ঢাকা, ২২ নভেম্বর, ২০১৯
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
২৫ জনকে আসামি করে আবরার হত্যার চার্জশিট:অভিযুক্তরা উচ্ছৃঙ্খল ছিল

বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্যের টাকা সুইস ব্যাংকে : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০১৯  

একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যে মনোনয়ন বাণিজ্যটা করেছে, সেই টাকাগুলো কোথায় রেখেছে খোঁজ নিলেই সুইচ ব্যাংকের হিসাবটা মিলে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, বিএনপি দলীয় একজন সংসদ সদস্য বলেছেন টাকা সুইচ ব্যাংকে যাচ্ছে। উনি যাদের (বিএনপি) এতো প্রশংসা করেন, যাদের কথা বেশি বলেন, তাদের কথাটাই সুইচ ব্যাংকের তালিকায় বেশি এসেছে।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে ‘অর্থ বিল ২০১৯’ পাসের প্রস্তাবের ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই প্রস্তাবি নিয়ে আলোচনার জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে শারীরিক অসুস্থতার কারণে অর্থমন্ত্রীর অনুরোধে এবারই প্রথম অর্থবিল পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই কারণে তিনি গত ১৩ জুন সংসদে ওই বিলটি উত্থাপন করেন।

ওই আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুইচ ব্যাংকের টাকায় কাদের নামের তালিকা এসেছে, উনি যেন একটু ভালো করে দেখেন। যাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকেন, যাদের কথা এত বেশি বলেন, তাদের কথাটিই বেশি এসেছে। এমনও তথ্য এসেছে, ২০১৮ সালের নির্বাচন যারা (বিএনপি) ৩০০ সিটে ৬৯২ জন মনোনয়ন পেল, একটা আসনের বিপরীতে ৩ জনের অধিক বা দুই জনের অধিক মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচনের যে বাণিজ্যটা করা হলো, মনোনয়ন বাণিজ্যের সেই টাকাগুলো তারা (বিএনপি) কোথায় রাখলো? এই খোঁজটা করলেই সুইচ ব্যাংকের হিসাবটা পেয়ে যাবেন। আর বাংলাদেশ যদি কল্যাণ রাষ্ট্রই না হবে, দারিদ্রমুক্ত না হবে, মানুষের দৌড়গোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা না পৌঁছায় তবে দেশের এতো উন্নয়ন-অগ্রগতি হলো কীভাবে?

লন্ডনে পলাতক তারেক রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে বসে নানারকম চক্রান্ত করছে। তাদের চক্রান্ত থেকে দেশটা রক্ষা করব কিভাবে? যারা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছে। যারা মানিলন্ডারিং মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, যারা দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, এদের (তারেক রহমান) ব্যাপারে আরো কি করা যায় সেটাই আমাদের ভাবতে হবে।

গণফোরামের সদস্য মোকাব্বির খানের বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উনি (মোকাব্বির) এক লাখ অটোমেশন মেশিন উপহার দেবেন। এটা আমরা গ্রহণ করলাম, উনি উপহার দেবেন। এখানে জনমত যাচাই এর কোনো প্রয়োজন নাই। তিনি যখন উপহার দিতেই চাচ্ছেন, দেশকে দেবেন, তিনি যথেষ্ট স্বচ্ছল দিতেই পারবেন। দেবার মত ক্ষমতা তার আছে।

খেলাপী ঋণ নিয়ে সংসদ সদস্যদের ক্ষোভের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, খেলাপী ঋণের সংস্কৃতিটা কখন এসেছে? যখন থেকে এই দেশে সামরিক শাসন এসেছে। এই সামরিক শাসন কিভাবে এসেছে জাতির পিতার নির্মমভাবে হত্যা করে সেনা আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে সামরিক শাসক ক্ষমতা দখল করে। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর যখন দল গঠন করতে গেল তখন দল গঠন করতে গিয়ে কিছু লোককে বিশেষ সুযোগ সুবিধা দিতে গিয়ে এই ব্যাংক থেকে অকাতরে ঋণ নেওয়া এবং ঋণ পরিশোধ না করার সংস্কৃতিটা সৃষ্টি। এটা ব্যাংকের ইতিহাস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেনারেল জিয়া যখন অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছিল তখন থেকেই খেলাপী ঋণের সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল। সেখান থেকে বের করে আনা অত্যন্ত কষ্টকর। তারপরেও যখন মাঝে মাঝে ইমার্জেন্সি সরকার ক্ষমতায় আসল সমস্ত ব্যবসায়ীরা কেউ জেলে, কেউ দেশ ছেড়ে বাইরে চলে যায়। কেউবা ব্যবসা চালাতে পারছে না। তখন একটা খেলাপী ঋণ হয়ে গেল। ধারাবহিকভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থাকলে তখন কিন্তু খেলাপী ঋণের সংস্কৃতি চলে যেতে বাধ্য। ঋণ খেলাপী দূর করতে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি, নিয়ে যাচ্ছি।

কালো টাকা সাদা করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় মানুষের অপ্রত্যাশিত কিছু অর্থ আসে। কিন্তু এই অপ্রত্যাশিত অর্থটা কোনো কাজে লাগানো যায় না। তাদের যদি একটা সুযোগ দেওয়া হয়, যেন এই টাকাটা মূল ধারায় চলে আসে এবং সেটা জনগণের কাজে দেবে। কোথায় গুঁজে রাখবে বা বিদেশে পাচার করছে সেটাও একটু খতিয়ে দেখা দরকার। সেজন্য সুযোগটা দেওয়া হচ্ছে। তবে যদি দেখি সেখানে দুর্নীতি বাড়ছে, সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব এবং সেটার সুযোগ আছে। দুর্নীতিটা কখনো প্রশ্রয় দেব না। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান জিরো টলারেন্স অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত