ঢাকা, ২৩ আগস্ট, ২০১৯
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
ব্রেকিং নিউজ--বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

কারাদণ্ড-জরিমানা, কোনো কিছুতেই থামছে না মানবপাচার

প্রকাশিত: ১৭ মে ২০১৯  

সাজা, কারাদণ্ড কিংবা জরিমানা, কোনো কিছুতেই থামছে না মানবপাচারকারীদের। থামছেও না মানবপাচার। কেউ লোভে পড়ে, কিংবা কেউ অভাবের সংসারে আলো ফোটাতে বিদেশ যেতে সাহায্য নিচ্ছেন পাচারকারীদের। এতে বাড়ছে মৃত্যু, হারাচ্ছেন শেষ সম্বল।

শুক্রবার সিলেটে নিজ বাড়িতে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘মানবপাচার রোধে দেশে ৩৬টি শক্তিশালী আইন থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না।

যে কারণে এই সুযোগটি নিচ্ছে পাচারকারীচক্র। এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে তখন একটু তোড়জোড় হয়। এবার আশা করছি, পাচারকারীদের কঠিন শাস্তি হবে।’

গত রোববার লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে ৩৭ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। তিউনিসিয়ার জেলেরা ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। এদের মধ্যে ১৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পাচারকারীদের শাস্তি না হলে পাচার রোধ করা হঠিন হবে। এ ব্যাপারে বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ তারা সহজে পার পেয়ে যাচ্ছে।’

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় কয়েকজন পাচারকারী শনাক্ত হওয়ারও কথা জানান মন্ত্রী। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে পাচারকারীদের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ সময় তিউনেশিয়ায় আটকে পড়া যুবকরা দেশে ফিরতে চাইলে সরকার সহযোগিতা করবে বলেও জানান মন্ত্রী।

ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবিতে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ছিলেন সিলেট অঞ্চলের ২০ তরুণ। তাদের লিবিয়া নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে ইতালি পাঠাতে চুক্তি করেন জিন্দাবাজারের নিউ ইয়াহিয়া ওভারসিজের মালিক এনামুল হক। জানা গেছে, জনপ্রতি ৮ লাখ টাকা করে চুক্তি করেন এনামুল।

চুক্তি মোতাবেক অবৈধ পথেই তাদের সকলকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় লিবিয়ায়। সেখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কয়েকদিন বন্দী রাখা হয় অভিবাসন প্রত্যাশীদের। পরে একটি ছোট নৌকায় করে তাদের ইতালির উদ্দেশে সাগরে নামানো হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এনামুল হকের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও মানি লন্ডারিং আইনে ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় মামলা করেন ভূমধ্যসাগরে নিহত আবদুল আজিজের ভাই মফিজ উদ্দিন। তাদের স্বজদের মধ্যে আরও তিনজন রয়েছেন মৃতদের তালিকায়।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, গোলাপগঞ্জ উপজেলার পনাইরচক গ্রামের আবদুল খালিক মেম্বারের ছেলে এনামুল হককে ইতালি পাঠানোর নাম করে তার ভাইসহ অন্যদের কাছ থেকে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর থেকে এ বছরের ১০ মে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে টাকা আদায় করে। এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন, উপজেলার মানিককোনা হাওরতলা গ্রামের জায়েদ আহমেদ, ঢাকার রাজ্জাক হোসেন, সাইফুল ইসলাম, মঞ্জুর ইসলাম উরফে গুডলাক ও তাদের সহযোগী আরও ১০-১৫ জন। তারা সকলেই অভিবাসন প্রত্যাশীদের লিবিয়ায় আটকে রেখে মারপিট ও পরে মুক্তিপণও আদায় করে।

আজ শুক্রবার সিলেটের র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে এনামুলসহ তিন মানবপাচারকারীকে গ্রেপ্তারের খবর জানানো হয়। এর আগে সিলেটের অবৈধ ট্রাভেলস ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে সিলেট জেলা প্রশাসনের পাঁচটি টিম। দুদিনের অভিযানে ২৯ প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা জরিমানা, ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

তবে এই অভিযানকে যথেষ্ট মনে করছে না অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেলস এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)। সংস্থাটির সিলেট অঞ্চলের প্রধান আবদুল জব্বার জলিল জানান, এক বছর আগেই অবৈধ ট্রাভেলস ব্যবসা ও মানবপাচারের সাথে জড়িত ৭৪টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযান হল এক বছর পর।

আবদুল জব্বার জলিল বলেন, ‘এই অভিযান নিয়মিত করতে হবে। কারণ সিলেটের তরুণরা বিদেশমুখী। আর এই সুযোগে রমরমা চলছে অবৈধ ট্রাভেলস ব্যবসা।’

অবৈধ ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত আছে জানিয়ে জেলা প্রশাসনের অভিযানের সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ খান জানান, অভিযান চলবে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন আরও প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত যাদের বৈধতা নেই তাদের জরিমানা ও সতর্ক করে দিচ্ছে। সময়ও বেঁধে দিচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মানুষেরও আরও সচেতনতা দরকার। তারা যেন প্রলোভনে পড়ে অবৈধ পথে বিদেশ না যায়।

আরও পড়ুন
এক্সক্লুসিভ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত