ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
দক্ষিণ সুরমায় কিশোরকে অপহরণকালে আটক ১৬ জনকে পুলিশে সোপর্দ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় `টারজান` স্ত্রীসহ নিহত মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্থানীয় প্রশাসনকে লকডাউনের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রতারণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বোনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর দেশে এলো ফাইজারের ১ লাখ ৬০০ ডোজ টিকা

সিলেটের নতুন কারাগারে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর ফাঁসি কার্যকর

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২১  

সিলেট শহরতলীর বাদাঘাটে নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে ১৭ বছর পর স্বামী সিরাজুল ইসলাম সিরাজ (৫৫) এর ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে ।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোঃ মঞ্জুর হোসেন জানান, বাধাঘাটে নির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হবিগঞ্জ থানার রাজনগর কবরস্থান গ্রামের  মৃত আবুল হোসেনের পুত্র সিরাজুল ইসলাম সিরাজকে রশিতে ঝুলিয়ে ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

জেল সুপার জানান, নতুন এই কারাগার নির্মাণের পর এটাই প্রথম ফাঁসি কার্যকরের ঘটনা।  ফাঁসি কার্যকর করেন সেই আলোচিত জল্লাদ শাহজাহান। শাহজাহানকে গতসোমবার বিকেলে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে কাশিমপুর কারাগার থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা হয়। 
মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়া সিরাজ ২০০৪ সালে তার স্ত্রী  সহিদা আক্তার কে শাবল ও ছুরি দিয়ে হত্য করেন।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন রাত পৌনে ১টায় গণমাধ্যমকে ফাঁসি কার্যকর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। দন্ড কার্যকর হওয়ার পরে তার লাশ স্বজনরা রাতেই দাফনের জন্য হবিগঞ্জে নিয়ে গেছেন। তার তিন মেয়ে রয়েছে। তারা তাদের মামা বাড়িতেই লালিত-পালিত হন।

জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ হওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ তার দন্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু করেন। সকল প্রক্রিয়া শেষে গতকাল তাকে রায় কার্যকরের বিষয়টি জানানো হয়। বিকেলে তার ভাই এসে শেষ দেখা করেন। এরপর নিয়ম অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান তাকে তাওবা ও কালেমা পাঠ করান। রাত ১১ টায় বহুল আলোচিত জল্লাদ শাহজাহান আসামি সিরাজুল ইসলাম সিরাজের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করেন। 

এসময় সিলেটের জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলাম, সিলেটের ডিআইজি প্রিজনস মোহাম্মদ কামাল হোসেন, সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম, সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মন্ডল, সিলেটের সিনিয়র জেল সুপার মুহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন, জেল সুপার মো. মুজিবুর রহমান, সিলেট মহানগর পুলিশের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কারা সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে পারিবারিক বিরোধের জেরধরে সিরাজুল ইসলাম সিরাজ স্ত্রী সাহিদা আক্তারকে শাবল ও ছুরি দিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনা হবিগঞ্জ থানায় ২০০৪ সালের ৭ মার্চ হবিগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা নং-৫ দায়ের করেন নিহতের ভাই। দীর্ঘ শুনানীর পর আদালত ২০০৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের (জেলা ও দায়রা জজ) বিচারক সিরাজের মৃত্যুদন্ডাদেশের আদেশ দেন। সেই সাথে রায়ে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। 

এই রায়ের বিরুদ্ধে সিরাজ হাইকোর্ট জেল আপীল নং-১৫৮/২০০৭। যার ডেথ রেফারেন্স নম্বর ১৮/০৭ এর আলোকে ২০১২ সালের ১ আগস্ট প্রদত্ত রায়ে তার জেল আপীল নিষ্পত্তি করে সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল পূর্বের রায় বহাল রাখেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে সিরাজ সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগে জেল পিটিশন নম্বর-২৬/১২ দাখিল করেন। শুনানী শেষে আপিল বিভাগ ২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর রায়ে সিরাজের আপিল বাতিল করে ডেথ রেফারেন্স নম্বর-১৮/০৭ এর মৃত্যুদন্ডদেশ বহাল রাখেন। এরপর সিরাজ প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে আবেদন করলে এ বছরের ২৫ মে রাষ্ট্রপতি সিরাজের প্রাণ ভিক্ষার আবেদন না মঞ্জুর করেন।ফলে তার ফাসি কার্যকর করা হয়।

আরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত