ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০১৯
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
ব্রেকিং নিউজ--বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

ওসি মোয়াজ্জেমকে খুঁজেই পাচ্ছে না পুলিশ!

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জুন ২০১৯  

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডে বিতর্কিত ভূমিকায় সমালোচিত সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতারি পরোয়ানা সোমবার ফেনীতে পৌঁছেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করে ফেনীর পুলিশ বলছে, মোয়াজ্জেম পলাতক। তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।

অবশ্য এর আগে রংপুর রেঞ্জ ও ফেনী পুলিশের মধ্যে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ঠেলাঠেলি চলছিল পরোয়ানা কে কার্যকর করবে, তা নিয়ে। গত ২৭ মে মোয়াজ্জেমকে পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ৩১ মে পরোয়ানার চিঠি ফেনী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পৌঁছলেও পুলিশ অস্বীকার করে প্রথমে। ৩ জুন পরোয়ানার চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে ফেনী পুলিশ জানায়, মোয়াজ্জেম রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত। তাই সেটি সেখানে পাঠানো হয়েছে। রংপুর রেঞ্জে পৌঁছানোর পর রেঞ্জ থেকে জানানো হয়- বিধি মোতাবেক সেটি তাদের কাছে যায়নি। পরে রেঞ্জ থেকে সেটি ফেরত পাঠানো হয় ফেনীতে। সোমবার ফেনী পুলিশ সেই পরোয়ানা হাতে পেয়েছে। 

ফেনী ও রংপুর রেঞ্জের ঠেলাঠেলির সুযোগে আত্মগোপনে চলে যান নুসরাত হত্যায় বহুল সামালোচিত ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। তাকে ১০ এপ্রিল সোনাগাজী থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। ৮ মে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে সংযুক্ত করা হয় রংপুর রেঞ্জে। জরুরি তলবে রেঞ্জ থেকে ঢাকায় আসার পর তিনি আর ফিরে যাননি রংপুরে।

পরোয়ানা মাথায় নিয়ে আত্মগোপনে থাকা মোয়াজ্জেমের বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একটা লোক পলাতক হলে তাকে গ্রেফতার করা কষ্টকর। তবে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। শিগগিরই হয়তো ধরা পড়বে এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ফেনীর পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা ফেনীতে পৌঁছেছে। অবশ্য আগে থেকেই মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করতে অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযান অব্যাহত আছে।

২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার হাতে শ্লীতহানির শিকার হন নুসরাত। এ ঘটনায় নুসরাতকে থানায় নিয়ে তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন। নুসরাতের সঙ্গে কথোপকথন মোবাইল ফোনে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন ওসি। ওই ঘটনায় মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে আদালতে মামলা করেন ব্যারিস্টার স্যায়েদুল হক সুমন। 

মামলাটি আদালতের নির্দেশে তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত শেষে পিবিআই গত ২৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় এবং ওই দিনই মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল। পরোয়ানা জারির দুই দিন পর মোয়াজ্জেম হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। আগামীকাল মঙ্গলবার আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

পিবিআইর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় আসা নুসরাতের বক্তব্য নিজের মোবাইল ফোনে রেকর্ড করেন মোয়াজ্জেম। এতে নুসরাতের ব্যক্তিগত পরিচিতি প্রকাশ পেয়েছে। ফলে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬ ধারার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। তিনি ভিডিওটি ৮ এপ্রিল শেয়ারইট অ্যাপের মাধ্যমে 'সজল' নামে একটি ডিভাইসে পাঠান। এতে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৯ ধারার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ায় সামাজিক অস্থিরতার সৃষ্টি ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটার উপক্রম হয়। এর মাধ্যমে তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩১ ধারায় অপরাধ করেছেন।

গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ১১ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন নুসরাতের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন
এক্সক্লুসিভ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত