ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২১
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
দক্ষিণ সুরমায় কিশোরকে অপহরণকালে আটক ১৬ জনকে পুলিশে সোপর্দ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় `টারজান` স্ত্রীসহ নিহত মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্থানীয় প্রশাসনকে লকডাউনের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রতারণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বোনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর দেশে এলো ফাইজারের ১ লাখ ৬০০ ডোজ টিকা

গোয়াইনঘাটের পল্লীতে ত্রিপল মার্ডার:মামলা দায়ের,গৃহকর্তাকেই সন্দেহ

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২১  

সিলেটের গোয়াইনঘাটে এক নারী ও তার দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গৃহকর্তা হিফজুর রহমানকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ।

সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমদ জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছেন তারা। প্রাথমিক তদন্তে গৃহকর্তা হিফজুর রহমানকে সন্দেহ করার মত কারণ পেয়েছে পুলিশ। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট। পুলিশ সুপার বলেন, “বুধবার ভোরে আত্মীয় ফয়েজ মিয়াকে মোবাইলে কল দিয়ে হিফজুর বলেন, ‘আমি অসুস্থ। হাসপাতালে নিতে হবে। টাকা-পয়সা নিয়ে দ্রুত চলে আসেন।’

এ ত্রিপল মার্ডরের ঘটনায় বুধবার রাতে নিহত গৃহবধূ আলিমা বেগমের পিতা আইয়ুব আলী বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় অজ্ঞাত আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো. আব্দুল আহাদ।

উল্লেখ্য, গতবুধবার সকালে গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামের হিফজুর রহমানের ঘর থেকে তার স্ত্রী আলিমা বেগম (৩২), ১০ বছরের ছেলে মিজান আহমদ ও ৩ বছরের মেয়ে তানিশা আক্তারের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার রাতে হিফজুরের আরেক ছেলে আফসান আহমদ (৫) তার মামার বাড়িতে থাকায় সে বেঁচে যায়। সে সুস্থ আছে।

গোয়াইনঘাট থানার ওসি বলেন, পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন করার জন্য নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে পুলিশ বেশ কিছু তথ্য পেয়েছে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পুলিশ ধারণা করছে পারিবারিক বিরোধের জেরেই এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। 

এদিকে আহতবস্থায় পুলিশের পাহারায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিহত নারীর স্বামী হিফজুর রহমান এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ। তবে, হিফজুর চিকিৎসাধীন থাকায় কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। হিফজুরের শরীরে গুরুতর কোনো আঘাত নেই।

এদিকে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) দিলিপ কুমার দাশকে।

গোয়াইনঘাট থানার ওসি আব্দুল আহাদ আরও জানান, মামলাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দিনভর কাজ করছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডে হিফজুরের জড়িত থাকার বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত বলে দাবি করছেন তিনি। ওসি জানান, হিফজুর লাউপাতা দিয়ে বটি ধরে এ হত্যাকাণ্ড চালান, যাতে তাঁর হাতের ছাপ না থাকে। মানসিকভাবে সুস্থ অবস্থায়ই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি। 

হিফজুরের স্ত্রী ও সন্তানদের শরীরে আঘাতের চিহ্নের তুলনায় হিফজুরের শরীরের আঘাত খুবই নগন্য। তাঁকে হাসপাতালে আটক হিসেবে রাখা হয়েছে, এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।
এদিকে, হাসপাতালে দেখা গেছে, ‘হিফজুর চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশের উদ্দেশ্যে বিলাপ করে বলছেন, ‘আমাকে হ্যান্ডকাফ পরান।’ তবে ওসি আব্দুল আহাদ বলছেন, নিজেকে মানসিকভাবে অসুস্থ প্রমাণ করার ভান করছেন হিফজুর। এ জন্যেই এমন আচরণ করছেন।

আরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত