ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি, ২০২১
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
করোনার টিকা পেলেই সম্মুখসারির যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী অনেকদূর এগিয়েছি সত্য,তবে যেতে হবে আরও বহুদূর:প্রধানমন্ত্রী সত্য বলায় হয়তো আমার চাকরিও থাকবে না:ওবায়দুল কাদেরের ভাই ভ্যাকসিন কবে আসবে সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না: ভারতীয় হাইকমিশন টিকা নিয়ে সরকার ‘তেলেসমাতি’ খেলা শুরু করেছে:রিজভী ২৮ জন সিলেটিসহ মাত্র ৩৪ যাত্রী নিয়ে লন্ডন থেকে আসলো বিমান

কিশোরী গৃহকর্মীর মৃত্যু: ডা.জামিলা দম্পতিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২০  

সিলেট নগরীর আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার ডাক্তার দম্পতির বাসায় গৃহকর্মী কিশোরী জান্নাত আক্তার রিনার (১৫) মৃত্যুর ঘটনায় ৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগ দাখিল রিনার পিতা আব্দুল মালিক।

বাদীর দাখিল করা বিভিন্ন কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আদালত ৩ দিনের মধ্যে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে মামলা নথিভুক্ত করার আদেশ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকালে সিলেটের অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (ভারপ্রাপ্ত) বিচারক জিয়াদুর রহমান এই আদেশ দেন।

অভিযুক্তরা হচ্ছেন-  সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ওয়েছ আহমদ চৌধুরী, তার স্ত্রী জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. জামিলা খাতুন, তাদের ছেলে তাহসান, মেয়ে তাসকিয়া বেগম ও গোয়াইনঘাটের আঙ্গারজুর লামাপাড়া গ্রামের হাসনা বেগম।

মামলায় ১১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ মহসীন আহমদ। তিনি বলেন, ‘কিশোরীর পিতা আব্দুল খালিক তার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে আদালতে অভিযোগ করেন।
 

এ সময় আদালতের বিচারক তাকে নানা বিষয়ে প্রশ্ন করার পাশাপাশি আব্দুল খালিকের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। সেইসঙ্গে অভিযোগপত্রে বাদীর দাখিল করা বিভিন্ন কাগজপত্র পর্যালোচনা এবং জবানবন্দিতে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর আদালত ৩ দিনের মধ্যে কোতোয়ালি থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে মামলা নথিভুক্ত করার জন্য আদেশ দিয়েছেন। আদালতের বিচারক ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৬ (৩) ধারায় এই আদেশ দেন।’


নিজের অভাবের সংসারের কারনে ভাল থাকার আশায় কোম্পানীগঞ্জের বাতুমারা নোয়াগাঁও গ্রামের আব্দুল মালিক মেয়েকে দিয়েছিলেন জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. জামিলা খাতুনের ঘরে। 

কিন্তু  গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) সিলেটের আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার ডা. জামিলা খাতুনের ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় জান্নাত আক্তার রিনার (১৫) লাশ। 

গলায় ছিলো আঘাতের চিহ্ন। রিনার পরিবারের অভিযোগ- নির্যাতনের পর হত্যা। আর ডা. জামিলা খাতুনের দাবি-আত্মহত্যা করেছে রিনা।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার পাশাপাশি কিশোরী জান্নাত আক্তার রিনার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতেন চিকিৎসক দম্পতির ছেলে তাহসান। রিনার প্রতি তার কুদৃষ্টি ছিলো।

এদিকে, অভিযুক্তরা তাদের বাসায় নেই বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। ডা. ওয়েছ আহমদ চৌধুরী ও তার স্ত্রী ডা. জামিলা খাতুনও কর্মস্থলেও যাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

রিনার পিতা আব্দুল মালিক জানান, অভাবের সংসার হওয়ায় বাসায় টুকটাক কাজ করার পাশাপাশি পড়ালেখা করানোর শর্ত দিয়ে ডা. ওয়েছ ও ডা. জামিলা খাতুনের বাসায় পাঠান রিনাকে। কিন্তু ডা. জামিলার পরিবারের সদস্যরা রিনাকে নানাভাবে অত্যাচার করতো। 

কাজে সামান্য ভুল হলেই রিনাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে অত্যাচার করতো সবাই। প্রায় সময় মেয়ে রিনা তার ওপর নির্যাতনের কথা জানালেও বাবা অভাবগ্রস্ত হওয়ায় মেয়েকে বুঝিয়ে আবারও ডা. জামিলার বাসায় পাঠাতেন।

গত ৩১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আসামি হাসনা বেগম রিনার ভাই আল আমিনের মোবাইলে ফোন করে জানান, তার বোন আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের ৪৩ নম্বর বাসা গিয়ে স্বজনরা দেখতে পান রিনার লাশ সিঁড়ির নিচে পড়ে আছে।

আব্দুল মালিক আরও বলেন, ডা. জামিলার ছেলে তাহসানের কুদৃষ্টি ছিলো রিনার প্রতি। মামলার ১১ নম্বর সাক্ষী শিরিনা বেগম আব্দুল মালিককে জানিয়েছেন, রিনা জীবিত অবস্থায় তাহসান তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে প্রায়ই নির্যাতন করতো।

উল্লেখ্য, ডা. জামিলার ফোনের ভিত্তিতে গত ৩১ অক্টোবর দুপুর ১টার দিকে আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার ৪ নং গলির ৪৩ নং (ডা. জামিলার) বাসা থেকে পুলিশ রিনার লাশ উদ্ধার করে। 

ওইদিনই ময়নাতদন্ত শেষে বিকেল সাড়ে ৫টায় রিনার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। পরে রাত সাড়ে ১০টায় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বতুমারা (নোওয়াগাও) গ্রামে পারিবারিক গোরস্থানে রিনার মরদেহ দাফন করা হয়। মৃত্যুর দুইদিন পর মঙ্গলবার আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন পিতা আব্দুল মালিক।

নিহত রিনার ভাই আল-আমিন বলেন, 'আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। প্রায় সময় তাকে মারধর করা হতো। মারধরের কারণেই আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। রিনার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ডাক্তার জামিলার ছোট ছেলে আমার বোনকে খুব বেশি অত্যাচার করতো। আমার বোন খুব সহজ-সরল ও খুব ভালো একটা মেয়ে। সে কখনোই আত্মহত্যা করবে না। আমরা আদালতে মামলা করেছি। আমার বোনকে যারা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই।
 

আরও পড়ুন
এক্সক্লুসিভ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত