ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০১৯
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
ব্রেকিং নিউজ--বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয় ‘শঙ্কিত’ শাবি ভিসি অধ্যাপক ফরিদ

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০১৯  

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজীব সরকারের উপর ‘হামলাকারী’ ছাত্রলীগ কর্মীদের জঙ্গি বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। তিনি ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটরিয়ামে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আলোচনায় তিনি শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেন।

গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বাংলা বিভাগ ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রাজীব সরকারের ওপর জিইআই পাইপ, রামদা ও ইট দিয়ে হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেন বাদী হয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেনের অনুসারী আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও চার/পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

উপাচার্য বলেন, “ছাত্রলীগ নামধারী যারা, কিছুদিন আগে যেভাবে রাজীবের ওপর চাপাতি দিয়ে হামলা করেছে, আঘাত করেছে, আল্লাহর রহমতে সে কোনোভাবে বেঁচে আছে। তার মাথায় ৩০/৪০টি সেলাই দিতে হয়েছে। এরা ছাত্র নয়, ছাত্র নামধারী জঙ্গি।”
তিনি বলেন, যারা ছাত্রলীগের সুনাম ঐহিত্য নষ্ট করতে চায়, চুনকালী দিতে চায়- তাদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করতে চায়, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায়, তাদের স্থান এই বিশ্ববিদ্যালয়ে হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যারা এমন রাজনীতি করে, তোমাদের উচিত তাদের চিহ্নিত করে বের করে দেওয়া।

“অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসর ছোট হলেও ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণে বারবার গণমাধ্যমের শিরোনাম হতে হয় আমাদের।”

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “তোমরা কখনও ছাত্রদের দাবি নিয়ে আমাদের কাছে এসেছ? আস নাই। এসেছ নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে। এসেছ উন্নয়ন কাজে ভাগ বসাতে, উন্নয়ন কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে।”

উপাচার্য বলেন, ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন। ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জল ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে ছাত্রলীগ অসংখ্য গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। আমি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গর্ববোধ করি। কিন্তু ভেতরে ভেতরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড নিয়ে শঙ্কিত থাকি।’

শাবি ছাত্রলীগের সমালোচনা করে উপাচার্য বলেন, ‘আমি ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দকে বারবার বলেছি যে, তোমরা শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে আসো, আমরা সমাধান করে দেব। সেশন জট, পরীক্ষার ফলাফল, মাদকের কালো থাবা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিরাপদ রাখতে তোমরা কখনো আসোনি। তোমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কোনো দাবি-দাওয়া নিয়ে কখনো আমার কাছে আসোনি। 

অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে। এই প্রকল্পে ভাগ বসাতে শকুনের নজর পড়েছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে অশান্ত করতে চায়। তাদের পালিত কিছু গ্রুপকে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দখলে রাখতে চায় যাতে ওই গ্রুপগুলি দিয়ে ভাগ বসিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত করতে পারে।

উপাচার্য আরও বলেন, ‘রাতের বেলা হলের মধ্যে অস্ত্রের ঝনঝনানি আর সহ্য করা হবে না। ছাত্রলীগ তো আমরাও করেছি, কিন্তু এগুলো তো ছিল না। হলে হলে ঝামেলা হচ্ছে, মারামারি-কাটাকাটি হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে। ছাত্রলীগের নাম ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে সুনাম নষ্ট করে শিক্ষার পরিবেশ যে নষ্ট করবে, তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে।’

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, ‘তোমাদের অচার-আচরণে আরও সতর্ক হতে হবে। তোমাদের কাছ থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিখবে। এখানে সুন্দর গুরুগম্ভীর পরিবেশে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও শহীদদের নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এখানে স্লোগান দেওয়ার জায়গা না। স্লোগান হবে কিন্তু বাইরে হবে।’

আলোচনা সভায় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এস এম সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন।

আরও পড়ুন
শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত