ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২০
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
সারাদেশে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি বন্ধ ১ নভেম্বর থেকে ওমরাহ করতে পারবেন বাংলাদেশীসহ বিদেশিরা সেনাপ্রধানের ফেসবুকে কোনো অ্যাকাউন্ট নেই: আইএসপিআর নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে হাজী সেলিমের ছেলের মারধর,থানায় জিডি বিচার না হওয়া পর্যন্ত সিলেটবাসী রায়হানের পরিবারের পাশে থাকবে-আরিফ ‘আমার ছেলে কবরে,খুনি কেন বাহিরে’,অনশনকে ঘিরে হঠাৎ তীব্র আন্দোলন জাতির পিতা নিজেও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন: প্রধানমন্ত্রী

আলটিমেটাম:৭২ ঘন্টার মধ্যে রায়হানের হত্যাকারীদের না ধরলে হরতাল

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২০  

সিলেট নগরীর বন্দর বাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান হত্যায় অভিযুক্ত ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই আকবরসহ জড়িত পুলিশ সদস্যদের সাথে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার না করা হলে হরতাল-সড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিলেট নগরের বৃহত্তর আখালিয়াবাসী। 

‘পুলিশের নির্যাতনে’ মারা যাওয়া রায়হান আহমদ হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও তাদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানিয়েছেন নিহতে মা সালমা বেগম।একই সাথে ৬ দফা দাবিও তুলে ধরেছেন রায়হানের মা সালমা বেগম।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে নিহত রায়হানের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন তার মা সালমা বেগম। তিনি বলেন, `আমার ছেলে কোনো দল করতো না। তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমার একটাই দাবি, আমার ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।’
.
সংবাদ সম্মেলনে নিহত রায়হানের মা সালমা বেগমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রায়হানের মামাতো ভাই শওকত। 

দাবিগুলো হলো :
১. রায়হান হত্যাকাণ্ডে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি
২. রায়হান হত্যায় জড়িত পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) আকবর ভূঁইয়াসহ দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার
৩.পলাতক এসআই আকবর ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তারে আইজিপির নির্দেশ
৪.পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে পুর্ণাঙ্গ বক্তব্য
৫.নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন
৬.৭২ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার না করলে হরতাল-সড়ক অবরোধসহ বৃহত্তর আন্দোলন।


লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘‘পুত্র হত্যার বিচারপ্রার্থী এক অসহায় মায়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ায় আপনার সবার প্রতি জানাচ্ছি কৃতজ্ঞতা।

আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, আমার ছেলে রায়হান আহমদ (৩৩) কে গত ১১ অক্টোবর রাতে বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ডেকে নিয়ে বর্বর নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নারকীয় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি আপনারা গণমাধ্যম কর্মীরাই সবার আগে জনসম্মুখে তুলে ধরেন। যা পুরো সিলেটসহ সমগ্র বাংলাদেশ, এমনকি বহির্বিশ্বের বিবেকবান মানুষের হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে।

ফলে, দেশে বিদেশে সর্বস্তরের মানুষ রায়হান হত্যাকারী খুনি পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে আন্দোলনে নেমে এসেছেন। আমাদের এলাকা বৃহত্তর আখালিয়াবাসী গত ১২ অক্টোবর থেকে লাগাতার আন্দোলন করে আসছেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, রায়হান একটি ডাক্তারের চেম্বারে কাজ করতো। কে বা কারা তাকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নির্যাতন করা হয়। ভোরে তৌহিদের মোবাইল থেকে রায়হান ফোন করে বলে তাকে বাঁচাতে। 

তিনি জানায় ১০ হাজার টাকা নিয়ে থানায় যেতে। ভোরে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে গেলে রায়হানের চাচাকে দেখা করতে না দিয়ে সকালে আসতে বলেন। সকালে গেলে রায়হানের শরীর খারাপ করেছে এবং মেডিক্যাল যেতে বলে। হাসপাতালে ৭টা ৫০মিনিটে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয় কোতোয়ালি থানায় মামলা দিতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমিস করে।

 “ঘটনার পর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাব ইন্সপেক্টর আকবরসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা আমার ছেলেকে ছিনতাইকারী সাজিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।

কিন্তু আমাদের স্বজনরা ওসমানী হাসপাতালে থাকা আমায় ছেলের মৃতদেহে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন দেখে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানালে গণমাধ্যম কর্মীরা অনুসন্ধানে নামে।

গণমাধ্যম কর্মদের অনুসন্ধানেই জানা যায়, ১১ অক্টোবর রাতে আমার ছেলে রায়হানকে আটক করে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। আমরা জানতে পারি, বন্দরবাজার  পুলিশ ফাঁড়িতে তাকে আটকে রেখে রাতভর নির্মম নির্যাতন করা হয়। রাতেই বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ির সাব ইনস্পেক্টর তৌহিদ এলাহির মোবাইল ফোন থেকে আমাকে কল করে ১০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। বন্দরবাজার ফঁড়ির ইনচার্জ সাব ইন্সপেষ্টর আকবর হোসেন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে আমার ছেলেকে অকথ্য নির্যাতন করা হয়। রায়হানের দুই হাতের কব্জি ও পায়ের হাড় আঘাতের পর আঘাতে ভেঙ্গে দেয়া হয়। তার হাতের আঙ্গুলের নখ প্লাস দিয়ে টেনে তুলে ফেলা হয়।”

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পরে উপ পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) গেলে আমরা আশাবাদী হলেও এখন মামলার ভবিষ্যত অন্ধকার দেখতে পাচ্ছি। তাই তাদের আইনের আওতায় না আনলে কঠোর আন্দোলনে নামবো আমরা।

তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণ বলতে আমি একটাই চাচ্ছি আমার ছেলের হত্যাকারীদের প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হোক। কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিলেও আমার ছেলেকে ফিরে পাবো না। ক্ষতিপূরণ একটাই আমার ছেলে হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।

কিন্তু, দুঃখজনক হলেও সত্য রায়হান হত্যাকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাব ইন্সপেক্টর আকবর পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। সন্দেহভাজন হত্যাকারী আরও ৮ পুলিশ সদস্য এখনো পুলিশি হেফাজতে থাকলেও এখনো তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছেনা। এ সব বিষয়ে কথা বলার জন্য আমি আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, স্থানীয় কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান, ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলন রেজাউল হাসান কয়েস লোদি, ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলন তারেক উদ্দিন তাজ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলিয়াসুর রহমান, কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন, নারী কাউন্সিলর রেবেকা বেগম, সাবেক কমিশনার জগদীশ দাশ ও রায়হানের চাচা হাবিবুল্লাহসহ এলাকার মুরব্বিয়ানরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত