ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২
SylhetNews24.com
শিরোনাম:

তিন সপ্তাহ থেকে সেচ্ছায় ‘গৃহবন্দি’ শাবি ভিসি

খালেদ আহমদ, সিলেট

প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২  

`vwe‡Z Abo wkÿv_©xiv, QvÎ Dc‡`óv‡K Ae¨vnwZ

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে উত্তাল ক্যাম্পাসে এখন তেমন কোন উত্তেজনা নেই, ব্যারিকেড নেই। তবুও তিন সপ্তাহ থেকে সেচ্ছায় ‘গৃহবন্দি’ রয়েছেন ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। এর মধ্যে তিনি অফিসেও যাননি, কোথাও বের হসনি বলে ক্যাম্পাস সূত্র জানিয়েছে।
ক্যাম্পাসে ভিসির বাসা ভবনের ফটকের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান নেই, অবরোধ নেই, ক্যাম্পাসে বড় কোনো বিক্ষোভও নেই এখন, তবু ঘর থেকে বের হচ্ছেন না উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। আন্দোলনকারীদের অবরোধের পর থেকে গত ২২দিন ধরেই ঘরবন্দি আছেন তিনি। তাঁর পদত্যাগ দাবিতে টানা ১৩ দিন ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনে উত্তাল ছিলো শাবি ক্যম্পাস।
২৬ জানুয়ারী অনশন ভাঙলেও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। গান, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, রোড পেইন্টিং, মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। ভিসির পদত্যাগের দাবিতে তারাএখনো অনড়।
এদিকে, শাবির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমদকে ছাত্র উপদেষ্টা ও নির্দেশনা পরিচালক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে শাবি প্রশাসন।রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমদকে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তাকে এ পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। একই সাথে সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক আমিনা পারভীনকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়ার আগ পর্যন্ত ছাত্র উপদেষ্টা ও নির্দেশনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কয়েকটি দাবির মধ্যে ছাত্র উপদেষ্টা ও নির্দেশনা পরিচালক পদ থেকে অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমদকে অব্যাহতির দাবিও ছিল। 
উল্লেখ্য, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে গত ১৬ জানুয়ারি অবরুদ্ধ করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন সন্ধ্যায় পুলিশ শিক্ষার্থীদের উপর ব্যাপক লাঠিচার্জ, গুলি ও সাইন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে উপাচার্যকে মুক্ত করে নিজ বাসভবনে নিয়ে যায়। এরপর থেকে আর বাসা থেকে বের হননি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন। এর মধ্যে টানা নয় দিন উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে তার বাসা ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে আমরণ অনশনেও বসেন আন্দোলনকারী ২৮ জন শিক্ষার্থী। এ সময় এক দিনের জন্য তার (উপাচার্য) বাসার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়াসহ বাসার ভেতরে, বাইরে থেকে কারও প্রবেশ বন্ধ করে দেন শিক্ষার্থীরা। তবে ২৬ জানুয়ারি সকালে অনশন ভাঙার পর উপাচার্যের বাসার সামনের অবস্থান তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন সন্ধ্যায় উপাচার্যের বাসার ফটকের সামনে থেকে ব্যারিকেডও তুলে নেয়া হয়। এরপর পেরিয়ে গেছে আরও ১২দিন। তবে এখন পর্যন্ত বাসা থেকে বের হননি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন। তবে ক্যাম্পাসে না এলে বাসায় থেকেই উপাচার্য দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, এই উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন তারা। পদত্যাগ করার আগে তিনি ক্যাম্পাসে এলে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও বেড়ে যেতে পারে। 
বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক ভবনে ১৭ জানুয়ারি তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ওই দিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তবে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙার পর দিন ২৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় প্রশাসনিক কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে। অফিস করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। উপাচার্যের কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে নিজ দপ্তরে আসেননি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। 
উপাচার্যের বাসার সামনে গিয়ে দেখা যায়, বাসার ফটকটি তালাবদ্ধ। ভেতরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এই ফটকের সামনের সড়কে রং-তুলি দিয়ে ‘মৃত্যু অথবা মুক্তি’ লিখে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। উপাচার্য কার্যালয়ে না আসা প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেন জানান, ‘উপাচার্য মহোদয় নিজ বাসায় আছেন। বাসায় বসেই তিনি দাপ্তরিক কাজ করছেন। জরুরি ফাইলগুলো আমরা তার বাসায় পাঠিয়ে দিচ্ছি।’ অনশন তুলে নিলেও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে তারা ‘আলোকচিত্রে এক দফা’ নামে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র মোহাইমিনুল বাশার রাজ জানান, ‘উপাচার্যের পদত্যাগের আগ পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’ তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও গুলি ছুড়ার পরই এই উপাচার্যকে আমরা ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত করেছি। কোনো শিক্ষার্থীই তাকে ক্যাম্পাসে দেখতে চায় না। আমাদের এক দফা দাবি দ্রুত মেনে নেয়া হবে এই আশ্বাসে আমরা অনশন ভেঙেছি। আশা করছি আমাদের দাবি মেনে উপাচার্য দ্রুতই পদত্যাগ করবেন।’
গত ১৩ জানুয়ারি রাতে বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী ছাত্রী হলের অব্যবস্থাপনা দূর ও ওই হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে নামেন ছাত্রীরা। এই দাবিতে আন্দোলন চলাকালে গত ১৬ জানুয়ারি উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন আন্দোলনকারীরা। ওই দিন সন্ধ্যায় পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করলে দুই পক্ষে সংঘর্ষ বাধে। এরপর রাবার বুলেট এবং সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে উপাচার্যকে মুক্ত করে বাসায় নিয়ে যায়। রাতে নিজ বাসায় জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা ও পরদিন দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেন উপাচার্য। তবে শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্ত না মেনে ওই রাত থেকেই উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। পরদিন থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে টানা অবস্থান নেন তারা। সেখানে অনশনও শুরু করেন ২৮ শিক্ষার্থী। ২০ জানুয়ারি উপাচার্য ভবনের ফটকে ব্যারিকেড দিয়ে বাইরের কারও প্রবেশ বন্ধ করে দেন শিক্ষার্থীরা। গত ২৬ জানুয়ারি সকালে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অনশন ভেঙে উপাচার্য ভবনের ফটকের ব্যারিকেড তুলে নেন। 
এদিকে,শাবি শিক্ষার্থীরা বলেন, দায়িত্ব পালনে আপাদমস্তক ব্যর্থ ছাত্র উপদেষ্টা ও নির্দেশনা পরিচালক জহির উদ্দিন আহমদকে তার পদ থেকে অব্যহতি দিতে বাধ্য হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসের প্রায় ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত আমাদের ওপর ঝুলে থাকা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। এছাড়াও বহু শিক্ষার্থীর বিকাশ, নগদসহ বহু মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত বন্ধ আছে যা খুলে দেয়ার কোনো দৃশ্যমান প্রচেষ্টা এখনও আমাদের চোখে পড়েনি। এই সমস্ত বিষয়ে  অতিসত্বর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তারা। তারা বলেন, আমাদের মূল দাবি এখনো পূরণ হয়নি। কাজেই উপাচার্যের পদত্যাগ বা অপসারণের আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন
শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত