ঢাকা, ২৬ মে, ২০১৯
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
ব্রেকিং নিউজ---শ্রীলংকায় ৮টি পৃথক বোমা হামলায় নিহত বেড়ে ২০৭,কারফিউ জারি ‘সরকার বেকায়দায় নেই যে খালেদাকে প্যারোলে মুক্তি দিতে হবে’ আওয়ামী লীগ সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে: প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জে যুবক খুনের নেপথ্যে নৌ-পথে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার ৮ নুসরাত হত্যা: আ’লীগ নেতা রুহুল আমিন আটক সিলেটের ওসমানীনগরে বিধবাকে ধর্ষণের অভিযোগে মামাশ্বশুর গ্রেফতার

সংসদে প্রধানমন্ত্রী: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সবার স্বার্থেই,সাংবাদিকরা এত উদ্বিগ্ন কেন?

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ থেকে দেখলে হবে না। সবার নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়েই এ আইন করা হয়েছে।

সরকার চায় ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল সবাই ভোগ করুক। আর কুফল থেকে দূরে থাকুক। এ আইন নিয়ে সম্পাদক পরিষদ কেন এত উদ্বিগ্ন সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দশম সংসদের ২২তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জানি না সাংবাদিকরা কেন এত বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠছেন। তারা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন কেন? কী কারণে? এর কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে মনে হয় না। আইনটি করা হয়েছে দেশ ও জাতির কল্যাণে।

মানুষকে নিরাপত্তা দিতে হবে। সমাজকে রক্ষা করতে হবে। সংসারকে বাঁচাতে হবে। মানুষের চরিত্র বাঁচাতে হবে। সেই বিবেচনায় এ আইন করা হয়েছে। এখানে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকে মতামত দিয়েছেন। কেউ কেউ শুধু ব্যক্তি আর নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের স্বার্থজাত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মতামত দিয়েছেন। কিন্তু সমস্ত সমাজ ও দেশের স্বার্থে এই বিলটি যে কত গুরুত্বপূর্ণ এটা তারা দেখেন না।

শেখ হাসিনা বলেন, `কয়েকজন স্বনামধন্য সম্পাদক ও ব্যক্তি আইনটি নিয়ে মতামত দিয়েছেন। তারা কেবল তাদের কণ্ঠরোধ হলো কি-না সেটাই দেখেন। তাদের কণ্ঠ তো রোধ হয়নি। কণ্ঠ আছে বলেই তারা মতামত দিতে পারছেন। রোধ করলে তো মতামত দেওয়ার মতো ক্ষমতা থাকত না।`

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন ডিজিটাল আইন করার পর তারা তাদের কণ্ঠরোধের কথা বলছেন। কণ্ঠটা রোধ কোথায়? এ দেশে একটি টেলিভিশন ছিল। কোন সরকার পেরেছে টেলিভিশনকে বেসরকারি খাতে তুলে দিতে? কোন সরকার সাহস পেয়েছে রেডিও বেসরকারি খাতে তুলে দিতে। কেউ তো দেয়নি। দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। আজকাল টেলিভিশনে তো মধ্যরাত পর্যন্ত টকশো, কত রকমের আলোচনা, যে যাচ্ছেন সেই আলোচনা করতে পারছেন। কই, কেউ গিয়ে তো তাদের গলা চেপে ধরছে না। কেউ তো তাদের বাধা দেয়নি।`

ডিজিটাল আইনের সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা শুধু তাদের সাংবাদিকতার বিষয়টি দেখলেন। সাংবাদিকতা হবে গঠনমূলক। সাংবাদিকতা হবে সমাজের জন্য, দেশের জন্য, মানুষের জন্য দায়িত্বশীল। নিশ্চয়ই সাংবাদিকতা সংঘাত বাড়ানোর জন্য হবে না। দেশের অকল্যাণে হবে না। দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের জন্য হবে না। এমন সাংবাদিকতা থাকবে যা দেশকে এগিয়ে নেবে। মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস আনবে। মানুষের ভেতরে সন্দেহ সৃষ্টি করবে না। মানুষকে বিভ্রান্ত করবে না। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদকে উস্কে দেবে না। সমাজকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার দিকেই তো তারা থাকবে। সরকার সেটাই চায়।

সংসদ নেতা বলেন, বাংলাদেশের মতো জায়গায় দৈনিক পত্রিকাই রয়েছে হাজারের কাছাকাছি। সর্বসাকল্যে হাজার তিনেকের মতো পত্রিকা রয়েছে। এত পত্রিকা পৃথিবীর কোন দেশে রয়েছে।

সেই সঙ্গে ডিজিটাল বাংলাদেশে এখন অনলাইন পত্রিকা। এগুলো কে যে করছে, কখন কীভাবে করছে, নাম ঠিকানারও ঠিক নেই। পত্রিকার নাম দিয়ে নানা ধরনের তথ্য প্রচার করছে।

তিনি বলেন, ইউটিউব, ফেসবুকসহ নানা ধরনের অ্যাপ ব্যবহার হয়। এর ভালো দিকও আছে, খারাপ দিকও আছে। খারাপ দিকটা ভয়াবহ। মোবাইল, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাব- এই স্মার্ট ডিভাইসে যেমন বিশ্বটা হাতের মুঠোয়; তেমনি এর মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়াতে নানা ধরনের অসামাজিক বিষয় চলে আসে। এখানে নানা ধরনের গেমস আছে। অনেক সময় ছোট ছেলেমেয়েরা বা যুবক শ্রেণি এমন বিষয় দেখে যা সমাজে অশুভ বার্তা বয়ে আনে। এতে কুশিক্ষার দিকটাও থাকে। সেটা অশ্নীল বা একেবারেই অসামাজিক। কুরুচিপূর্ণ। এতে ছেলেমেয়েরা আসক্ত হয়ে পড়ে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস এ ধরনের নানা বিষয় চলে আসে। এমনভাবে অপপ্রচার হয় যাতে পারিবারিক কোন্দল সৃষ্টি হয়। নানা রকমের অঘটনও ঘটে। শিশু থেকে যুবক পর্যন্ত আসক্ত হয়ে পড়ে। তারা মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলে বিপথে চলে যায়। আত্মহত্যা করে। অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে। এসব সমাজ ও সংসারের জন্য বিরাট বোঝা হয়ে যায়। চরিত্র হনন করা হয়। এর সঙ্গে রাজনীতির দিকটাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার জন্য নিরাপত্তা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে সরকার মনে করে। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল সবাই ভোগ করুক। কুফল থেকে দূরে থাকুক। সে লক্ষ্য নিয়ে এ আইন পাস হয়েছে। এখানে শুধু গোষ্ঠীস্বার্থ দেখলেই হবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, এ অধিবেশনটা এমন সময় হলো যখন ৫ বছর সংসদ বা সরকার তার সময়ও শেষ বেলা, পড়ন্ত বেলা। সময় শেষ নতুন নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে জনগণ যাকে ভোট দেবে তারা ক্ষমতায় আসবে, সংসদে আসবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের ভিত্তিটা শক্তিশালী ও মজবুত করেছে। যারা গণতন্ত্রের ভিত শক্তিশালী দেখেন না, নড়বড়ে দেখেন- আসলে তাদেরই নড়বড়ে অবস্থা। তারা কখনও গণতন্ত্র চান না। তারা সব সময় একটি দিকে তাকিয়ে থাকেন। কখন কিছু ছিঁড়ে পড়বে; আর পাবেন, ওই আশায় বসে থাকেন।

দলীয় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি জনগণ ভোট দেয়, আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে তাহলে আরও কী কাজ করা যাবে সে পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। প্রতিটি গ্রামকে শহরে পরিণত করা হবে। গ্রামের মানুষ নাগরিক সুবিধা পাবে।

আরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত