ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২০
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
সেনাবাহিনী যেন যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে: প্রধানমন্ত্রী সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ

বাংলাদেশে দ্রুত রূপ পরিবর্তন করছে করোনাভাইরাস

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০  

বিশ্বের অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে কভিড-১৯ অনেক দ্রুতগতিতে রূপ পরিবর্তন (মিউটেশন) করছে। এসব পরিবর্তন দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের জন্য প্রধানত দায়ী।

বিশ্বে পরিবর্তনের হার ৭ দশমিক ২৩ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে এটা ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ। কভিড-১৯ জিনোম সিকোয়েন্সিং নিয়ে বিসিএসআইআর জিনোমিক রিসার্চ ল্যাবরেটরির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

এ নিয়ে রোববার সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান আফতাব আলী শেখ।

গবেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাসে মোট ২৮টি প্রোটিন থাকে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে স্পাইক প্রোটিন, যার মাধ্যমে এটি বাহককে আক্রমণ করে। করোনার নমুনা বিশ্নেষণ করে তারা দেখেছেন, স্পাইক প্রোটিনে ৬১৪তম অবস্থানে অ্যাসপার্টিক অ্যাসিডের পরিবর্তন হয়ে গ্লাইসিন হয়েছে। এতে 'জি৬১৪' নাম্বার ভ্যারিয়েন্টটি শতভাগ ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার করেছে। এই আধিপত্যের কারণে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেশি হচ্ছে।

দেশে এ পর্যন্ত ৩২৫টি করোনাভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জীবন নকশা বের করা হয়েছে। এর মধ্যে বিসিএসআইআরের জিনোমিক রিসার্চ ল্যাবরেটরির গবেষকরা ২৬৩টি করোনাভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জীবন নকশা বের করেছেন। 

এই ২৬৩টি ভাইরাসের জিন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, দেশে করোনাভাইরাসগুলোর জিনোমিক পর্যায়ে ৭৩৭টি পয়েন্টে রূপান্তর (মিউটেশন) হয়েছে। এর মধ্যে অ্যামিনো অ্যাসিড পর্যায়ে ৩৫৮ নন-সিনোনিমাস অ্যামিনো অ্যাসিডে প্রতিস্থাপন ঘটেছে।

এ ছাড়া স্পাইক প্রোটিনের জিনে ১০৩টি নিওক্লিটাইড রূপান্তরের (মিউটেশন) মধ্যে ৫৩টি নন-সিনোনিমাস অ্যামিনো অ্যাসিডে প্রতিস্থাপন ঘটেছে। এর মধ্যে পাঁচটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র, যা বিশ্বের আর কোথাও পাওয়া যায়নি।

গবেষকরা বলছেন, সারাবিশ্বে সব মিলিয়ে ছয় ধরনের করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ২৬৩টি করোনাভাইরাস পর্যবেক্ষণ করে বিসিএসআইআরের গবেষকরা চার ধরনের ২৪৩টি জিআর ক্লেড, ১৬টি জিএইচ ক্লেড, তিনটি জি ক্লেড এবং একটি ও ক্লেড করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পেয়েছেন। এ ছাড়া করোনার নমুনাগুলোর শতভাগ ক্ষেত্রে মোট চারটি মিউটেশনে পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা গেছে। এসব পরিবর্তন দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের জন্য প্রধানত দায়ী।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বলেন, করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সের কাজ করে আমরা এটি সম্পর্কে আরও জানতে পারব। তাই করোনার জিনোম সিকোয়েন্সের কাজটি চলবে।

আরও পড়ুন
এক্সক্লুসিভ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত