেকে এসব জিনিস দেয়া হয়।

এদিকে, ক্যাম্পাস সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পুরনো বন্ধু-বান্ধবদের সাথে খোশগল্পে মেতে উঠতে দেখা গেছে তাদের। নতুন গাউন ও হ্যাট পরিধান করে ছবি তুলে অনেকে ব্যস্ত সময় পার করেছে। অনেকে আবার তাদের ছোট-ছোট ছেলে-মেয়ে নিয়ে এসেছে। সব মিলিয়ে ক্যাম্পাস পরিণত হয়েছে একটি মিলনমেলায়।

২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান ভূইয়া বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কাক্সিক্ষত সমাবর্তন। গ্র্যাজুয়েটদের জন্য সমাবর্তন হচ্ছে সবচেয়ে বড় উৎসব। সমাবর্তনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে সিনিয়র-জুনিয়রদের এক মিলনমেলার সৃষ্টি হয়।কাংখিত এই সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে পেরে খুবই আনন্দিত। যারা আসতে পারবে না তাদেরকে খুব মিস করবো।’

সার্বিক বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি একদম শেষ পর্যায়ে। সবকিছু সুন্দরভাবেই আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী হচ্ছে। এখন আমরা অপেক্ষায় আছি কখন মহামান্য রাষ্ট্রপতি আসবেন এবং শিক্ষার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট দিতে পারবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘চতুর্থ সমাবর্তন চলতি বছরের শেষের দিকে বিশেষ করে ডিসেম্বরে করার পরিকল্পনা রয়েছে।’ এরপর প্রতিবছরই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, আজ সমাবর্তনের দিন বিশ^বিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টার ও ক্যাফেটেরিয়া খোলা থাকবে। অংশগ্রহণকারী গ্র্যাজুয়েটদেরকে আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ১টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে সমাবর্তনস্থলে আসন গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দকে বিকেল আড়াইটার মধ্যে অবশ্যই সমাবর্তনস্থলে আসন গ্রহণ করতে হবে। দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে শোভাযাত্রার মাধ্যমে সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। মূল অনুষ্ঠান হবে বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত। সমাবর্তনের দিন সন্ধ্যায় এবং পরদিন বৃহস্পতিবার মূল সনদপত্র বিতরণ করা হবে। বিস্তারিত সমাবর্তনের ওয়েবসাইট (sustconvocation.edu) থেকে জানা যাবে।


এদিকে শেষ সময়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই সাথে সাবেকদের পদচারণায় উৎসবমুখর আমেজ বিরাজ করছে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গনে। সমাবর্তনকে ঘিরে পুরো ক্যাম্পাস যেমন সেজেছে বাহারি রঙে তেমনি সংস্কার করা হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা ও রাস্তাঘাট।
সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সমাবর্তনকে সফল করতে আমাদের ১৭ টি উপ-কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। আশা করছি একটি সফল সমাবর্তন উপহার দিতে পারবো শিক্ষার্থীদের।

উল্লেখ, তৃতীয় সমাবর্তনে রেজিস্ট্রেশন করেছেন সর্বমোট ৬ হাজার ৭৫০ জন শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন
শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত