ঢাকা, ২৬ মে, ২০১৯
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
ব্রেকিং নিউজ---শ্রীলংকায় ৮টি পৃথক বোমা হামলায় নিহত বেড়ে ২০৭,কারফিউ জারি ‘সরকার বেকায়দায় নেই যে খালেদাকে প্যারোলে মুক্তি দিতে হবে’ আওয়ামী লীগ সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে: প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জে যুবক খুনের নেপথ্যে নৌ-পথে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার ৮ নুসরাত হত্যা: আ’লীগ নেতা রুহুল আমিন আটক সিলেটের ওসমানীনগরে বিধবাকে ধর্ষণের অভিযোগে মামাশ্বশুর গ্রেফতার

চমক দেখিয়ে কোটা আন্দোলনের নুরুল ডাকসু ভিপি

প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০১৯  

বহুল প্রতীক্ষিত ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে বিজয়ী হয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর। তিনি ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ সমর্থিত প্যানেল থেকে ভিপি পদে নির্বাচন করেন। নুর ১১ হাজার ৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। 

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। শোভন পেয়েছেন ৯ হাজার ১২৯ ভোট।

তবে জিএস, এজিএসসহ ডাকসুর বেশিরভাগ পদে ছাত্রলীগের প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছেন। জিএস পদে গোলাম রাব্বানী ও এজিএস পদে সাদ্দাম হোসাইন বিজয়ী হন। ভিপি ছাড়াও সমাজসেবা সম্পাদক পদে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ প্যানেলের আখতার হোসেন জয়লাভ করেন।

সোমবার রাত ৩টা ২৪ মিনিটে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও পদাধিকার বলে ডাকসুর সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান ডাকসু নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন। 

ঘোষণার আগে তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর পর এ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে গিয়ে কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। হয়তো সবকিছুই নিখুঁত হয়নি। কিন্তু সার্বিকভাবে নির্বাচন অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে গণতান্ত্রিক রীতি মেনেই হয়েছে। তিনি প্রথমেই ভিপি পদে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী নুরুল হককে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। তার এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা ভুয়া ভুয়া বলে চিৎকার করতে থাকেন। পরে জিএসসহ অন্যান্য পদে  ছাত্রলীগ প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার ঘোষণা আসতে থাকলে পরিস্থিতি সাময়িক শান্ত হয়।

সার্বিক ফল ঘোষণার পর উপাচার্যকে অবরুদ্ধ রেখে ভিপি পদের ফল পুনর্বিবেচনার দাবি জানাতে থাকেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

নুরুল হক কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। আন্দোলনের সময় তিনি একাধিকবার ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন। গতকাল নির্বাচনের দিনও বেগম রোকেয়া হলে ছাত্রলীগের নারীকর্মীদের হাতে মারধরের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে ছাত্র সংরক্ষণ অধিকার পরিষদসহ আরও তিনটি প্যানেল একযোগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়। তারা ক্যাম্পাসে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও বিক্ষোভ সমাবেশেরও ঘোষণা দেয়। 

ভোট বর্জনের পর শুধু ছাত্রলীগের প্যানেলই নির্বাচনে থেকে যায়। এর ফলে সবার মধ্যে ধারণা ছড়িয়ে পড়ে, ডাকসুতে পূর্ণ প্যানেলে জয় পাবে ছাত্রলীগ। কিন্তু গভীর রাতে ভোটের ফলে নুরুল হকের জয়লাভের ঘোষণা নতুন চমক নিয়ে আসে।

ডাকসুতে নির্বাচিত অন্যরা হলেন : মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সম্পাদক সাদ বিন কাদের, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আরিফ ইবনে আলী, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক বিএম লিপি আক্তার, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাহরিমা তানজিলা অর্ণি, সাহিত্য সম্পাদক মাজহারুল কবির শয়ন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদার, সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন (স্বতন্ত্র), ছাত্র পরিবহন সম্পাদক শামস ই নোমান, ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল আহমেদ তানভীর এবং সদস্যরা হলেন যোশীশ সাংমা (চিবল), নজরুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান রাকিব, রাকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য, তানভীর হাসান সৈকত, রাইসা নাসের, সাবরিনা ইতি, ফরিদা পারভীন, নিপু ইসলাম তন্বী, সবুজ তালুকদার, তিলোত্তমা শিকদার, সাইফুল ইসলাম রাসেল ও মাহমুদুল হাসান।

নির্বাচনে ১৮টি হলের মধ্যে ভিপি পদে ছাত্রলীগের ১২ জন ও স্বতন্ত্র ৬ জন বিজয়ী হয়েছেন। জিএস পদে ছাত্রলীগের ১৪ ও স্বতন্ত্র ৪ জন জয়ী হয়েছেন

গতকাল সোমবার সকাল ৮টায় শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত ডাকসুর নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন

নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্য সংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেক আগে দুপুর ১টার দিকে নির্বাচন বর্জন করেন।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা শিক্ষকরাও ভোট নিয়ে অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন। প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেছেন, তিনি বিব্রত। তবে এসব অভিযোগ নাকচ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রলীগ। সাধারণ ভোটারদের কয়েকজন অভিযোগ করেছেন, পুরো নির্বাচন ছিল ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রিত। বহু সাধারণ ছাত্র ভোট দিতে পারেননি। ছাত্রলীগের দাবি, নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে নাটক করেছে নির্বাচন বর্জনকারীরা।

দ্বিতীয় সংসদ খ্যাত ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ ছিল দেশজুড়ে। কয়েক দিন ধরেই গণমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে এক সপ্তাহের প্রচার শেষে গতকাল সকালে ভোট শুরু হয় শান্তিপূর্ণভাবেই। 

তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আসতে থাকে কারচুপির অভিযোগ। উত্তপ্ত হয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে মুখর ছিল এ অভিযোগ নিয়ে। তবে ছাত্রলীগ এসব অভিযোগকে গুজব বলেছে। মামলা করার কথাও বলেছে।

ভোট গ্রহণ শুরুর আধঘণ্টা পর কুয়েত মৈত্রী হলে ছাত্রলীগের প্যানেলের পক্ষে ক্রস চিহ্ন দেওয়া বস্তাভর্তি ব্যালট উদ্ধারের পর চিত্র বদলে যেতে শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কারচুপির অভিযোগ স্বীকার করে হলের প্রাধ্যক্ষকে বরখাস্ত করে নতুন একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ কারণে এই হলে তিন ঘণ্টা পর ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

এরপর রোকেয়া হলেও একইভাবে ট্রাঙ্কভর্তি ব্যালট পাওয়ার দাবি করেন ছাত্রীরা। এ হলেই সবচেয়ে বেশি ভোটার। রোকেয়া হলে পাওয়া ব্যালটগুলোতে ক্রস চিহ্ন দেওয়া ছিল না বলে দাবি করে ছাত্রলীগ। এরপর একে একে কবি সুফিয়া কামাল হল, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল, স্যার এএফ রহমান হলসহ অধিকাংশ হল ঘিরেই ছাত্রলীগের কেন্দ্র দখল করে রাখা, ভোট প্রদানে বাধাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ আসতেই থাকে।

হলগুলোতে ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে ছাত্রলীগ কর্মীদের পৃথক লাইন করে শুধু তাদেরই ভোটের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন ছাত্রলীগ ছাড়া বাকি চারটি প্যানেলের প্রার্থীরা।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্যানেলের ভিপি প্রার্থী নুরুল হককে রোকেয়া হলে ছাত্রলীগ মারধর করেছে বলে অভিযোগ করেন তার সমর্থকরা। ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ও প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্যের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দীও ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনকে 'বিজয়ী করতে নীলনকশার নির্বাচন হচ্ছে' দাবি করে দুপুরেই ছাত্রলীগ বাদে অন্য সব প্যানেল একসঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন এবং ভোট বাতিল করে পুনঃতফসিলের দাবি জানান তারা।

এ দাবিতে বিক্ষোভের মধ্যেই ভোট গ্রহণ শেষে ফল ঘোষণা করা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নির্বাচন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান ডাকসু নির্বাচন অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে হয়েছে বলে ঘোষণা দেন।

তার এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ছাত্রলীগ নেতারা।

তবে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য সব প্যানেল ও ছাত্র সংগঠনের নেতারা উপাচার্যের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। তারা আজ ক্যাম্পাসে ছাত্র বিক্ষোভ কর্মসূচিরও ঘোষণা দেন। তারা আজ মঙ্গলবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।

আরও পড়ুন
শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত