ঢাকা, ২৬ আগস্ট, ২০১৯
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
ব্রেকিং নিউজ--বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স, স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়ে রোনালদোর বিদায়

প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০১৮  

আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ আটে উঠেছে ফ্রান্স। এই হারে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় ঘটল আর্জেন্টিনার।

পরতে পরতে ছড়িয়ে ছিল নাটক আর রোমাঞ্চ। চিত্রনাট্যের শেষ পর্যায়ে জয়ী হলো ফ্রান্স। শেষ হাসি হাসতে পারল না আলবিসেলেস্তেরা।

আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে উঠা এ খেলা ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলেছে। এবারের আসরের এ পর্যন্ত সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ এটি। খেলার প্রথম দিকেই পেনাল্টিতে ফ্রান্স এগিয়ে গেলেও প্রথমার্ধের আগেই খেলায় ফেরে আর্জেন্টিনা।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে আজ কাজানে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ফ্রান্স শেষ আটে যাওয়ার আগে এই বার্তাও দিয়ে রাখল, কেন এবার তাদের অন্যতম ফেবারিট ধরা হচ্ছে।

একঝাঁক প্রতিভায় ঠাসা দলটার সামনে আজ দাঁড়াতেই পারেনি লিওনেল মেসির দল। ৪–৩ ব্যবধানটা একটু ভুলই বোঝাচ্ছে। তবু শেষ মুহূর্তের পাল্টা লড়াইটাই যা একটু সান্ত্বনা হয়ে থাকল আর্জেন্টিনার।

অথচ ১৩ মিনিটে আঁতোয়ান গ্রিজমানের সৌজন্যে পেনাল্টিতে ফ্রান্স এগিয়ে যাওয়ার পরও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল আর্জেন্টিনা। খেলার একেবারেই স্রোতের বিপরীতে ৪১ মিনিটে বক্সের বেশ বাইরে থেকে অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়ার আচমকা শটে এগিয়ে সমতা ফিরিয়েছিল তারা। ১-১ সমতায় শেষ হওয়া অর্ধে ম্যাচে দাপটে তখনো ফ্রান্স এগিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধের তৃতীয় মিনিটেই বক্সে মেসির শট ফ্লিক করে জালে জড়িয়ে দেন গ্যাব্রিয়েল মারকাদো। পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনাই তখন এগিয়ে। ২-১!

কিন্তু ফ্রান্স চাপে ভেঙে পড়েনি। খেলার ধারও কমায়নি। উল্টো আর্জেন্টিনা একটু বেশি রক্ষণাত্মক হয়ে গেল। আর সেই সুযোগে ৫৭ থেকে ৬৮, এই ১১ মিনিটে আর্জেন্টিনার জালে তিন গোল! ৫৭ মিনিটে পাভার সমতা ফেরালেন। এরপর এমবাপ্পে শো! ৬৪ আর ৬৮ মিনিটে এই তরুণের জোড়া গোলে ম্যাচ তখনই শেষ!

ম্যাচের পরের ১৫ মিনিটে আর্জেন্টিনা যা করল, তা শুধুই গোল না খাওয়ার চেষ্টা। গোটা দুই আক্রমণ নিষ্ফলা থাকল গোলমুখে গিয়ে গড়বড় করে ফেলায়।

শেষ মিনিট কয়েক আর্জেন্টিনা মরণপণ চেষ্টা করেছে। কিন্তু পারেনি। এই না-পারার পেছনে আছেন মেসিও। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে বক্সে একটা শট নিয়েছিলেন। সেখানেও স্কোরটা ৪-৩ হলে আর্জেন্টিনা আরেকটি অলৌকিক প্রত্যাবর্তনের আশা করতে পারত। পরের মিনিটে বক্সে আবারও তাঁর বাড়িয়ে দেওয়া বলে সার্জিও আগুয়েরো ফিনিশিংটা করতে পারেননি।

আগুয়েরো যখন পারলেন, ততক্ষণ ম্যাচ প্রায় শেষ। যোগ করা সময়ে মেসির লম্বা বল থেকে মাথা ছুঁইয়ে হেড থেকে ৪-৩ গোল আগুয়েরো। শেষ বাঁশির আগে বক্সের জটলায় আর্জেন্টিনা আরেকটি সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু এবার আর কেউ মার্কোস রোহো হতে পারলেন না!

কদিন আগে ৩১তম জন্মদিন উদ্‌যাপন করা মেসি শেষের ৭ মিনিটের খেলা আরও কয়েকটি মুহূর্তে দেখাতে পারলে ফলটা অন্য রকমও হতে পারত। কিন্তু এখানেই থেমে যেতে হলো মেসিকে। ৩৫–এ পা রেখে পরের বিশ্বকাপে আসবেন কি না, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে এখনই বিদায় বলবেন কি না—এই উত্তরগুলো জানতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

 

রোনালদোদের কাঁদিয়ে কোয়ার্টারে উরুগুয়ে

কাগজে-কলমে দুদলই ছিল প্রায় একই ঘরানার, কাছাকাছি সমশক্তির। মাঠের খেলাতেও এর প্রতিফলন ঘটল। শেষ পর্যন্ত হলো তুমুল লড়াই। তবে শেষ হাসি হাসল উরুগুয়ে। পর্তুগালকে ২-১ গোলে হারিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এক অর্থে এ মহারণে এডিনসন কাভানির কাছে হেরে গেছে পর্তুগাল। তার নৈপুণ্যের কাছেই হার মানতে হয়েছে পর্তুগিজদের। জোড়া গোল করে যে তাদের বিদায় নিশ্চিত করেছেন এ সুপারম্যানই।

এর মধ্য দিয়ে লিওনেল মেসির পর বিশ্ব ফুটবলের আরেক সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোরও বিশ্বকাপ স্বপ্নের সলিলসমাধি ঘটল। দিনের আরেক ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ৪-৩ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে আর্জেন্টিনা। সঙ্গে মেসিরও বিশ্বকাপ স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটে। রাত পোহালেই আলবিসেলেস্তেদের বিমান ধরতে হবে বাড়ির।

জিতলে কোয়ার্টার ফাইনালে, হারলে কপাল পুড়বে। তল্পিতল্পা গুছিয়ে ফিরতে হবে দেশে। এমন সমীকরণের ম্যাচে সোচির ফিশট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় উরুগুয়ে-পর্তুগাল ।

সূচনাটা দারুণ করে উরুগুইয়ানরা। শুরুতেই একাধিক আক্রমণ দাগায় তারা। ফলও আসে হাতেনাতে। ৭ মিনিটের মাথায় সাফল্য পেয়ে যায় তারা। দুর্দান্ত হেডে পর্তুগালের জালে বল জড়ান কাভানি। তিনি গোল করলেও এর রূপকার ছিলেন লুইস সুয়ারেজ।

ব্যাকফুটে চলে গিয়ে খেলায় গতি আনে পর্তুগাল। মুহুমুর্হু আক্রমণে উরুগুয়ে শিবিরে আতঙ্ক ছড়ায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোরা। তবে শক্ত হাতে তাদের সব প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে উরুগুয়ে রক্ষণসেনারা। ফলে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় পর্তুগিজদের।

বিরতি থেকে ফিরেও আক্রমণের গতি সচল রাখে পর্তুগাল। ফলে সমতায় ফিরতেও বেগ পেতে হয়নি। ৫৫ মিনিটে সফল্য লক্ষ্যভেদ করেন পেপে। কিন্তু এ গোলের কারিগর ছিলেন রাফায়েল গ্যারাইরো। এতে খেলায় ফেরে পর্তুগিজরা।

তবে পর্তুগালের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ফের দৃশ্যপটে কাভানি। ৬২ মিনিটে ঠিকানায় বল পাঠিয়ে তাদের উল্লাস মাটি করে দেন এ চতুর গোলমেশিন।

পরে খেলায় ফিরতে মরিয়া আক্রমণ চালায় পর্তুগাল। তবে উরুগুয়ের প্রাচীরে ফাটল ধরাতে পারেনি তারা। ফলে ২-১ গোলের হারে স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ইউরোপিয়ান পাওয়ারকে।

এদিন গোটা ম্যাচে নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন রোনালদো। গোল করা তো দূরের কথা, গোলপোস্ট বরাবর জোরালো শটও নিতে পারেননি সিআর সেভেন। স্বভাবতই দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে তাকে ও তার দলকে বাড়ি ফিরতে হলো ।

আরও পড়ুন
বাণিজ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত