ঢাকা, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
‘প্রথম আলো’র সম্পাদকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ঢাবি ছাত্রীকে ধর্ষণ: আদালতে মজনুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সিলেটে বিয়ের প্রলোভনে কিশোরীকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ১ ‘হাইকোর্টের আদেশ মেনে আন্দোলন থেকে বিরত থাকুন’....কাদের দক্ষিণ সুরমায় ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিতের বিষয়ে যা বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল রিট খারিজ,৩০ জানুয়ারিই হবে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন মুজিববর্ষ উদযাপনে মহাপরিকল্পনা,বছরজুড়ে দেশ-বিদেশে ২৯৮টি অনুষ্ঠান

বাংলাদেশকে বাচাঁতে শেখ হা‌সিনা‌কে ক্ষমতায় রাখ‌তে হ‌বে: কা‌দের

খালেদ আহমদ

প্রকাশিত: ৫ ডিসেম্বর ২০১৯  

দীর্ঘ ১৪ বছর পর অনুষ্টিত সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নবীন প্রবীনের সমন্বয়ে নতুন কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। 

স‌ম্মেল‌নে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখছেন ওবায়দুল কা‌দের ব‌লেন, ৪৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়, সবচেয়ে জনবান্ধব রাষ্ট্রনায়ক হচ্ছেন শেখ হাসিনা। দে‌শের উন্নয়ন অব্যাহত রাখ‌তে শেখ হা‌সিনা‌কে ক্ষমতায় রাখ‌তে হ‌বে। একইস‌ঙ্গে আওয়ামী লীগ‌কে নতুন ম‌ডে‌লে সাজা‌তে হ‌বে। 

তিনি বলেন, বাংলা‌দেশ‌কে বাঁচা‌তে হ‌লে আওয়ামী লীগ‌কে বাঁচা‌তে হ‌বে। মু‌ক্তিযুদ্ধ‌ ও জনগণকে বাঁচা‌তে হ‌লেও আওয়ামী লীগ‌কে বাঁচা‌তে হ‌বে। আর আওয়ামী লীগ‌কে বাঁচা‌তে হ‌লে দলের ত্যাগী নেতা-কর্মী‌দের বাঁচা‌তে হ‌বে।

গতকাল বৃহস্পতিবার  সকাল ১১ টায় সম্মেলন শুরু হবার কথা থাকলে প্রায় ঘণ্টাখানেক পর দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে জাতীয় সংঙ্গীত পরিবেশন, জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি। এসময় তিনি শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়ান।  পরে কোরআন তেলাওয়াত, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিঠকও পাঠের মাধ্যমে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নিজের বক্তব্যের শুরুতেই সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, পরিবর্তন মানে বাদ দেয়া নয়। পরিবর্তন মানে নেতৃত্বের বদল, এজন্য সম্মেলন হয়। সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে নবীনের সাথে প্রবীণের মিলন ঘটে, এটাই নিয়ম।

২০০৫ সা‌লের সম্মেলনের পর ২০১১ সালে কেন্দ্র থে‌কে ক‌মি‌টি ঘোষণা হ‌লেও দীর্ঘ ১৪ বছর পর গতকাল বহুল প্রত্যাশিত সি‌লেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লী‌গের স‌ম্মেলন অনুষ্টিত হয়।

বক্তব্যে শুরুতেই সিলেটি ভাষায় জিজ্ঞেস করেন ‘আফনারা ভালানি’। তখন উপস্থিত সবাই ‘ভালা’ বললে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপিও ‘ভালা আছেন’ জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ করতে হলে ত্যাগ-তিতীক্ষা করতে হবে। স্লোগান তিয়ে নেতা হওয়া যাবে না। আর যারা মনোনয়ন বাণিজ্য করেন তারা সাবধান হয়ে যান। কারণ দেশে চলমান শুদ্ধি অভিযান চলছে। সেই অভিযানের মাধ্যমে সবাইকে ধরা হবে। একই সাথে মনোনয়ন বাণিজ্য চিরতরে বন্ধ করতে হবে।
এসময় তিনি বলেন, এখন নেতার অভাব নাই, অথচ ব্যানার লাগাতে টুকাই লাগে। সব দিকে কেবল ব্যানার ফেস্টুনের ছড়াছড়ি। সামনে একমুখ ব্যানারে অন্যমুখ। তাই মনে রাখবেন ব্যানার লাগিয়ে নেতা হওয়া যায় না।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীর পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্যে রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। সম্মেলনে জেলা ও মহানগরের ডেলিগেট ছাড়াও হাজারের উপরে কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।

জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে চমক দিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এসেছে বড় চমক। দুই শাখার সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদে ৪ জনের মধ্যে ৩ জনই নতুন মূখ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব হিসেবে তাদের নাম ঘোষণা করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। নগরীর চৌহাট্টাস্থ আলিয়া মাদরাসা মাঠে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যের শেষে ওবায়দুল কাদের নিজেদের মধ্যে সমঝোতার জন্য শীর্ষ দুই পদের প্রতিদ্বন্ধি ৩২ প্রার্থীকে ২০ মিনিট সময় দেন। পরে তাদেরকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি হোটেলে বসেন ওবায়দুল কাদের। বৈঠকে প্রার্থীরা বিষয়টি নেত্রীর উপর ছেড়ে দেন। পদপ্রত্যাশীরা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার ইচ্ছে পোষণ করলে ঢাকায় দলীয় প্রধানের সঙ্গে কথা বলে দলটির সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন নেতাদের নাম ঘোষণা করেন।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক জাকির হোসেন।
মাসুক উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার ভাই আসাদ উদ্দিন আহমদ ছিলেন মহানগরের সাধারন সম্পাদক। কমিটির সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানও চেয়েছিলেন একই পদে থাকতে। কিন্তু নেতাকর্মীদের চমকে দিয়ে এ শাখায় সভাপতি করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদকে। অন্যদিকে অধ্যাপক জাকির হোসেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।

জেলা শাখায় নতুন সভাপতি হয়েছেন এডভোকেট লুৎফুর রহমান, আর সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান। 

জেলা আওয়ামী লীগে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এবার তিনি ‘ভারমুক্ত’ হলেন।  ২০১৫ সালে তৎকালীন সভাপতি আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান মারা যাওয়ার পর লুৎফুর ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পান। এ দায়িত্বে থেকে তিনি জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন।অন্যদিকে, নাসির উদ্দিন খান দীর্ঘদিন ধরে যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অনুষ্ঠানে বি‌শেষ অ‌তি‌থির বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লী‌গের সভাপ‌তিমণ্ডলীর সদস্য নুরুল ইসলাম না‌হিদ। প্রধান বক্তা ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুুব-উল আলম হা‌নিফ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন,  উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ইনাম আহমদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সারারণ সম্পাদক  আব্দুর রহমান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য সুজিত রায় নন্দী, অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান প্রমুখ।
সম্মলেনের প্রধান বক্তার বক্তব্যে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের প্রস্তুতি ও সাজসজ্জাসহ বর্ণিল আয়োজন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। তবে সম্মেলনের শৃঙ্খলা নিয়ে ব্যথিত তিনি।

হানিফ বলেন, সম্মেলন মানে দলের নেতাকর্মীদের মিলনমেলা। দলের নেতাকর্মীদের শুশৃঙ্খল হতে হবে। কারণ আমি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সম্মেলন করেছি। এভাবে বিশৃঙ্খলা দেখিনি। এজন্য তিনি সবাইকে শৃঙ্খলা মেনে চলার আহবান জানান।

তখন হানিফ বলেন, স্লোগান দিয়ে কাউকে নেতা বানানো যাবে না। যদি মনে করেন স্লোগান দিয়ে বানানো যাবে তাহলে ভুল করবেন। বরং দলের জন্য, দেশের জন্য কাজ করতে হবে। প্রকৃত কর্মীরা কখনও ঠকেনা। কারণ তারা দলের সাথে বেঈমানি করে না। তাই দলও তাদের সাথে বেঈমানি করে না। তাই আসুন ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে উন্নয়ন বিরোধীদের জবাব দেই। এটাই হোক আজকে আমাদের প্রত্যয়।
 

আরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত