ঢাকা, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
২৫ জনকে আসামি করে আবরার হত্যার চার্জশিট:অভিযুক্তরা উচ্ছৃঙ্খল ছিল

কর্মবিরতিতে অচল শাবি: ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি,শিক্ষকদের র‌্যালি সমাবেশ

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০১৬  

ঘোষিত অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোতে বৈষম্য ও অসঙ্গতি নিরসনের দাবিতে কর্মবিরতির তৃতীয় দিনে র‌্যালি ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে শাবি শিক্ষক সমিতি।

এছাড়া এরই মধ্যে দাবি পূরণ না হলে কর্মবিরতির পাশাপাশি বৃহস্পতিবার ও রোববার র‌্যালি ও সমাবেশ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে তৃতীয় দিনের মত কর্মবিরতি শুরু করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালযের কোনো বিভাগে ক্লাস হয়নি, পরীক্ষাও নিতে দেখা যায়নি কোনো বিভাগে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচল করলেও ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিক দিনের তুলনায় অনেক কম।

সাড়ে ১১ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের করে শিক্ষকরা। ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চেতনা একাত্তরের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয় শিক্ষক সমিতি।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল গনির পরিচালনায় এবং অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম সভাপতিত্বে এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনুছ, সিনিয়র শিক্ষক অধ্যাপক রেজাই করিম খন্দকার, অধ্যাপক ড. কামাল আহমেদ চৌধুরী, অধ্যাপক আখতারুল ইসলাম, অধ্যাপক মস্তাবুর রহমান, শিক্ষক সমিতির যুগ্মসম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. সেলিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক মো. ফারুক উদ্দিন প্রমুখ।

অধ্যাপক ড. আখতারুল ইসলাম বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে আমরাও এক ধরনের মানসিক কষ্টে আছি। আমরা দ্রুত ক্লাস রুমে ফিরে যেতে চাই। কিন্তু এ সমস্যার সমাধান যাদের হাতে তাদের কথা শুনে মনে হয় শিক্ষকতা পেশায় আসাটাই উচিত হয়নি। এরকম চলতে থাকলে ক্লাসের সেরা ছাত্রটি শিক্ষকতা পেশায় আসার উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে।

অধ্যাপক ড. কামাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে পাঁচ মিনিটেই শিক্ষকদের মর্যাদা নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান হতে পারে। আমাদের যে পাবলিক সার্ভিস কমিশনে পরীক্ষা দিয়ে সেখানে যেতে বললেন সে পরীক্ষার প্রশ্ন করে কারা? সে পরীক্ষা নেয় কারা? শিক্ষকরাও মানুষ, তাদেরকে বিতর্কিত করে ক্লাসরুম থেকে বের করে আন্দোলনে যারা নিয়ে আসছেন তারা মূলত দেশ ও জাতিকে বিপর্যস্ত করছেন। আমরা চাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রকৃত তথ্যটা যাক।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আনোয়ারূল ইসলাম বলেন, আমলারা প্রধানমন্ত্রীকে এমনভাবে ঘিরে রেখেছে যে গত আট মাস ধরে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেও পাইনি। এই ব্যাপার নিয়ে কথাও বলতে পারিনি। এসব আমলাতান্ত্রিকতার কারণে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এই দুর্গতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা সচিব হতে চাইনি কারণ আমরাই সচিব তৈরি করি। আমাদের ছাত্ররাই এখন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব। ক্লাসের সেরা সেরা ছেলে-মেয়েরা শিক্ষকতায় আসে। মর্যাদার জন্যই তারা এখানে আসে।

সভাপতি বলেন, আমরা বেতন-ভাতা বৃদ্ধির কথা বলছি না। আমরা আমাদের মর্যাদার জায়গাটা নিয়ে কথা বলছি।
পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে এই শিক্ষক নেতা বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় ফেডারেশনের কর্মসূচি অনুযায়ী চলব। এর বাইরে আগামীকাল বৃহস্পতিবার এবং রোববার সকালে র‌্যালি ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করবে বলে জানান তিনি।

সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষাও বন্ধ থাকবে বলে জানান তিনি। তবে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিলে তারা সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এই কর্মসূচি থেকে ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আরও পড়ুন
শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত