ঢাকা, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
২৫ জনকে আসামি করে আবরার হত্যার চার্জশিট:অভিযুক্তরা উচ্ছৃঙ্খল ছিল

ব্যাংকিং কমিশনের দরকার নেই,সন্দেহ আছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০১৯  

ব্যাংকিং কমিশনের দরকার নেই বলে মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, এই কমিশন গঠনের মাধ্যমে বলা হবে গাড়ি দাও, বাড়ি দাও, টাকা দাও। এটা তাদের চাকরি ছাড়া কিছু হবে না। এই কমিশন সম্পর্কে সন্দেহ আছে

শনিবার ডেইলি স্টার ভবনে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন।

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে শনিবার ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) ও ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জাতীয় রাজস্ব (এনবিআর) বোর্ডের ব্যাপক সংস্কার করা প্রয়োজন। তবে বলা সহজ হলেও তা করা কঠিন। তিনি আলাদাভাবে জেন্ডার বাজেট, শিশু বাজেট বা জেলা বাজেট করার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সরকার অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পে নারী ও শিশুর উন্নয়নে নানা খাত থাকে। ফলে কেন আলাদা বাজেট থাকতে হবে।

এম এ মান্নান বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতায় সবার উপকার হয়। শুধু আওয়ামী লীগের ধারাবাহিকতা নয়, সামাজিক ধারাবাহিকতারও প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রয়োজন আইনের শাসনের ধারাবাহিকতা।

বৈঠকে ব্যাংক খাতে সরকার উদ্যোগে মূলধন জোগান দেওয়ার বদলে দু-একটি ব্যাংককে মরে যেতে দেওয়ার পক্ষে ব্যাংকের নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সভাপতি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। 

তিনি বলেছেন, সরকারি ব্যাংকে সরকার নিয়মিত মূলধন জোগান দিচ্ছে। এমনকি বেসরকারি ব্যাংককেও উদ্ধার করা হচ্ছে। এটা ভালো উদাহরণ তৈরি করছে না। এতে অনেকে মনে করতে পারেন, খারাপ করলে অসুবিধা কি, সরকারতো আছেই।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের উদ্দেশে মাহবুবুর রহমান বলেন, দু-একটাকে দেউলিয়া হতে দিন না।

 অনুষ্ঠানে ব্যাংক খাত নিয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক পরিচালক রকিবুর রহমানও কথা বলেন। রাজধানীর ফার্মগেটে ডেইলি স্টার ভবনে এ এই আয়োজনে ঋণখেলাপিদের ছবি ছাপিয়ে দেওয়ার পরামর্শও আসে।

এতে আইসিএবির সভাপতি এ এফ নেসারউদ্দিন, সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির, বিআইডিএসের জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো নাজনীন আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন। এতে বাজেট নিয়ে দুটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন আইসিএবির কাউন্সিল সদস্য শাহাদাত হোসেন ও স্নেহাশীষ বড়ুয়া।

মাহবুবুর রহমান বলেন, বাজেটে ব্যাংক কমিশন গঠন নিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল যে উদ্যোগের কথা বলেছেন সেটা ভালো। তবে বাংলাদেশে কমিশন হলেও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। কমিশনে কাদের নিয়োগ দেওয়া হবে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ নিয়ে যেসব নিয়মকানুন করা হচ্ছে, সেটা তাৎক্ষণিক কাগজে-কলমে কিছু সুফল মিলতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে হলে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অর্থঋণ সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তিতে হাইকোর্টে আলাদা বেঞ্চ করতে হবে।

আবুল কাসেম খানের বক্তব্যের সূত্র ধরে মাহবুবুর রহমান ঋণখেলাপিদের ছবি ছাপিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন। নেপাল ও চীনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে ঋণখেলাপিদের বিদেশে যেতে দেওয়া হয় না। দ্রুত গতির ট্রেনে চড়তে দেওয়া হয় না। বাংলাদেশেও এমন কিছু ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

আরও পড়ুন
বাণিজ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত