ঢাকা, ২৬ নভেম্বর, ২০২০
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
করোনায় আরো ৩২ জনের মৃত্যু ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ফরিদুল হক খান ভারতীয় ‘ক্রাইম পেট্রোল’ দেখে ভাই-ভাবিসহ ৪ জনকে হত্যা সুনামগঞ্জ পৌর পানি শোধনাগার উদ্বোধন করলেন পরিকল্পনামন্ত্রী জগন্নাথপুর বিবি এডুকেশন ট্রাস্টের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত করিম

`মোজে জান ভিক্ষা দে মেরা ভাই’:আকবর পেয়েছে-রায়হান পায়নি

খালেদ আহমদ

প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর ২০২০  

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রাতের আধারে টাকার জন্য 'পুলিশের বর্বর নির্যাতন' সহ্য করতে না পেরে এভাবে প্রাণরক্ষার আকুতি জানিয়েছিল, যেভাবে সামান্য একটা ছুরি দেখে ভীত হয়ে আকবর ‘মোজে জান ভিক্ষা দে মেরা ভাই’ খাসিয়দের কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাচ্ছিল। 

খাসিয়ারা কিন্তু আকবরকে হত্যা করেনি কিন্তু এদেশের পুলিশ হয়েও আকবর ও সহযোগিরা রায়হানকে বাঁচতে দেয়নি। ময়না তদন্তে রায়কানের শরীরে ১১১ টা আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ভারতের দনা সীমান্ত এলাকায় খাসিয়াদের হাতে আটকের পর এমন স্বীকারোক্তিতে জানা যায়, খুনের অভিযুক্ত এসআই (বরখাস্তকৃত) আকবর হোসেন ভুঁইয়াকে বাচঁতে পুলিশেরই এক সিনিয়র কর্মকর্তা তাকে পালিয়ে যেতে পরামর্শ দেন! 'আমারে এক সিনিয়র অফিসার বলেছেন সাসপেন্ড করেছে। গ্রেপ্তার করতে পারে। তাই তুমি আপাতত চলে যাও। কদিন পরে আইসো। ২ মাস পরে সব ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। তখন আইসো। আমি অন্য কোন কারণে ভাগিনী ভাই'।

পলাতক আকবরের গলায় খাসিয়াদের সাজে পুঁথির মালা। মুখে দাড়ি।পরনে ফুল হাতা শার্ট। রশি দিয়ে বেঁধে রাখা কোমর। প্রথম দেখাতে কারোরই বুঝতে পারার কথা না যে তিনিই বন্দরবাজার ফাঁড়ির একসময়ের দাপুটে ইনচার্জ এসআই (বরখাস্তকৃত) আকবর হোসেন ভূঁইয়া। 

হ্যাঁ তিনিই সেই এসআই আকবর। যিনি নিরিহ রায়হানকে ধরে এন ফাড়িতে 'পিঠিয়ে হত্যার পর ছিনতাইকালে গণধূলাইয়ে নিহত' বলে চালিয়ে দিতে চেয়েছিলেন।  
বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়- হত্যার পর আকবর সিনিয়রের পরামর্শে পালিয়ে গিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে খাসিয়া পল্লীতে অবস্থান নেন। সেখান থেকে ভারতীয়রা তাকে ধরে তুলে দিয়েছে কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী জনতার হাতে। আর তাদের হাত থেকেই গ্রেফতার করেছে সিলেট জেলা পুলিশ।

তবে পুলিশ সুপার দাবি করেছেন, তাদের সাজানো ছকে এবং ‘বিশ্বস্ত বন্ধুদের’ সহযোগিতায় বাংলাদেশ সীমান্ত থেকেই তারা ধরেছেন আকবরকে। 

 
আকবরের গ্রেফতারকালীন কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও চিত্র দেখে অনেকটা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে তিনি আটক হয়েছেন ভারতীয়দের হাতেই। পরে তাকে সীমান্তে হস্তান্তর করা হয়। 

ওই ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, তাকে দুটি সাদা গাড়ির মাঝখানে আটকে রেখে হাত বেঁধে প্রশ্ন করা হচ্ছে হিন্দিতে। আর আকবর ভাঙ্গা ভাঙ্গা হিন্দি ও বাংলা মিলিয়ে উত্তর দিচ্ছেন। তিনি সেই ভিডিওতে হিন্দিতে বার বার বলছেন, ‘মোজে জান ভিক্ষা দে মেরা ভাই’।

প্রশ্নকর্তারা বলছেন ইন্ডিয়া কেমনে আসছ- প্রশ্ন। আকবর বলেন, ‘ইন্ডিয়ায় একটা পরিবার আছে। বলছিল, যে গেলে এখানে থাকার জায়গা পাবে। ’ আরেকজন প্রশ্ন করছেন তুমি কি দোষ করছো সেখানে (বাংলাদেশে)। প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এক রিমান্ডে আসামিকে মারছি। আমি একা মারিনি। আরও ৬/৭জন পুলিশ ছিলো। 

এসময় একজন আকবরের দিতে ছুরি হাতে তেড়ে গেলে তিনি ভয় পেয়ে বললেন, ভাই আমি ঠিক বলছি, ঠিক বলছি। আমিও মারছি।’ এসময় তিনি বার বার প্রাণ ভিক্ষা দেয়ার আকুতি জানান তাদের কাছে। একটি বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, এই ভিডিও গ্রেফতারের আগের দিনের।

আকবরকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার আগে আরো দুটি ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। দুই মিনিটের বেশি সময় স্থায়ী দুটো ভিডিও’র প্রথমটি দুই মিনিট পাঁচ সেকেন্ডের। এতে দেখা গেছে, আকবরকে পিছমোড়া করে বেঁধে রাখা। দুই হাত পেছনে রেখে রশি টাঙিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা গেছে কয়েকজনকে। এ সময় আকবর বলেন, ‘আমাকে বলা হয়, তুমি চলে যাও, দুই মাস পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফিরে আসবা।… আমি মারিনি ভাই।’


 
দ্বিতীয় ভিডিওতে দেখা গেছে আকবর বসা। ২ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড স্থায়ী এই ভিডিওতে শোনা যায়, আকবরকে নাম জিজ্ঞেস করা হচ্ছে। এ সময় আকবর বসা ছিলেন। নাম কি? জানতে চাওয়ায় আকবর দুই হাত জোড় করে বলেন, ‘আমি আকবর’। ‘তুমি আকবর, তুমি তো পালাইয়া আসছো, হত্যা করছো?’জবাবে আকবর বলেন, ‘না, ভাই আমি মারিনি। হাসপাতালে নিয়েছি।’এ সময় সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘মাইরও না। এইটা বাংলাদেশী।…বিচার হবে। বিচার করবে তাঁরা…।’

আকবর ‘আমি বাঁচব না ভাই…’ বলে আহাজারী করছিলেন। আকবরকে নাম জিজ্ঞেস করার সময় হাতজোড় করে থাকতে দেখা যায়। যারা তাঁকে নানা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছিলেন, তাঁদের কারো কারো কথাবার্তা বাংলা হলেও খাসিয়াদের মতো টান ছিল। আর আকবরের গলায় পুঁথির মালা ছিল। অনেকটা খাসিয়া যুবকের মতো সাজে ছিলেন আকবর। কথাবার্তার একপর্যায়ে পানির বোতল এগিয়ে দেওয়া হয় আকবরকে।

ভিডিওতে যে স্থানে আকবরকে দেখা গেছে, সেটি পাহাড়ি এলাকা। ঝোপঝাড় ও ঝরনা মাড়িয়ে আকবরকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এরপর আকবরকে বাংলাদেশী জনতার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর রশি দিয়ে বেঁধে পুলিশে সোপর্দ করা হয়

আরও পড়ুন
এক্সক্লুসিভ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত