ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২
SylhetNews24.com
শিরোনাম:

শাবি শিক্ষার্থীরা মানবিক সংকটের মুখোমুখি,অনশন ভাঙলেও আন্দোলন চলবে

খালেদ আহমদ, সিলেট

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২২  

অনশন ভাঙলেও আন্দোলন চলবে, শিক্ষার্থদের মেডিকেল সাপোর্ট উঠিয়ে দেয়া হয়ছে, আটক ৫ জন

শাবির সংকট নিরসরনের কোন আলামত নেই।গত কয়েক দিন থেকে ‘আলোচনা, আলোচনা’- খেলা চলছে। বুধবার দুসপ্তাহ অতিক্রম হতে যাচ্ছে শাবি‘র সংকটজনক পরিস্থিতির। কিন্তু  এরই মধ্যে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এবং ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ মানবিক সংকটের মুখোমুখি।

এদিকে, আমরণ অনশন কর্মসূচির অষ্টম দিনে আন্দোলনকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তাদের সহপাঠিদের জন্য। একদল শিক্ষার্থী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে সমবেত হয়ে অনশনকারীদের অনশন ভাঙার অনুরোধ জানান।এর আগে তারা উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার শপথ নেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একাংশকে এই শপথ পড়ান মোহাইমিনুল বাশার রাজ। অনশণ থেকে সরে এলেও আন্দোলন চলবে বলে তারা ঘোষনা দেন।

তবে অনশন চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অনড় অবস্থানও রয়েছে শিক্ষার্থীদের আরেকটি অংশের। এ বিষয়ে আলোচনা চলছে দুইপক্ষের। অনশনকারী শিক্ষার্থী শাহারিয়ার আবেদিন বলেন, ‘আমি আরও কিছুদিন না খেয়ে থাকতে পারব। আমি অনশন চালিয়ে যেতে চাই। আমি অনশন ভাঙব না।’ আরেক অনশনকারী একই কথা বলেন।
 শাবি ভিসির পদত্যাগের একদফা দাবিতে ২৮ শিক্ষার্থী আমরণ অনশনের ১৪৬ ঘন্টা পার হয় মঙ্গলবার স্ন্ধ্যা ৬ টায়। তাদের  জীবন এখন সঙ্কাটাপন্ন। ‘অর্গান ড্যামেজের ঝুঁকিতে আছেন তারা। 

এদিকে পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁর বাসভবন অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। সাংবাদিক ও পুলিশ ছাড়া আর কাউকেই তাঁর বাসভবনে ঢুকতে দিচ্ছেন না তারা। এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় ভিসির বাসভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে ১২ ঘন্টা পর সোমবার গভীর রাতে বিদ্যুত সংযোগ পুন:স্থাপিত করেন শিক্ষার্থরা। 

ঘটনার এখানেই শেষ নয়। এদিকে মঙ্গলবার দুপুর ১ টায় ভিসির জন্য খাবার নিয়ে তাঁর বাসভবনে প্রবেশ করতে গেলে আবারও শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়েন শাবি শিক্ষক সমিতি। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলসি কুমার দাশ, সাধারণ স¤পাদক মহিবুল আলম, সহ-সভাপতি ড. আশরাফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য নিয়ে ভিসির বাসভবনে প্রবেশ করতে চাইলে ভবনের সামনে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা বাধা দেন শিক্ষকদের। এসময়  নিজেদের দাবি-দাওয়া আলোচনার টেবিলে বসে  বলার জন্য শিক্ষার্থীদের আহবান জানান শিক্ষকবৃন্দ। কিন্তু  শিক্ষকদের কোনো কথা শুনতে রাজি হননি শিক্ষার্থীরা।

এর আগেও, সোমবার সন্ধ্যায় কয়েকজন শিক্ষক খাবার নিয়ে ভিসির বাসভবনে যেতে চাইলে শিক্ষার্থীরা সেখানে ঢুকতে দেননি শিক্ষকদের। ভিসি‘র ভাসভবনে দায়িত্বরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা সন্ধ্যায় জানান, শাবি‘র নিয়োজিত নিরাপত্তা কর্মীর মাধ্যমে ভিসি ভবনে খাবার পৌছে দেয়া হয়। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। বাসভবসের কেউ অসুস্থ হলে তাদের চিকিৎসা সেবা দিতে তাদের আপত্তি থাকবেনা। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন অনশনরত শিক্ষার্থীদের জন্য মেডিকেল সাপোর্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রাতে তাদের

খাবারের জন্য মোবাইল ব্যাংকিং এর জন্য অর্থয়ানও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।মেডিকেল সাপোর্ট উঠিয়ে দেয়া হয়ছে:

ভিসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদেরকে দেওয়া মেডিকেল সাপোর্ট বন্ধের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা জানান, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে থেকে যে মেডিকেল টিম উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনরত শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছিলেন, তারা সেবা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) ভোররাত আড়াইটার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আয়োজিত জরুরী  প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সব তথ্য জানানো হয়। তারা গভীর শঙ্কা প্রকাশ ও অনশনকারীদের জীবনঝুঁকির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আন্দোলনকারীদের এক মুখপাত্র চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বলেন, 'অনশনরত শিক্ষার্থীদের সবার অবস্থার অবনতি হচ্ছে এবং তারা ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। তারা সবাই খিঁচুনি,ব্লাডে অক্সিজেন ও সুগার লেভেল কমে যাওয়া, প্রেশারসহ নানা শারীরিক জটিলতায় পড়ছেন। তারা অর্গান ড্যামেজের ঝুঁকিতে আছেন।'তিনি আরও বলেন, 'অনশনকারীদের মেডিকেল রিপোর্ট বিশ্লেষন করে সিনিয়র চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, অনশন দীর্ঘায়িত হলে যেকোনো মুহূর্তে হার্ট ফেইলিওরসহ কোমায় চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
 

শাবির প্রধান ফটকে ফেনসিডিলসহ সিকিউরিটি গার্ড আটক 
 শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি গার্ড জাহিদুর রহমানকে এক বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করা হয়েছে। সোমবার (২৪ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে ওই সিকিরিটি গার্ডকে একটি ওষুধের মোড়কের ভিতরে ফেনসিডিলের বোতলসহ ধরেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় ওই সিকিউরিটি গার্ড জানান, এক শিক্ষকের জন্য তিনি সেটি নিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই সিকিউরিটি গার্ডকে আটকের পর শাবির আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাকে নিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন। পুলিশ সেখানে এসে ওই সিকিউরিটি গার্ডকে জিজ্ঞাসাবাদ করন বলে এসএমপি-এর অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফ জানান।  
 

আর্থিক সহায়তা করায় শাবির ৫ শিক্ষার্থী আটকঃ
চলমান আন্দোলনে আর্থিক সহায়তা করায় শাবির সাবেক ৫ শিক্ষার্থীকে ঢাকায় আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ বেসরকারি এক সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।' 

এর আগে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের তুলে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরিবার ও বন্ধুদের অভিযোগ, শাবির আন্দোলনে কিছু অর্থ সহায়তা করায় তাদেরকে আটক করা হয়েছে। আটকৃতদের মধ্যে শাবি‘র সাবেক ২ শিক্ষার্থীর পরিচয় জানা গেছে।  তারা হলেন-শাবিপ্রবির আর্কিটেকচার বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রেজা নূর মুঈন ও সিএসই বিভাগের ২০১২-১৩  শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান।শাবির চলমান উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের আন্দোলনকারীদের 'টাকা পাঠানোয়' রেজা নূর মুঈনকে আটক করা হয়েছে বলে মনে করেছেন তার স্ত্রী ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী জাকোয়ান সালওয়া তাকরিম।

সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তিনি অভিযোগ করে বলেন, 'রেজা সন্ধ্যায় উত্তরা অ্যাগোরার কাছে মুদি কেনাকাটার জন্য গিয়েছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিট তুলে নেয়।' পরে তারা রেজার গাড়ি ফেরত দিতে বাসায় আসে এবং জানায় যে রেজাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইডি সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যারা বাসায় এসেছিল তাদের গাড়িতে সিআইডির স্টিকার লাগানো ছিল বলে জানান রেজার স্ত্রী।তার ধারণা, শাবিপ্রবিতে চলমান উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের আন্দোলনকারীদের 'টাকা পাঠানোয়' রেজাকে আটক করা হয়েছে। তারা দুজনেই শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী  উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'এই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছি এবং কিছু অর্থ সহযোগিতা করেছি।' 'আমাদের কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। শুধু জুনিয়রদের সাহায্য করার জন্য টাকা দিয়েছি,' যোগ করেন তিনি।

এদিকে শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী শাহ রাজী সিদ্দিক বলেন, 'আমি আর হাবিবুর রহমান গত প্রায় আড়াই বছর ধরে একসঙ্গে থাকি। তাকে সিআইডির লোকেরা উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে তুলে নিয়ে গেছে।' হাবিবুরকে নিয়ে যাওয়ার সময় ৩ জন সিআইডি কর্মকর্তা ছিল এবং যোগাযোগের জন্য মাহমুদুল ইসলামের ভিজিটিং কার্ড দিয়ে যায় বলে জানান তিনি। তিনি জানান, হাবিব জার্মানির একটা সফটওয়্যার ফার্মে চাকরি পেয়েছে। গতকালই তার ভিসা হয়েছে। তবে আটকের বিষয়ে জানতে সিআইডির মুখপাত্র আজাদ রহমান এবং সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল ইসলাম তালুকদারকে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। 
 

আরও পড়ুন
শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত