ঢাকা, ২১ জানুয়ারি, ২০২১
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
করোনার টিকা পেলেই সম্মুখসারির যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী অনেকদূর এগিয়েছি সত্য,তবে যেতে হবে আরও বহুদূর:প্রধানমন্ত্রী সত্য বলায় হয়তো আমার চাকরিও থাকবে না:ওবায়দুল কাদেরের ভাই ভ্যাকসিন কবে আসবে সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না: ভারতীয় হাইকমিশন টিকা নিয়ে সরকার ‘তেলেসমাতি’ খেলা শুরু করেছে:রিজভী ২৮ জন সিলেটিসহ মাত্র ৩৪ যাত্রী নিয়ে লন্ডন থেকে আসলো বিমান

নদীর মতো থমকে গেছে কবি বাসিত মোহাম্মদের জীবন

নূর আহমদ

প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর ২০২০  

‘যেখানে নদী থমকে দাঁড়ায়’ কবি আবদুল বাসিত মোহাম্মদ এর একটি গ্রন্থ। একজন জীবনমূখি কবির জীবন কবিতার মতো আজ চিরতরে থমকে গেছে। শেষ হয়ে গেছে পৃথিবীর সব লেনদেন। চলে গেছেন মহান মাবুদের সান্নিধ্যে। এমন চলে যাওয়ায় অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে সিলেটের সাহিত্যাঙ্গনে।

প্রেম-ভালোবাসা দ্রোহ সব ছিল কবি আবদুল বাসিত মোহাম্মদ এর সংক্ষিপ্ত জীবনে। ছিলেন সত্যবাদী। জন্মদাত্রী জননীর প্রতি ভালোবাসার এক অমর দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন কবি। মায়ের মৃত্যুর পর প্রতিটি মুহূর্তে যেন তাঁর চোখে ভাসতো মায়ের অমলিন মুখ। প্রতিদিন রচনা করতেন মাকে নিয়ে কবিতা।

প্রতি বৃহস্পতি বার ও মঙ্গলবার কেমুসাস ও মোবাইল পাঠাগারে নিয়ে হাজির হতেন মাকে নিয়ে লেখা কবিতা। আবেগ আর চোখের জল ফেলে পাঠ করতেন কবিতা। একসময় সবগুলো কবিতা এক হয়ে আসে ‘ মাইজি ঘুমন্ত সুন্দর’। হয়তো এই কাব্যেগ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের কোন প্রতিশ্রুতিশীল কবির মাকে নিয়ে লেখা গ্রন্থবদ্ধ অন্যতম গ্রন্থ।

কবি আবদুল বাসিত মোহাম্মদ ছিলেন একজন শিক্ষক। নতুন প্রজন্মকে আগামী দিনের জন্য তৈরি করাই ছিল তাঁর কাজ। একজন কবি যখন শিশুদের শ্রেণীকক্ষে পাঠদান করেন, সেই পাঠদান কতটা উপভোগ্য হতে পারে, কেবল তাঁর প্রতিষ্ঠিত ছাত্ররাই ভালো বুঝতে পারবে। তবে শিশুদের প্রতি কতটা আবেগ ছিলো তাঁর শিশু সাহিত্য রচনা দেখলেই অনুমেয়।

‘তিড়িং বিড়িং প্রজাপতি’ কিংবা ‘আলো রুপা ঝন ঝন’ কবি আবদুল বাসিত মোহাম্মদ এর অনেকগুলো গ্রন্থের মধ্যে অন্যতম। নিশ্চয়ই এই কবিতাগুলো শিশু মনে আলোর সঞ্চার করে ছিল। পথ দেখিয়েছিল এগিয়ে যাওয়ার।

সিলেটি ভাষা কৃষ্টি কালচার দেশের অন্য যে কোন অঞ্চলের চেয়ে ভিন্ন। সেই সিলেটি ভাষায় কবি রচনা করেন ‘ সিলোটি ছড়া’। সিলেটি ভাষায় সাবলীল ভাবে তুলে ধরেছেন সিলেট প্রেম। ‘পাখিদের লাশ পাতা হয়ে যায়’ কবি আবদুল বাসিত মোহাম্মদ এর আরো একটি কাব্যগ্রন্থ।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারি চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণের পর যেন আর তর মন সইছিল না, ছুটে যান মক্কা- মদীনায়। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রওজার পাশে দাঁড়িয়ে নোনা জল ফেলে দিয়ে প্রার্থনা করেন তার মাইজির জন্য। মক্কা মদীনা থেকে ফিরে এসে রচনা করেন ‘নবীজীর দেশে ২৮ দিন’। সেই গ্রন্থখানি পড়লে যে কোন‌ মুমিনের মন ভরে ওঠে। পাগল পারা হয়ে ওঠে মক্কা মদীনায় ছুটে যেতে।

কবি আবদুল বাসিত মোহাম্মদ সিলেট সদর উপজেলার কুকের বাজার ইউনিয়নের তালুকদার পাড়া গ্রামে। সিলেট নগরীর চৌকিদেখি এলাকায় বর্তমান বসবাস।

কবি বাসিত মোহাম্মদ নিজ গ্রামের বাড়িতে একটি পাঠাগার করার স্বপ্ন দেখতেন। গ্রামের তরুণদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে উৎসাহিত করতেন। তালুকদার পাড়া সমাজকল্যাণ সংস্থার কার্যালয় রয়েছে তাদের পৈতৃক ভিটায়। বাকী রয়েছে স্বপ্নের পাঠাগার প্রতিষ্ঠা। মুলত পাঠাগার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন থেকেই তরুণদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।

তালুকদার পাড়া গ্রামের তরুণরা নিশ্চয়ই ‘ কবি আবদুল বাসিত মোহাম্মদ পাঠাগার’ প্রতিষ্ঠা করে কবির স্বপ্ন পূরণের মনোনিবেশ করবেন। সিলেটের ইং কৃতি সন্তান কবি আবদুল বাসিত মোহাম্মদ এর স্মৃতি রক্ষায় এগিয়ে আসবেন।

লেখক: সিনিয়র রিপোর্টার, দৈনিক সিলেটের ডাক।

আরও পড়ুন
সাহিত্য-সংস্কৃতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত