ঢাকা, ২২ মে, ২০১৯
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
ব্রেকিং নিউজ---শ্রীলংকায় ৮টি পৃথক বোমা হামলায় নিহত বেড়ে ২০৭,কারফিউ জারি ‘সরকার বেকায়দায় নেই যে খালেদাকে প্যারোলে মুক্তি দিতে হবে’ আওয়ামী লীগ সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে: প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জে যুবক খুনের নেপথ্যে নৌ-পথে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার ৮ নুসরাত হত্যা: আ’লীগ নেতা রুহুল আমিন আটক সিলেটের ওসমানীনগরে বিধবাকে ধর্ষণের অভিযোগে মামাশ্বশুর গ্রেফতার

প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে একজন শিক্ষকের ভূমিকা

মো. ময়নুল হক

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০১৫  

প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে একজন শিক্ষকের ভূমিকা
মো. ময়নুল হক
বর্তমান সরকার শিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করায় আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে।

রাতারাতি এত উন্নতির বিষয়টিকে নিয়ে আজ পৃথিবীর দরিদ্র ও উন্নয়নশীল অনেক দেশ আমাদেরকে নিয়ে গবেষণা করছে। বিশেষ করে একটি যুগপোযোগি শিক্ষানীতি প্রণয়ন শিক্ষা ব্যবস্থায় গতিশীলতা এনে দিয়েছে।

সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সকল জ্ঞানী,গুণী, দার্শনিক সবাই শিক্ষাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রগুলো শিক্ষাকেই অগ্রাধিকার দেয়ায় আজ শ্রেষ্ঠত্বের আসনে আসীন। আমরাও এক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকতে চাই না। জাতির মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আলোকিত সমাজ ও বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রত্যেককেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে গুরু দায়িত্ব পালন করতে হবে।

শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির ক্ষেত্রে সকল পেশার মানুষ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।আমরা আমাদের অবস্থান থেকে শিক্ষার উন্নয়নে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করলে কোন ভাবেই পিছিয়ে থাকার কথা নয়। এক্ষেত্রে বেশী ভূমিকা পালন করতে হবে প্রাথমিক শিক্ষাদানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক সমাজ।

বাংলাদেশ পৃথিবীর উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে একটি। এখনো আমাদের দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে ঝরে পড়া থেকে শিশুদেরকে রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ভাবে অনেক সংগঠন ও সংস্থা শিশুদেরকে স্কুলগামী করতে অর্থাৎ ঝরেপড়া থেকে শিশুদেরকে রক্ষার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচী গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সুপ্ত প্রতিভার অধিকারী শিশুদেরকে নিয়ে আমরা অনেক স্বপ্ন দেখি।

আমরা এ শিশুদের দিকে তাকালে দেখতে পাই তাদের মধ্যে লুকিয়ে আছে জাতির আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের মধ্যে কেহ প্রশাসনিক পর্যায়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হবে, কেহ জনপ্রতিনিধি হবে, কেহ রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে গুরু দায়িত্ব পালন করবে, এমন স্বপ্ন দেখাটা স্বাভাবিক।

এ স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা যিনি পালন করতে হবে তিনি হচ্ছেন আমাদের দেশের প্রাথমিক পর্যায়ের একজন শিক্ষক।

শিশুদের শুরুটা যদি ভাল না হয় তা হলে আমাদের কোন স্বপ্নই বাস্তবের মুখ দেখবে না। বাংলাদেশের প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দৈনন্দিন নানাবিধ সমস্যার মধ্য থেকেও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ও দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। শিক্ষার মূল ভিত্তি প্রাথমিক শিক্ষা দানের ক্ষেত্রে এদেশের শিক্ষক সমাজের ঐতিহাসিক ভূমিকা জাতিকে সামনের দিকে অগ্রসর করতে সব সময়ই প্রশংসার দাবী রেখেছে। তারপরও শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে একজন শিক্ষকের অনেক  দায় দায়িত্ব রয়েছে।

বর্তমান এ তথ্য প্রযুক্তির যুগে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অনেক চাহিদা রয়েছে। আমরা দেখি অনেক পরিবারের শিশুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পূর্বেই মোবাইল, কম্পিউটার ইত্যাদি বিষয়ে নিজেকে পরিচিত করার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। একজন শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তাকে স্কুলে ধরে রাখতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে হয় সেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা শিক্ষিকাকে। সে নিজে পরিবারের আঙ্গিনা থেকে বের হয়ে কখনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃংখলে বন্ধী হতে চাইবে না। তাকে বিদ্যালয়ে আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করে বিদ্যালয় মুখী করে তুলতে একজন শিক্ষক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

আমাদের প্রাণের চেয়ে প্রিয় অপূর্ব প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে লক্ষ প্রাণ আর অনেক ত্যাগের বিনিময়ে। লাখো শহীদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমাজের সকল স্তরের মানুষের একযোগে কাজ করতে হবে। একটি দেশকে গড়ে তোলার প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে শিক্ষার মূল ভিত্তি।

প্রাথমিক শিক্ষা যদি যথাযথ ভাবে সম্পন্ন করা যায় তাহলেই একটি জাতি উন্নতির পথে অগ্রসর হতে শুরু করে। বর্তমানে সমাজের সকল স্তরের মানুষই প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব সম্মন্ধে অনুধাবন করতে পেরেছে। শিক্ষার উন্নয়নের জন্য শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময় বদলেছে, বদলেছে মানুষের আশা, আনন্দ, আর দৃষ্টিভঙ্গির। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষকদেরকে প্রাথমিক শিক্ষাকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষাকে আকর্ষনীয় ও আনন্দদায়ক করে গড়ে তোলার জন্য বিদ্যালয় ও শ্রেনি কক্ষের পরিবেশ সুন্দর করে গড়ে তুলতে হবে। শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যাই নয় শিক্ষাকে বাস্তব উপকরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে বস্তুগুলো তুলে ধরতে হবে। শিক্ষার্থীদেরকে সৃজনশীল মানসিকতা বিকাশ সাধন করার জন্য মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে।

ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্বের  সাথে নিবিড় ভাবে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন ছড়া, গান, নাচ ইত্যাদির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে জড়তা কাটিয়ে বিদ্যালয়ের প্রতি আকৃষ্ট করে তুলতে হবে। শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারিরীক ও মানসিক বিকাশের জন্য বিভিন্ন খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের শারিরীক ও মেধা বিকাশের জন্য পুষ্টিকর খাবার অত্যন্ত প্রয়োজন। শিশুরা কাজের মাধ্যমে শিক্ষাগ্রহন করতে পছন্দ করে। তাই শিক্ষার্থীদেরকে হাতে কলমে শেখানোর জন্য অইখ কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এছাড়া দলীয় কাজ পরিচালনা করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন কাজে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদেরকে বিশেষ ভাবে খেয়াল রাখতে হবে যেন ওরা প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে পারে।

বিদ্যালয়ে ফুলের বাগান, সবজি বাগান ইত্যাদি তৈরি করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে উৎপাদশীল কাজের প্রতি আকৃষ্ট করে গড়ে তুলতে হবে। পরিশেষে বলা যায় যে, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষকের ভূমিকা অপরিসীম। তাই একজন শিক্ষকের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালনের মাধমে দেশ ও জাতির উন্নয়ন সম্ভব।

লেখক: মো. ময়নুল হক-সহকারী শিক্ষক,রামধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।২০১৫ সালে সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক।

আরও পড়ুন
এক্সক্লুসিভ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত