ঢাকা, ০৯ মে, ২০২১
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
মহাখালীতে দেশের সবচেয়ে বড় করোনা হাসপাতাল চালু হচ্ছে রবিবার করোনায় এক দিনে রেকর্ড সর্বোচ্চ ১০১ জনের মৃত্যু খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলবে বাসায়, একটি নতুন ওষুধ যুক্ত দিল্লিতে একটি শয্যায় দু’জন কোভিড রোগী, দৈনিক সংক্রমণ ২ লাখ দ্বিতীয় ডোজেই শেষ নয়, নিতে হতে পারে তৃতীয় ডোজও সিলেটের গোলাপগঞ্জে মন্দিরে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টা, পুরোহিত গ্রেফতার

দুই শতাধিক পুলিশ মাদ্রাসা ঘিরে যেভাবে গ্রেফতার করে মামুনুলকে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২১  


হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা মামুনুল হককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। 

রবিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তাকে গ্রেফতারের সময় প্রায় দুই শতাধিক পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিল। আশঙ্কা ছিল তাকে গ্রেফতারের পর মাদরাসার শিক্ষার্থী ও হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়বে পুলিশ। তবে তা হয়নি। খুব স্বাভাবিকভাবেই মামুনুলকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে পুলিশ। তবে মামুনুলকে নিয়ে আসার সময় হেফাজতের কর্মীরা মাদরাসার সামনে বিক্ষোভ করে।

তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, ২০২০ সালে মোহাম্মাদপুরে একটি ভাঙচুরের মামলায় মামুনুলকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মামুনুল হক ওই মাদ্রাসার দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তেজগাঁও বিভাগের শতাধিক পুলিশ প্রথমে ওই মাদ্রাসাটা ঘিরে ফেলে। এ সময় মাদ্রাসার ভেতরে দেড় শতাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন। পুলিশের অভিযানে প্রথমে তারা বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত পুলিশ দেখে হাল ছেঁড়ে দেন।

অভিযানে অংশ নেওয়া গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, মাদ্রাসার গেটে সার্বক্ষণিক পাহারা বসিয়েছিলেন মামুনুল হক। পুলিশের শতাধিক ফোর্স নিয়ে তারা মাদ্রাসায় গেলে প্রথম দিকে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিযানের মুখে পিছু হটেন তারা। পরে মাদ্রাসার দ্বিতীয় তলায় মামুনুল হকের কক্ষে গিয়ে তাকে পুলিশের সঙ্গে যেতে বলেন। তিনি নিজেও বুঝতে পারেন বাঁধা দিয়ে কোনও লাভ হবে না। তাই স্বেচ্ছায় হেঁটে গাড়িতে ওঠেন তিনি।

পুলিশ জানায়, মোদিবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে সম্প্রতি রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যপক তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এই তাণ্ডবের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে নেপথ্যে ছিলেন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক।

জানা যায়, মোদিবিরোধী বিক্ষোভের পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে একাধিক মামলা করলেও তাতে হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের নাম ছিল না। তবে ৩ এপ্রিল এক নারী সঙ্গীসহ নারায়ণগঞ্জের সোনরাগাঁওয়ের রয়েল রিসোর্টে স্থানীয় জনতার হাতে মামুনুল হক আটক হওয়ার পরই রাজধানীর মতিঝিল ও পল্টন থানায় নতুন করে হওয়া একাধিক মামলায় মামুনুল হকসহ হেফাজতের একাধিক শীর্ষ নেতাকে আসামি করা হয়।

উল্লেখ্য, সোনারগাঁওয়ের রয়্যাল রিসোর্টে কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীসহ ধরা পড়ার পর থেকেই মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় অবস্থান করছিলেন মামুনুল হক। রিসোর্টকাণ্ডের পর থেকেই সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যেই রাখা হয়েছিল তাকে। এর মধ্যে হেফাজতের মধ্যম সারির একাধিক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়।

আরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত