ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
২৫ জনকে আসামি করে আবরার হত্যার চার্জশিট:অভিযুক্তরা উচ্ছৃঙ্খল ছিল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তূর্ণা ও উদয়নের সংঘর্ষের নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬

প্রকাশিত: ১২ নভেম্বর ২০১৯  

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৭৬ জন যাত্রী।

সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে কসবার মন্দবাগ নামক স্থানে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর তূর্ণা নিশীথা সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

রেলওয়ে স্টেশন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, তূর্ণা নিশীথা গতকাল রাত ২টা ৪৮ মিনিটে শশীদল রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করে মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনের দিকে যাত্রা করে। ট্রেনটিকে আউটারে থামার জন্য সংকেত দেওয়া হয়। আর উদয়ন এক্সপ্রেস কসবা রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশ করার পথে ট্রেনটিকে মেইন লাইন ছেড়ে ১ নম্বর লাইনে আসার সংকেত দেওয়া হয়। উদয়নের ছয়টি বগি প্রধান লাইনে থাকতেই তূর্ণা নিশীথার চালক সিগন্যাল অমান্য করে ট্রেনটির মাঝামাঝি ঢুকে পড়ে। এতে উদয়নের তিনটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মো. জাকের হোসেন চৌধুরী বলেন, তূর্ণা নিশীথা সিগন্যাল অমান্য করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান বলেন, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ১০ জনের মৃত্যু হয়। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে আরো ছয় জন মারা যায়। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এই দুর্ঘটনায় শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কাজ শুরু করে কসবা, আখাউড়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফায়ার সার্ভিস, কসবা থানা, আখাউড়া রেলওয়ে পুলিশ, বিজিবি। ভোর সাড়ে ৫টায় উদয়ন ট্রেনের ছয়টি বগি ফেলে দিয়ে ট্রেনটি মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে যায়। পরে আখাউড়া ও লাকসাম রেলজংশন থেকে দুটি রিলিফ ট্রেন দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেন দুটি উদ্ধার কাজে অংশ নেয়।

এদিকে, ট্রেন দুর্ঘটনার পর আজ মঙ্গলবার সকালে  দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আর আহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

রেলমন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি এবং রেল মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চারটিসহ মোট পাঁচটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি তূর্ণা নিশীথার চালক সিগন্যাল অমান্য করায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেবে। এরপর কারণ জানা যাবে।’

মন্দবাগ রেলস্টেশনে দুর্ঘটনার প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা পর সকাল ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম-সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ঢাকা রেলওয়ে কন্ট্রোল রুম।

আরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত