ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
ব্রেকিং নিউজ--বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

কালরাত স্মরণে সিলেটসহ দেশজুড়ে ‘ব্ল্যাকআউট’ পালন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০১৯  

একাত্তরের ২৫ মার্চের গণহত্যাকে স্মরণ করে দেশব্যাপী প্রতীকী ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি পালন করলো দেশবাসী। সরকারি আদেশের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

সোমবার (২৫ মার্চ) রাত ৯টা থেকে ৯টা ১ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বন্ধ রেখে এ ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি পালন করা হয়।

সিলেটেও এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে । সিলেটে আলো ও অন্ধকারে স্মরণ করা হয়েছে ভয়াল কালরাত্রি। রাত ৯টায় প্রতীকী 'ব্ল্যাকআউট'-এর মাধ্যমে অন্ধকার করে ও পরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে আলোক প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে একাত্তরের ২৫মার্চের গত্যাহত্যার স্মরণ করা হয়।

রাত নয়টার পর সিলেটের বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে অলোকপ্রজ্জল করে সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রুতি। এর আগে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সম্মিলিত নাট্য পরিষদের অনুষ্ঠান চলাকালে ঘড়ির কাটায় ৯টা বাজার সাথে সাথে অনুষ্ঠান বন্ধ রেখে সকল আলো নিভিয়ে ১ মিনিটের জন্য প্রতীকী 'ব্ল্যাকআউট' কর্মসূচি পালন করা হয়।

এছাড়াও ২৫ মার্চ কালরাত্রি উপলক্ষে জাতির সূর্য সন্তানদের স্মরণ করতে রাত ৯টা থেকে ৯টা ১ মিনিট পর্যন্ত ব্ল্যাকআউট কর্মসূচী পালন করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), সিলেট। এসময় সিলেটের জরুরি স্থাপনা ছাড়া প্রায় সকল জায়গায় ১ মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখে পিডিবি।

এদিকে,  ব্লাকআউটের প্রধান স্থান ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। ঘড়ির কাঁটায় ৯টা বাজতেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ল্যাম্পপোস্টের আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। এসময় সবাই একাত্তরের গণহত্যার ভয়াল মুহূর্তকে স্মরণ করেন। ১ মিনিট পরই স্বাধীনতার ৪৮ বছর উপলক্ষে মশাল জ্বালানো হয়। পরে সবাই মোমবাতি হাতে আলোর মিছিল নিয়ে জগন্নাথ হল অভিমুখে রওনা দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু প্রমুখ।

এদিকে ঘড়ির কাঁটায় রাত ৯টা বাজতেই নিভে যায় জগন্নাথ হলের সব লাইট। মাইকে ভেসে আসে গোলাগুলির শব্দ, আর বিপদগ্রস্ত মানুষের আর্তনাদ। সেই আবহে কিছুক্ষণের জন্য যেন ফুটে উঠেছিল ১৯৭১ সালের ভয়াবহ সেই রাতের চিত্র। এছাড়া রাজধানীর শাহবাগ, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, পুরানা পল্টন এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতীকী ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি পালন করা হয়।

ব্ল্যাকআউট সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফায়েদ মাহমুদ স্বার্থক বলেন, এর আগে কখনো আমি ব্ল্যাকআউটের স্বাক্ষী হইনি। এবারই প্রথম। অপারেশন সার্চলাইট নামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সেই বর্বরোচিত হামলায় সমগ্র বাঙালি জাতির পাশাপাশি পুরো বিশ্ববাসী হতবাক হয়েছিলো। মধ্যযুগীয় কায়দায় পাকবাহিনী রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স, পিলখানা, ইপিআর সদর দফতর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ পুরো ঢাকা মহানগরীতে চালায় হত্যাযজ্ঞ ও অগ্নিসংযোগ। এই অন্ধকারে তারই যেন ভাব ফুটে উঠলো।

ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা। জরুরি স্থাপনা ও চলমান যানবাহন ছাড়া সারাদেশে প্রতীকী ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করে তারা। এসময় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ব্ল্যাকআউট নিয়ে তৎপর ছিলেন।

এর আগে গণহত্যা দিবস পালন উপলক্ষে ২৫ মার্চ রাত ৯টা থেকে ৯টা ১ মিনিট পর্যন্ত সারাদেশে প্রতীকী ব্ল্যাকআউট পালন করা হবে বলে জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি জানান, এই ব্ল্যাকআউটের সময় যানবাহন ও কেপিআইগুলো (গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা) এর আওতার বাইরে থাকবে। কর্মসূচি পালনের সময় সারাদেশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাতীয় সংসদের স্বীকৃতির পর একাত্তরের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞের দিনটিকে ২০১৭ সালে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

আরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত