ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
ব্রেকিং নিউজ--বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

ঐতিহাসিক দশ নম্বর আবারও নারী প্রধান মন্ত্রীর দখলে

রায়হান আহমেদ তপাদার

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০১৬  

আজ ১১ বছর পর সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়েছে।নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই তিনি ডাউনিং স্ট্রিট ছেড়ে যাচ্ছেন, যখন তাঁর সব অর্জন এক অনাবশ্যক গণভোটের আড়ালে হারিয়ে গেছে।

তিনি ইউরোপের ভবিষ্যতের ব্যাপারে চরমপন্থী ডানদের শান্ত করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরিণামে দেখা গেল, এই ডানপন্থীরা এক ছোট ক্ষতের মুখ চিরে বিশাল হাঁ বানিয়ে দিলেন, আর ক্যামেরনকে পদত্যাগে বাধ্য করলেন।
প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে সর্বশেষ টিকে আছেন দুই নারী প্রার্থী।একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেরেসা মে, অন্যজন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অ্যান্ড্রিয়া লিডসন।ফলে চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা না করেই বলা যাচ্ছে, আগামী দুই মাসের মধ্যে যুক্তরাজ্যবাসী একজন নারীকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাচ্ছেন।রানির দেশ যুক্তরাজ্যে নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি অনেকটা বিরল।দেশটির ইতিহাসে এত দিন লৌহমানবীখ্যাত মার্গারেট থ্যাচারই ছিলেন প্রথম এবং একমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রী।

এবার দ্বিতীয় কোনো নারী হিসেবে টেরেসা
মে অথবা অ্যান্ড্রিয়া লিডসন নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন।ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির এমপিদের দ্বিতীয় পর্বের ভোটাভুটিতে বিচারমন্ত্রী মাইকেল গোভ সর্বনিম্ন ৪৬ ভোট পেয়ে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়েন। মাইকেল গোভ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের সদস্যপদ ত্যাগের পক্ষে অন্যতম প্রচারক ছিলেন। সর্বোচ্চ ১৯৯ ভোট পেয়ে শীর্ষে অবস্থান করছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যুক্তরাজ্যের থাকার পক্ষে প্রচার চালানো টেরেসা মে। আর ইইউ ছেড়ে আসার পক্ষে প্রচার চালানো অ্যান্ড্রিয়া লিডসন ৮৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছেন।ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের ৩৩০ জন এমপির মধ্যে ৩২৯ জনই দলের পরবর্তী নেতা নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। 


প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার এই দৌড়ে মোট প্রার্থী ছিলেন পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রথম পর্বের ভোটাভুটিতে ঝরে পড়েন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়াম ফক্স এবং কর্ম ও পেনশন বিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ক্র্যাব।গত ২৩ জুন অনুষ্ঠিত গণভোটে ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদের পক্ষে রায় যাওয়ার পর পদত্যাগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। ক্যামেরন ইইউতে থাকার পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন।এরপরই নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয় ক্ষমতাসীন দলে।দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার এক বছরের মাথায় ক্যামেরনের চলে যাওয়া তাঁর উত্তরসূরির জন্য এক বিরল সুযোগ সৃষ্টি করে। কেননা, দলের নেতা হওয়ার টিকিট পেয়েই তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হবেন।কনজারভেটিভ পার্টির নেতা নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী, দুইয়ের বেশি প্রার্থী হলে দলের এমপিরা ভোটাভুটি করে প্রার্থীর সংখ্যা দুইয়ে নামিয়ে আনেন। এরপর দলের সাধারণ সদস্যদের সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।এমপিদের ভোটে উতরে যাওয়া টেরেসা মে এবং অ্যান্ড্রিয়া লিডসন এবার দলের সদস্যদের মুখোমুখি হবেন। দেশব্যাপী বিভিন্ন বিতর্ক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তাঁরা দল ও দেশের জন্য নিজ নিজ চিন্তা ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন।বর্তমানে কনজারভেটিভ পার্টির প্রায় দেড় লাখ সদস্য রয়েছেন। ডাকযোগে কিংবা অনলাইনে এসব সদস্য ভোট দেবেন। ভোট নেওয়া হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ওই দিনই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে জানানো হবে কে গড়বেন যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ইতিহাস


ডেভিড ক্যামেরন যখন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা নির্বাচিত হলেন, তখন আমরা তাঁর দলটাকে বদলে ফেলার সংকল্পকে খাটো করতে অনেক কথা বলেছি। কিন্তু কোনো কিছুতেই তেমন উৎসাহ সৃষ্টি হচ্ছিল না। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, ‘আপনাদের কাছে কি এমন কিছু আছে যাতে ডানপন্থীরা আরও কিছুটা বিরক্ত হবে?’ ক্যামেরনের শুরুর দিকের অবস্থাটা এমনই ছিল, যখন তিনি টোরি পার্টিকে মধ্যপন্থায় রাখার এবং ইউরোপ নিয়ে বাকোয়াসি বন্ধের জোর চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।২৬ বছর পর আবারও নারী প্রধানমন্ত্রী পেতে পারে ব্রিটেন।ব্রেক্সিটের পক্ষে নেতৃত্বদানকারী বরিস জনসন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড় থেকে সরে দাঁড়ানোয় এ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঐতিহাসিক ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বের হওয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত আসায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন।ক্যামেরনের উত্তরাধিকারী হওয়ার লড়াইয়ে এখন এগিয়ে আছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেরেসা মে।ক্যামেরনের মন্ত্রিসভার বেশিরভাগ সদস্য তাকেই ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইছেন।এর ফলে আবারও নারী প্রধানমন্ত্রী যুগে ফিরতে যাচ্ছে ব্রিটেন। তেরেসা মে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় আরও এক নারী যোগ হবেন।ব্রিটেনের সর্বশেষ নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন লৌহমানবী খ্যাত মার্গারেট থ্যাচার।থ্যাচার ১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত টানা ১১ বছর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন।তার সময়েই ঐতিহাসিক ফকল্যান্ড যুদ্ধে ব্রিটিশরা আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে ফকল্যান্ড দ্বীপটি দখল করে নেয়।


৫৯ বছর বয়সী থেরেসা লৌহমানবী মার্গারেট থ্যাচারের পর দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করতে চলেছেন।থেরেসা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এক সময় ব্রেক্সিটবিরোধী প্রচারণা চালালেও এখন আর ইইউতে যাওয়ার কোনো চিন্তা নেই।পেছনের দরোজা দিয়ে ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়ারও কোনো চেষ্টা হবে না। এমনকি দ্বিতীয় কোনো গণভোটেরও আয়োজন হবে না।৫৯ বছর বয়সী থেরেসা মে ব্রেক্সিটবিরোধী প্রচারণা চালালেও অভিবাসী প্রশ্নে কঠোর বলে পরিচিত। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনা করা এ নারী ১৯৯৭ সাল থেকে পার্লামেন্ট সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করছেন। আর ৬ বছর ধরে অর্থাৎ ২০১০ সাল থেকে সামলাচ্ছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।ছয় বছর প্রধানমন্ত্রিত্ব করার পর ক্যামেরন বিদায় নিলেন। তবে আমরা ধন্যবাদ দিতে পারি, কারণ তাঁর বিরুদ্ধে ডানপন্থীদের অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়েছে। হ্যাঁ, এটা ঠিক একদল গুপ্ত ষড়যন্ত্রকারী রক্ষণশীল ক্যামেরনকে তাড়ালেন, যাঁদের সঙ্গে ছিল আরেক দল বেকুব মধ্যপন্থী, যাঁরা ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সাধারণ বোধবুদ্ধির ওপরে স্থান দিয়েছিলেন।এখন ব্রিটেনকে ব্রেক্সিটের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে। কিন্তু অন্তত এটা তো হয়েছে যে এই কট্টর ডানপন্থীরা পার্টি দখল করতে বা তাঁদের মনোনীত কাউকে ক্ষমতায় বসাতে পারেননি।যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম এবংএকমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার পদত্যাগ করেছিলেন ১৯৯০ সালের ২২ নভেম্বর।গত দুই দশকে গণতন্ত্রের সূতিকাগার খ্যাত ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর আসনে আর কোনো নারীকে দেখা যায়নি।ধারণা করা হচ্ছে, ব্রেক্সিট আবার সেই সুযোগ করে দিল।গণভোটের রায়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে এসেছে ব্রিটেন।তার জেরেই প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের বিদায় আসন্ন। দেশের শাসক দল কনজারভেটিভ পার্টি নতুন প্রার্থী হিসেবে যে দুই জনের নাম জানিয়েছেন,তারা হলেন টেরেসা মে এবং আন্ড্রিয়া লিডসোম।কনজারভেটিভ পার্টির এই দুই নেত্রীর মধ্যেই একজন হতে চলেছেন পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।


অপরদিকে ১৯৯টা ভোট পেয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী তেরেসা।২০১০ সাল থেকে দেশের স্বরাষ্ট্র সচিবের পদ সামলাচ্ছেন রিমেন-পন্থী এই নেত্রী।বুকিরা কিন্তু তাঁর পক্ষেই বাজি ধরছেন।তেরেসা বলেন, কয়েক জন সুবিধাভোগীর জন্য নয়।ব্রিটেন যাতে সব শ্রেণির মানুষের বসবাসযোগ্য হয়,সেই চেষ্টাই করব।টেরেসা মে কিছুটা পাগলাটে স্বভাবের। রাজনীতিক হিসেবে তাঁকে বিরলই বলতে হয়, কারণ এত দীর্ঘ সময় রাজনীতিতে থেকেও তিনি লোকচক্ষুর আড়ালেই ছিলেন। টেরেসা বেশ কঠিন স্বভাবের একজন মানুষ। তিনি টোরি পার্টির প্রতিনিধিদের মুখের ওপর বলে দেন,লোকে তাদের জঘন্য পার্টি মনে করে, আবার পুলিশের কাছে কঠিন সত্য বলতেও তিনি পিছপা হন না।তবে অভিবাসন-বিষয়ক তাঁর মনোভাবের ব্যাপারে আমি ভীত।এমনকি তিনি বিদেশি ছাত্রদেরও ছাড় দিতে নারাজ।দুর্ভাগ্যের ব্যাপার হলো,সরকারি সেবাব্যবস্থা যে বহুদিন ধরে ব্যর্থ হচ্ছে, তার দায় সবাই বিদেশিদের ঘাড়ে চাপাতে চায়,নিজেদের নয়।কিন্তু তা সত্ত্বেও টেরেসা মে মানুষকে তাক লাগিয়ে দিতে পারেন।যাজকের মেয়ে হিসেবে তাঁর মধ্যে বোধবুদ্ধিসম্পন্ন প্রধান শিক্ষিকার চরিত্র আছে,যিনি কথা বলেন খুব কম, যাকে প্রায়ই প্রথাগত শায়ার টোরি বলা হয়।তবে তিনি নিশ্চিতভাবে ব্যবহারিক প্রকৃতির মানুষ, যিনি মেপে মেপে সিদ্ধান্ত নেন এবংসেগুলো বাস্তবায়নও করেন।তিনি অতিমাত্রায় নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাশী,যাকে ডাউনিং স্ট্রিটের জন্য প্রয়োজনীয় আলোচনা বা সমঝোতার শিল্পটা শিখতে হবে।তিনি দেশকে নাড়া দেওয়ার মতো আদর্শবাদী নন, ফলে তিনি সাধারণ ব্যঙ্গ চরিত্রের চেয়ে বেশি জটিল ও আকর্ষণীয়।এ কথা ভোলা যাবে না যে আজ থেকে ১৪ বছর আগে এই টেরেসা মে টোরি দলের সম্মেলনে সাহসের সঙ্গে বলেছিলেন, সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে টোরি দল ঠিক পথে নেই।প্রচারকেরা এটা ভালো বলতে পারবেন টেরেসা মে সাধারণত পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন ও স্টপ অ্যান্ড সার্চের সময় বর্ণবৈষম্যের ব্যাপারে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।পুরুষ সমকামীর বিয়েতে সমর্থন দেওয়ার জন্য উদার গণতন্ত্রী মন্ত্রীরা তাঁকে আলাদাভাবে প্রশংসা করেছেন।


১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে স্থানীয় সময় সোমবার ক্যামেরন বলেন, বাকিংহাম প্যালেসে বুধবার রানীর কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দেবেন তিনি।বিট্রেনের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রতিযোগিতা থেকে সোমবার সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে যাওয়ার পক্ষে প্রচার চালানো অ্যান্ড্রিয়া লিডসন।তিনিই ছিলেন ক্যামেরনের উত্তরসূরি হওয়ার জন্য তেরেসার সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বী।এদিকে শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে তেরেসা মে-কে দলীয় প্রধান হিসেবে ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কমিটির প্রধান গ্রাহাম ব্রাডি।ঝানু রাজনীতিক হিসেবে মে জানেন, কনজারভেটিভ পার্টির তেড়েফুঁড়ে ডান দিক ধরে না হেঁটে মাঝপথ বরাবর হাঁটার মহিমা কী,বিশেষ করে লেবার পার্টি যখন নিজের সমস্যা নিয়েই ব্যতিব্যস্ত। তাঁর শেষ বক্তৃতার কথাই ধরুন,সেখানে মে বলেছেন, তাঁর সরকার গরিব, কালো,শ্বেতাঙ্গ শ্রমিক ও মানসিক রোগীদের জন্য কাজ করবে।তিনি বিশ্বাস করেন, করপোরেট কায়েমি স্বার্থের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই চালালে দেশকে যেমন আবার একত্র করা যাবে, তেমনি ‘অভিজাতদের’ ব্যাপারে মোহভঙ্গ ভোটারদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাবে।বিশেষ করে এমন এক সময়ে তিনি এটা করতে পারেন, যখন করপোরেট কর্তারাই বিশ্বাস করছেন, তাঁদের বেতন অনৈতিক পর্যায়ে চলে গেছে।ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী পদে কালই প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের উত্তরসূরী হিসেবে আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেরেসা মে।ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলে তার প্রতিদ্বন্দ্বী জ্বালানিমন্ত্রী অ্যান্ড্রে লিন্ডসম গতকাল সোমবার সরে দাঁড়িয়েছেন।এরপর তেরেসা মে বলেছেন, ব্রেক্সিট তো ব্রেক্সিটই।অর্থাত্ ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাবে। আর লিন্ডসমও বলেছেন, ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের জন্য তেরেসা মেই উপযুক্ত।


ব্রেক্সিটপন্থীরা লিন্ডসমের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় হতাশা প্রকাশ করেছেন।সম্প্রতি তেরেসা মে কে নিয়ে মন্তব্য করার পর দু:খ প্রকাশ করেন লিন্ডসম। রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ বর্তমানে স্কটল্যান্ডে আছেন।তবে এক মন্ত্রী জানিয়েছেন,মঙ্গলবারই তিনি লন্ডনে ফিরবেন। তেরেসা মে জানিয়েছেন,তিনি এই বছরের শেষ নাগাদ আর্টিকেল-৫০ এর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।কারণ দুই বছর পর্যন্ত ব্রিটেন ইউনিয়নে থাকতে পারবে।হাউস অব কমন্সে আর্টিকেল ৫০ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন সাংবাদিক দের বলেন, লিন্ডসম সরে দাঁড়িয়ে ভাল কাজ করেছেন। তিনি মনে করেন,তেরেসা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য। তিনি মে কে সমর্থন দেবেন বলেও জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নেতা নির্বাচিত হওয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে বেশি দেরি করার দরকার নেই।তাই আমি মঙ্গলবারই মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠক করবো।বুধবার পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে শেষবারের মতো অংশগ্রহণ করবো। এরপর আমি বাকিংহাম প্রাসাদে যাবো এবং রানীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেব। যদিও গণভোটে ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় আসার পর তিনি আগামী অক্টোবরে পদত্যাগের কথা জানিয়েছিলেন।জানা গেছে,ডেভিড ক্যামেরন রানীর কাছে পদত্যাগপত্র দিয়ে তার স্থানে তেরেসা মে কে স্থলাভিষিক্ত করার সুপারিশ করবেন। এরপর মে প্রাসাদে যাবেন এবং সরকার গঠনে তার আমন্ত্রণ গ্রহণ করবেন।এরপর বুধবার সন্ধ্যায় তেরেসা মে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিবেন।তবে ক্যামেরনের পরিবার কখন ১০ নং ডাউনিংস্ট্রিট ছাড়বেন তা জানা যায়নি।গতকাল পার্লামেন্টের বাইরে তেরেসা মে উন্নত ব্রিটেন গড়ার অঙ্গীকার করেন।তিনি ব্রেক্সিটকে সফল করারও অঙ্গীকার করেন।এর আগে কনজারভেটিভ পার্টির ১৯২২ কমিটি জানায়,তেরেসা মেই দলের নেতা।কনজারভেটিভ পার্টির প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার সদস্যের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বি তা করার কথা ছিল এই দুই নারীর।এ নির্বাচনের ফল প্রকাশের কথা ছিল ৯ সেপ্টেম্বরে।কিন্তু তার আগেই সোমবার লিডসম সরে দাঁড়ান।এর আগে যুক্তরাজ্যে গত ২৩ জুনে অনুষ্ঠিত গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে দেশটির বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষ জয়ী হওয়ার পর পদত্যাগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন।তিনি ইইউতে ব্রিটেনের থেকে যাওয়ার পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন


কিন্তু প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদে একটি প্রশ্ন তাঁর মাথার ওপর ঝুলবে,সেটা হলো কীভাবে ব্রেক্সিটের দুঃস্বপ্নের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। তাঁর একজন সহযোগী পরামর্শ দিয়েছেন, ব্রেক্সিটের ফলে অনিবার্যভাবে যে মন্দা হবে, তাতে অভিবাসন এমনিতেই কমে আসবে, যেটা তাঁকে সীমান্ত বন্ধ না করে মুক্তবাজারের পক্ষে থাকার সুযোগ করে দেবে, যার মাধ্যমে আবার ভোটারদেরও নিশ্চিন্ত রাখা যাবে। কিন্তু খুব ছোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও তিক্ত ডানপন্থীদের নিয়ে সমস্যার সমাধান বের করা তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে, যেখানে তাঁকে রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে অর্থনৈতিক চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। কিন্তু দুঃখের কথা হলো, টেরেসা মে হয়তো আরও একজন টোরি প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন, যাঁর শাসনামল সংকীর্ণমনা ইংরেজদের কারণে ক্ষতবিক্ষত হবে, যাঁরা ইউরোপের চেয়ে নিজেদের স্বার্থপরতাকেই বেশি মূল্য দেয়।প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে সর্বশেষ টিকে আছেন দুই নারী প্রার্থী। একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেরেসা মে,অন্যজন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অ্যান্ড্রিয়া লিডসন।ফলে চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা না করেই বলা যাচ্ছে,আগামী দুই মাসের মধ্যে যুক্তরাজ্য বাসী একজন নারীকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাচ্ছেন।রানির দেশ যুক্তরাজ্যে নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি অনেকটা বিরল।দেশটির ইতিহাসে এত দিন লৌহমানবী খ্যাত মার্গারেট থ্যাচারই ছিলেন প্রথম এবং একমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রী। এবার দ্বিতীয় কোনো নারী হিসেবে টেরেসা মে অথবা অ্যান্ড্রিয়া লিডসন নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন।ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির এমপিদের দ্বিতীয় পর্বের ভোটাভুটিতে বিচারমন্ত্রী মাইকেল গোভ সর্বনিম্ন ৪৬ ভোট পেয়ে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়েন। মাইকেল গোভ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের সদস্যপদ ত্যাগের পক্ষে অন্যতম প্রচারক ছিলেন।সর্বোচ্চ ১৯৯ ভোট পেয়ে শীর্ষে অবস্থান করছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যুক্তরাজ্যের থাকার পক্ষে প্রচার চালানো টেরেসা মে।আর ইইউ ছেড়ে আসার পক্ষে প্রচার চালানো অ্যান্ড্রিয়া লিডসন ৮৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছেন।ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের ৩৩০ জন এমপির মধ্যে ৩২৯ জনই দলের পরবর্তী নেতা নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।


প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার এই দৌড়ে মোট প্রার্থী ছিলেন পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রথম পর্বের ভোটাভুটিতে ঝরে পড়েন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়াম ফক্স এবং কর্ম ও পেনশন বিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ক্র্যাব।গত ২৩ জুন অনুষ্ঠিত গণভোটে ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদের পক্ষে রায় যাওয়ার পর পদত্যাগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন।ক্যামেরন ইইউতে থাকার পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন।এরপরই নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয় ক্ষমতাসীন দলে।দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার এক বছরের মাথায় ক্যামেরনের চলে যাওয়া তাঁর উত্তরসূরির জন্য এক বিরল সুযোগ সৃষ্টি করে।কেননা, দলের নেতা হওয়ার টিকিট পেয়েই তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হবেন।কনজারভেটিভ পার্টির নেতা নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী,দুইয়ের বেশি প্রার্থী হলে দলের এমপিরা ভোটাভুটি করে প্রার্থীর সংখ্যা দুইয়ে নামিয়ে আনেন। এরপর দলের সাধারণ সদস্যদের সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।এমপিদের ভোটে উতরে যাওয়া টেরেসা মে এবংঅ্যান্ড্রিয়া লিডসন এবার দলের সদস্যদের মুখোমুখি হবেন।দেশব্যাপী বিভিন্ন বিতর্ক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তাঁরা দল ও দেশের জন্য নিজ নিজ চিন্তা ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন।বর্তমানে কনজারভেটিভ পার্টির প্রায় দেড় লাখ সদস্য রয়েছেন। ডাকযোগে কিংবা অনলাইনে এসব সদস্য ভোট দেবেন। ভোট নেওয়া হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।ওই দিনই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে জানানো হবে কে গড়বেন যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ইতিহাস।

-রায়হান আহমেদ তপাদার:
[email protected]
আরও পড়ুন
এক্সক্লুসিভ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত