ঢাকা, ২১ অক্টোবর, ২০১৯
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
ব্রেকিং নিউজ--বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই লম্পট বদমাইশ শিক্ষক মাহফুজ ২ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশিত: ৪ মে ২০১৬  

ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(এইউএসটি)সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহফুজুর রশীদ ফেরদৌসের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দেলোয়ার হোসেন এ আদেশ দেন। এর আগে দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা কলাবাগান থানার উপ-পরিদর্শক শামীম আহমেদ।

ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল সায়েম মঙ্গলবার রাতে কলাবাগান থানায় মামলা করেন।                                                  

বুধবার ভোরে রমনা এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে কলাবাগান থানার এসআই শামীম আহাম্মেদ জানান।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতে আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুল্লাহ আল সায়েম কলাবাগান থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। ওই মামলাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে এসআই শামীম জানান, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় আহসানউল্লাহ ক্যাম্পাস হলেও কলাবাগান থানাধীন পান্থপথ এলাকায় ওই শিক্ষকের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। তবে তিনি সাধারণত রমনা থানা এলাকার বাসায় থাকতেন।

তড়িৎ কৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহফুজুর রশিদ ফেরদৌস সহকারী প্রক্টরের দায়িত্বও পালন করে আসছিলেন।

বিভিন্ন সময়ে নিজের বিভাগের ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত শনিবার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মাহফুজুর রশিদ ফেরদৌসের স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবার নিয়ে হলি ফ্যামিল রেড ক্রিসেন্ট এলাকার একটি ফ্ল্যাটে থাকেন যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত মাহফুজ।আরেকটি ফ্ল্যাট রাজধানীর পান্থপথ আবাসিক এলাকায়।

প্যরাডাইস সুইটসের পাশে শ্বশুরের কাছ থেকে উপহার পাওয়া ওই ফ্ল্যাটে শিক্ষার্থীদের ব্ল্যাকমেইল করে এনে জোরপূর্বক যৌন হয়রানি করে আসছিলেন।

মাহফুজের ব্ল্যাকমেইল করার পদ্ধতি ছিল ভিন্ন। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পড়া বোঝানোর নামে শিক্ষার্থীদের ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতেন। দ্বিমত করলে শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়া হত। ফলাফল সেমিস্টার ড্রপ আউট।

ব্লেকমেইলের পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা আরো জানান, ফ্ল্যাটে ডেকে কৌশলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে তিনি (শিক্ষক) তার অফিসিয়াল নম্বরে আজেবাজে ম্যাসেজ পাঠিয়ে রাখতেন, যা দিয়ে পরবর্তীতে তাদের ফাঁদে ফেলতেন।

এসব কৌশল অবলম্বন করে মাহফুজুর রশিদ শিক্ষার্থীদের বাধ্য করতেন পান্থপথের ফ্ল্যাটে নিয়ে যেতে। সেখানে নিয়ে যৌন নিপিড়ন এবং শারীরিক নির্যাতন করতেন।

এ কৌশলে অসংখ্য ছাত্রীর সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছেন লম্পট ওই শিক্ষক। যার স্বাক্ষী পান্থপথের সেই ফ্ল্যাট। কথা না শুনলে ভার্সিটিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর চরিত্র নিয়ে কুৎসা রটানোর হুমকিও দেয়া হতো।

শিক্ষার্থীদের মোবাইলে নিজের ন্যুড পিক পাঠানো ছিল ওই শিক্ষকের কাছে অতি সহজ একটা ব্যাপার। আজেবাজে টেক্সটিং, যা হরহামেশাই পাঠানো হত।

ওই শিক্ষকের শাস্তি দাবিতে শনিবার প্রতিষ্ঠানটির তেজগাঁও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

তড়িৎ কৌশল বিভাগের ছাত্র মোহাইমিনুল সে সময় বলেন, উনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ডিপার্টমেন্টের ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও কয়েকবার তিনি একই কাজ করেছেন।

‘সর্বশেষ এ সংক্রান্ত একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করেছিলাম। এরপর তিনি ওই ছাত্রীকে চাপ নিয়ে মিথ্যা বিবৃতি লিখিয়ে নেন। আমাদের দাবি, অবিলম্বে এই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করতে হবে এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’

পরে বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে বৈঠক করে উপাচার্য অধ্যাপক এ এম এম শফিক উল্লাহ শিক্ষক ফেরদৌসকে সাময়িক বরখাস্ত করে তদন্তের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা শান্ত হন।

উপাচার্য সেদিন বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির দুটি ‘বেনামী অভিযোগ’ পাওয়া গেছে। তাছাড়া একজন ছাত্রীর কাছ থেকে নির্দোষিতার পক্ষে জবানবন্দি নেওয়ার চেষ্টার একটি ভিডিও কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।

‘তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তার পেছনে আর কেউ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।’

আরও পড়ুন
খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত