ঢাকা, ২২ নভেম্বর, ২০১৯
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
২৫ জনকে আসামি করে আবরার হত্যার চার্জশিট:অভিযুক্তরা উচ্ছৃঙ্খল ছিল

‘গুরুতর’ অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ থেকে এসপি হারুনকে তাৎক্ষণিক বদলি

প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০১৯  

বিভিন্ন সময় ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত   পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদকে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে পুলিশ সুপার (টিআর) হিসেবে পুলিশ অধিদপ্তর ঢাকায় বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।টিআর হিসেবে থাকা কর্মকর্তারা কোনো দায়িত্বে থাকেন না।

প্রেসিডেন্টের আদেশক্রমে রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপ-সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস সাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। তবে 

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ‘গুরুতর’ অভিযোগের ভিত্তিতে এসপি হারুণকে নারায়ণগঞ্জ থেকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে। এদিকে আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান শওকত আজিজ রাসেল জানিয়েছেন, ৮ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে এসপি হারুণ শুক্রবার রাতে নাটক সাজিয়ে তার গাড়ি আটক করে এবং গাড়ির ভেতর মদ, গুলি রেখে তা উদ্ধার দেখান। এবং গাড়ি চালককে আটক করেন। শুধু তাই নয় তার গুলশানের বাসা থেকে তার স্ত্রী ও ছেলেকেও তুলে নিয়ে আসা হয় নারায়ণগঞ্জে। এই ঘটনায় দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী মহলে তোলপাড় শুরু হয়। শওকত আজিজ ঢাকার উত্তরা ক্লাবের সভাপতি।

জানা গেছে, ২০১১ সালে ঢাকায় তৎকালীন বিএনপির এমপি জয়নাল আবেদিন ফারুককে পেটানোর মধ্য দিয়ে আলোচিত হন ওই সময়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এডিসি হিসেবে কর্মরত হারুন। এরপর তার পদোন্নতি হলে ডিএমপির ডিসি, পরে গাজীপুরের পুলিশ সুপার থেকে সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়কালে হারুনের বিরুদ্ধে নানা অভযোগ ওঠে। তার বিরুদ্ধে ‘অবৈধভাবে’ বিপুল অর্থ আয়, জমি দখল ও প্রভাব বিস্তারসহ নানা অভিযোগ শোনা গেলেও কোনো অভিযোগেই তার কিছুই হয়নি। বরং বরাবরই প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবেই নিজ বাহিনীতেও ভালো অবস্থান পান তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জে এসপি হারুনের কয়েকটি অভিযান বিতর্কের জন্ম দেয়। এরমধ্যে ১লা অক্টোবর রাতে রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভার রসুলপুর এলাকায় কয়েল ব্যবসায়ী জামাল হোসেন বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ও ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার দেখানো হয়। এই অভিযান নিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ৩ কোটি ২০ লাখ উদ্ধার করে ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। ২রা অক্টোবর রাতে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার শিমরাইল এলাকায় নকল ইলেকট্রনিক ও প্রসাধনী সামগ্রী তৈরির অভিযোগ এনে ম্যাক্স ইলেক্ট্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ও মুনস্টার মার্কেটিং প্রাইভেট লিমিটেড একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে অন্তত ৫০ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য সামগ্রী জব্দ করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযানের নেতৃত্ব দেন পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ নিজে। পরে কারখানাটি সিলগালা করে দেয়া হয়। তবে কারখানার মালিক বেলায়েত হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন সকল বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও পরিকল্পিতভাবে অন্যের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিতেই তার কারখানার অভিযান চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

এদিকে এসপি হারুন গাজীপুর জেলায় থাকা অবস্থায় ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ২০১৬ সালে লিখিত অভিযোগ করেন আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান শওকত আজিজ রাসেল। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, এসপি হারুন অর রশিদ তার কাছে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত চাঁদার টাকা দেয়া না হলে তার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রেপ্তার, হেনস্তা, ব্যবসায়িক ক্ষতিসহ এসব প্রতিষ্ঠাগুলোকে ধবংস করে দেয়ার হুমকি দেন এসপি হারুন। এই অভিযোগে কপি, রাষ্ট্রপতি, রাষ্ট্রপতির সচিব, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ১২টি দপ্তরে দেয়া হয়। এই ঘটনায় এসপি হারুন আম্বার গ্রুপের উপর ক্ষিপ্ত হন বলে অভিযোগ করেন শওকত আজিজ রাসেল।

২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তৃতীয় দফায় গাজীপুর সদর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়ায় ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই বছরের ২১শে এপ্রিল এসপি হারুন অর রশিদকে গাজীপুর থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর প্রত্যাহারের আদেশ তুলে নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে ওই বছরের ৩রা মে গাজীপুরের পুলিশ সুপার পদে পুনর্বহাল করেন। দুই দফা মিলিয়ে চার বছর গাজীপুরে ছিলেন তিনি।
পুলিশ সুপার হারুন রশিদ ২০১৮ সালের ২রা ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের এসপি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন
এক্সক্লুসিভ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত