ঢাকা, ০৭ আগস্ট, ২০২০
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
সব মানুষের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক, ১১ নির্দেশনা পবিত্র হজ ৩০ জুলাই চুক্তিতে থাকা বিতর্কিত স্বাস্থ্যের ডিজি ডা. আবুল কালামের পদত্যাগ ১ আগস্ট পবিত্র ঈদুল আজহা

নিজের বাবার সাথেও প্রতারণা করেছে প্রতারক সাহেদ !

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২০  

অনিয়ম প্রতারণার দায়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ যা করেছে সেগুলোকে এখন আর শুধু প্রতারণা যাবে না, এগুলোকে মহাপ্রতারণা বলতে হবে।দিন যত যাচ্ছে ততই বেরিয়ে আসছে তার প্রতারণার নানা রকম কাহিনী।

সাহেদ শুধু বাইরের লোকদের সঙ্গেই প্রতারণা করেননি, তার জন্মদাতা বাবার করোনা পরীক্ষা নিয়েও তিনি প্রতারণা করেছেন। তার বাবা সিরাজুল করিম করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরও নিজের হাসপাতাল বাদ দিয়ে করোনা নেগেটিভ সনদ দেখিয়ে তাকে ভর্তি করেছিলেন মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেলে।

কিন্তু সেখানে তার বাবার করোনা পজিটিভ আসে। এক পর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার মারা যান সাহেদের বাবা। জন্মদাতা বাবার অসুস্থতা নিয়ে এমন প্রতারণার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করছেন অনেকে।

মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী গণমাধ্যমকে বলেছেন, গত ৪ জুলাই সিরাজুল করিমকে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করেন সাহেদ। সিরাজুল করিমের বয়স ছিল প্রায় ৭০ বছর। ভর্তি করার সময় সাহেদ জানান তার বাবার কোভিড-১৯ সংক্রমণ নেই।

তিনি বলেন, আমাদের বলা হয়েছিল, এর আগে তিনটি পরীক্ষায় সিরাজুল করিমের কোভিড-১৯ নেগেটিভ আসে। তিনটি সনদও দেখানো হয়। কিন্তু তার লক্ষণ দেখেই মনে হয়েছে কোভিড-১৯ আক্রান্ত। আমাদের এখানে পরীক্ষায় তার কোভিড-১৯ পজিটিভ আসে।’

হাসপাতালটির চিকিৎসক আজিজুর রহমান জানান, সাহেদের বাবার করোনা পজিটিভ আসলে তাকে আমরা ফোন দেই। আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, যেহেতু আপনার হাসপাতাল কোভিড রোগীদের জন্য সেখানে আপনার বাবাকে নিয়ে যান। কিন্তু সাহেদ অপারগতা প্রকাশ করেন। বলেন তার ওখানে চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।

ভর্তির দুই দিন পর সিরাজুল করিমকে আইসিইউতে নেওয়া হয় জানিয়ে ডা. আশীষ বলেন, তার ফুসফুসে সংক্রমণ ছিল। অবস্থা খারাপ হলে দুইদিন আগে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার মারা যান তিনি।

ভর্তির পর প্রথম দুই দিন সাহেদ তার বাবাকে দেখতে এসেছিলেন। তবে ৬ জুলাইয়ের পর থেকে এখানে তাদের আর কেউ আসেননি বলেও জানান ইউনিভার্সেলের এমডি।

জানা গেছে, সাহেদ বাবাকে দেখতে আসা বন্ধ করলেও তার সঙ্গে আসা লোকজন পরেও হাসপাতালে এসেছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে তার বাবা মারা যাওয়ার পরে কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি ইউনিভার্সেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে থানায় জিডি করে তারা। সাহেদের ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়ায় পরে তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের লোকজন। পরে শুক্রবার সকালে সাহেদের কেয়ারটেকার এসে লাশ বুঝে নেয়। সকালেই আজিমপুর কবরস্থানে সাহেদের বাবাকে দাফন করা হয়।
 

আরও পড়ুন
এক্সক্লুসিভ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত