ঢাকা, ২২ মে, ২০১৯
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
ব্রেকিং নিউজ---শ্রীলংকায় ৮টি পৃথক বোমা হামলায় নিহত বেড়ে ২০৭,কারফিউ জারি ‘সরকার বেকায়দায় নেই যে খালেদাকে প্যারোলে মুক্তি দিতে হবে’ আওয়ামী লীগ সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে: প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জে যুবক খুনের নেপথ্যে নৌ-পথে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার ৮ নুসরাত হত্যা: আ’লীগ নেতা রুহুল আমিন আটক সিলেটের ওসমানীনগরে বিধবাকে ধর্ষণের অভিযোগে মামাশ্বশুর গ্রেফতার

কোনো প্রবলেম নেই, পুঁজিবাজার ঠিক আছে: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০১৯  

টানা তিনমাস ধরে চলা দরপতনকে পুঁজিবাজারের জন্য খারাপ মনে করছেন না অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বরং তিনি বলছেন, ‘পুঁজিবাজারের অবস্থাকে আমি খারাপ বলবো না। এটা ঠিক আছে, ভালো আছে। পুঁজিবাজারে এখন কোনো প্রবলেম নেই।’

গত ২৭ জানুয়ারির পর থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত দুই বাজারে দরপতন চলছে। এই দরপতনে সূচক কমেছে ৬০০ পয়েন্ট। এতে বিনিয়োগকারীরা পুঁজি হারিয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকা।

ক্ষতি ঠেকাতে ব্রোকারেজ হাউজ ছেড়ে রাস্তায় নেমেছে বিনিয়োগকারীরা। সোমবার সন্ধ্যায় (২২এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিএসইসি ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

তাহলে বিদেশ সফর শেষে ছুটির দিনে কেন জরুরি বৈঠকে বসেছেন এর জবাবে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী বলেন,‌‌‌ ‌‌আপনারা তো পত্রিকায় লিখছেন পুঁজিবাজার নেই, বাংলাদেশ নেই, আমরাও নেই। তাই ছুটির দিনেও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) এলাম। সব কিছু জানলাম। আমি তো পুঁজিবাজারে অবস্থা ঠিকই আছে দেখলাম।

উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, কোথায় সেই রকম ঘটনা ঘঠেছে। মার্কেট কোথায় ফল (ধস) করছে? মার্কেটের সূচক কত ছিলো আগে, সূচক ছিলো সাড়ে ৪ হাজার পয়েন্ট, সেটা বেড়ে হয়েছিলো ৫ হাজার ৯০০ পয়েন্ট। এখন সেটা কমে ৫ হাজার ৩০০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। তাতে এমন কি হয়েছে?

তাহলে মার্কেটে কোনো প্রবলেম নেই বলে মনে করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজারে উঠা-নামা করতেই পারে। গত ২০ বছর ধরে এতো লম্বা সময় ধরে মার্কেটে দরপতন হয়নি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না এটা ঠিক না। আপনি জানেন না। আগে জেনে আসুন। আর দরপতন হতেই পারে।

জাপানে তো ১৯৮৯ সালে ৩৯ হাজার ছিলো সেখান থেকে কমে ২০০৭ সালে সূচক নেমে এসেছে ৭ হাজার পয়েন্টে। আমেরিকায় ১৭ হাজার থেকে ৭ হাজার ও ভারতে ২১ হাজার থেকে ৭ হাজার এ এসেছিল। তবে ভারতে সেই সূচক এখন ২২ হাজার, ২৩ হাজার উঠে গেছে। সব জায়গাতেই এমন হয়।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে কাউকে জোর করে আনতে পারবেন না। কেউ আসতে চাইলে আসবে। না আসলে নেই। মার্কেট খারাপ আমরা দেখি না। এখানে মার্কেট চলে আপনাদের দ্বারা। আপনারাই চালাচ্ছেন। আপনারা যেভাবে চালান মনে হয় যেনো বাজারই নেই। যেভাবে আঁকে (অংঙ্কন করে) দেখান তাতে মনে হয় বাংলাদেশে শেয়ার মার্কেটেই নেই। কি যে একে দেখান তার অমি বুঝিনা।

আমার কথা বলো, আপনারা যেভাবে দেখান, সেটা হলো ভয় দেখাচ্ছেন, ভয় দেখালে তো হবে না। কারণ আমাদের দেশের বিনিয়োগকারীরা তো অনান্য দেশের মতো নয়। অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীরা লেখাপড়া জানেন,পুঁজিবাজার বুঝেন,জেনে বুঝে বিনিয়োগ করেন। আর এখানে এই সংখ্যাটা খুবই কম। সবাই যদি বুঝতেন তাহলে বাজার নিয়ে এত শক্তিশালী কমশনের দরকার ছিলো না। অনেক আইন কানুন করা হচ্ছে। শুধুমাত্র বাজারে যারা আসে তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কয়দিন পরপর পুঁজিবাজারে পতন হয়। এরইমধ্যে ১৯৯৬ ও ২০১০ সালে দুটি বড় ধস হয়েছে। এর পেছনে নিশ্চয় কেউ না কেউ আছে। এদেরকে খুঁজে বের করতে হবে।

এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে বাজারে কারসাজিকারীদের আইনের আওতায় আনা হয়। জেল জরিমানা করা হয়। সুন্দরভাবে আইন করা আছে। এমনটি পৃথিবীর অন্যান্য দেশে খুবই কম।

একসময় বাজারে মূল্য-আয় (পিই) অনুপাত ৮০-৯০ ছিল বলে জানান আহ ম মুস্তফা কামাল। এখন সেটা ১৫-২০ এর ঘরে রয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায় বাজার ভালো অবস্থানে রয়েছে। পিই কম থাকা বাজারের জন্য ভালো। এখন শেয়ার দর অতিমূল্যায়িত অবস্থায় নেই।

আরও পড়ুন
বাণিজ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত