ঢাকা, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২০
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
আজ বৃহস্পতিবার টানা ৮ ঘন্টা সিলেট মহানগরে গ্যাস থাকবেনা ফাইজারের প্রশংসা করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্যে করোনা টিকার অনুমোদন সিলেটে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা ৫ ডিসেম্বর শুরু হচ্ছে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে নববধুকে গণধর্ষণ, চার্জশিট বৃহস্পতিবার ৪২ ও ৪৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, পদ ৩৮১৪টি

রাসূল (সা.) কে ব্যঙ্গ করে ফ্রান্স মুসলমানদের কলিজায় আগুন লাগিয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০২০  

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নবনির্বাচিত আমির, শায়খুল হাদীস আল্লামা জুনায়দ বাবুনগরী বলেছেন, বিশ্বের দুইশত কোটি মুসলমানের ভালোবাসার প্রতীক রাসূল (সা.) কে ব্যঙ্গ করে ফ্রান্স মুসলমানদের কলিজায় আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। রাসূলের অপমানের মোকাবেলায় প্রয়োজনে রক্ত সাগর ভাসিয়ে দেবে।

ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় মদদে মহানবী (সা.)-এর ব্যঙ্গ চিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম সিলেটের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

সিলেট নগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠে অনুষ্টিত সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে ৩টি দাবি উত্থাপনকরা হয়।
 

দাবিগুলো হলো- ১.মহানবী (সা.) এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সংসদে নিন্দা প্রস্তাব পাস করতে হবে।২.সিলেটের হোটেলসমূহে মদের অনুমোদন বাতিল ও মাদকের অবাধ ছডাছডি বন্ধ করতে হবে এবং ৩.বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমদ হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দাবিগুলো উত্থাপন করেন সংগঠনের সিলেটের অন্যতম নেতা মাওলানা ইউসুফ খাদিমানী।

সমাবেশে আল্লামা জুনায়দ বাবুনগরী বলেছেন, ‘সমস্ত মসজিদের মুসল্লিরা হেফাজতের সদস্য, সকল মসজিদের ইমাম, মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকগণ হেফাজতের সদস্য, সকল স্কুল-কলেজের ধর্মপ্রাণ মানুষ হেফাজতের সদস্য। নামাজ, রোজা, হজ্জ-যাকাত হলো হেফাজতের কর্মসূচী। হেফাজত বাংলাদেশে নামাজ কায়েম করতে চায়। 

তিনি বলেন, যারা ইসলামের শত্রু  রাসূলের দুশমন তাদের কবর রচনার জন্য, নাস্তিক-মুর্তাদদের কবর রচনার জন্য হেফাজতে ইসলামের অভ্যুদয়। হেফাজত সরকার বিরোধী সংসগঠন নয়, আবার সরকার দলীয় সংগঠনও নয়। 

তিনি কাদিয়ানীদেরকে ‘কাফের’ ঘোষণা করে বলেন, ‘আমি মনে করি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও কাদিয়ানীদেরকে মুসলিম বলে মনে করেন না। শুধু ব্যাক্তিগতভাবে কাদিয়ানীদেরকে কাফের মনে করলে হবে না। রাষ্ট্রীয়ভাবেও কাদিয়ানীদেরকে কাফের ঘোষণা করতে হবে। ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে কাদিয়ানীদেরকে কাফের ঘোষনায় কোন সমস্যা থাকার কথা নয়।’

হেফাজতের আমির বলেন, ‘আমরা হিন্দুদেরকে কাফের ঘোষনার দাবি জানাই না, কারণ তারা কাদিয়ানীদের মতো মুসলিম পরিভাষা ব্যবহার করে না, নিজেদেরকে মুসলিম দাবি করে না। কাদিয়ানীরা অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ন্যায় নিজেদের ধর্ম পরিচয়ে এদেশে বাস করুক, আমাদের কোন আপত্তি নেই। এই কাদিয়ানীরাই বিশ্ব নবীর বড় শত্রু  ।

বাবুনগরী আরও বলেন, ‘সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী এ দেশ মদিনা সনদে চলবে। অন্য কোন সনদে চলবে না। তাই মদিনা সনদের সাথে সাংঘর্ষিক কাজ শক্তভাবে দমন করতে হবে।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা শায়খুল হাদীস আল্লামা জিয়া উদ্দীন।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা নূর হুসাইন কাসিমী, নায়েবে আমীর প্রফেসর ড. আহমদ আবদুল কাদের, উপদেষ্টা শায়খুল হাদীস আল্লামা মুফতী রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভী, শায়খুল হাদীস আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক আকুনী, নায়েবে আমীর শায়খুল হাদীস আল্লামা নূরুল ইসলাম খান সুনামগঞ্জী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, কেন্দ্রীয় নেতা এডভোকেট মাওলানা আবদুর রকীব ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন।

সমাবেশের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাবেশের অন্যতম আহ্বায়ক প্রিন্সিপাল হাফিজ মাওলানা মজদুদ্দিন আহমদ। বক্তব্য রাখেন সমাবেশের অন্যতম আহ্বায়ক মাওলানা মুহিউল ইসলাম বুরহান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব শায়খুল হাদীস আল্লামা নূর হোসাইন কাসিমী বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর শান মান রক্ষায় মুসলিম জাতি রক্ত দিতে প্রস্তুত। যতদিন আল্লাহর হাবীবের শানে বেআদবী করা হবে, আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন করে যাবো। আমরা সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই, সংসদে অবিলম্বে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনুন।’

হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির প্রফেসর ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ‘বিশ্বের যে কোন স্থানে নবীর অবমাননা সহ্য করা হবে না। বাংলাদেশে নবীর দুশমনদের প্রতিহত করা হবে।’

হেফাজতের উপদেষ্টা শায়খুল হাদীস আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, ‘মহানবী সা. এর প্রতি ভালোবাসা বিশ্ব মুসলমানের হৃদয়ে যেভাবে রয়েছে, সেভাবেই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নবীর সুন্নাত সমূহ পালন করতে হবে।’

কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘ফ্রান্স ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে ফ্রান্স দূতাবাস থাকবে না।’

সভাপতির বক্তব্যে হেফাজতের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা শায়খুল হাদীস আল্লামা জিয়া উদ্দিন বলেন,  ‘আমরা রাসূল সা. এর ভালোবাসায় জমায়েত হয়েছি। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আজকের সমাবেশে লাখো মানুষের জমায়েত প্রমান করে রাসূলের সা. এর জন্য সিলেটবাসী যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।’

হেফাজতে ইসলাম সিলেটের অন্যতম নেতা হাফিজ মাওলানা তাজুল ইসলাম হাসান, প্রিন্সিপাল মাওলানা সামিউর রহমান মুসা ও মাওলানা বিলাল আহমদ ইমরানের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শায়খুল হাদীস মুফতী মুজিবুর রহমান, শায়খুল হাদীস মাওলানা আউলিয়া হোসাইন, মাওলানা শায়খ আবদুল বাসির, মহানগর হেফাজত নেতা হাফিজ মাওলানা নূরুজ্জামান, মাওলানা খলিলুর রহমান, অধ্যাপক বজলুর রহমান, জেলা হেফাজত নেতা মাওলানা ইকবাল হোসাইন, মাওলানা আহমদ বেলাল, মাওলানা গাজী রহমতুল্লাহ, হাফিজ আবদুর রহমান সিদ্দিকী, মুফতী ফয়জুল হক জালালাবাদী, মাওলানা নাসির উদ্দিন, কারী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা আতাউর রহমান কোম্পানিগঞ্জী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মাওলানা খলিলুর রহমান, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা আহমদ সগীর, মওলানা ইউসুফ খাদিমানী, মাওলানা মুখলিছুর রহমান, মাওলানা হাবীব আহমদ শিহাব, মাওলানা এমদাদুল্লাহ, মাওলানা সাইফুল্লাহ, মাওলানা কাজী আবদুল ওয়াদুদ, মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ, মাওলানা আবদুল মালিক কাসিমী, মাওলানা শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইলয়াস, মাওলানা মুজিবুর রহমান কাসিমী, হাফিজ মাওলানা ফখর্জুামান, মাওলানা এবাদুর রহমান, মাওলানা আবদুল গফফার, মাওলানা রফিকুল ইসলাম, মাওলানা এমরান আলম, মাওলানা ইকবাল আহমদ,মাওলানা আবদুস সামাদ, মাওলানা সুহাইল আহমদ, মাওলানা মুশাহিদ খালপারী, মাওলানা আলী আমদ, মাওলানা আতিকুর রহমান, মাওলানা মুশফিকুর রহমান মামুন,মাওলানা মাসুক আহমদ সালামী,মাওলানা জিল্লুর রহমান,মাওলানা শিব্বির আহমদ, মাওলানা জাহিদ উদ্দীন চৌধুরী, মাওলানা হাফিজ জামিল আহমদ আনসারী,মাওলানা এহতেশাম কাসিমী,মাওলানা মামুনুর রশীদ,মাওলানা তালিব উদ্দীন, মাওলানা আলী আহমদ,মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা নূর আহমদ কাসিমী, মাওলানা ফাহাদ আমান, মাওলানা আবদুল্লাহ নেজামী,মাওলানা নিয়ামতুল্লাহ খাসদবিরী, মাওলানা অলিউর রহমান, মাওলানা হাফিজ আলী আহমদ,মাওলানা আমীন উদ্দীন, মাওলানা আবদুল মুছাব্বির, মাওলানা মাওলানা কয়েছ আহমদ, মাওলানা পীর আবদুল জব্বার,মাওলানা আফতাব উদ্দীন নোমানী,মাওলানা নাজিম উদ্দিন, মাওলানা কামরুল ইসলাম ছমীর, রোটারিয়ান মাওলানা মুহাম্মদ আলী, মাওলানা নাজমুল হোসাইন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা কবীর আহমদ খান, হাজী আব্বাস উদ্দীন জালালী,মাওলানা ইমদাদুল হক,মাওলানা আলী আবিদীন, মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম,হাফিজ ফুজায়েল আহমদ, মাওলানা তারেক আহমদ, মাওলানা একরামুল হক জুনাইদ ও মাওলানা লুৎফুর রহমান প্রমুখ।

রেজিস্ট্রারি মাঠের এই সমাবেশ নির্দিষ্ট স্থান ছাড়িয়ে আশপাশের সড়কেও ঠাঁই নেয়। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সমাবেশ লোকারণ্য হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন
সংগঠন সংবাদ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত