ঢাকা, ২৯ মার্চ, ২০২০
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
ইতালি থেকে আসা ১৪২ জনের কারো করোনাভাইরাসের কোনো উপসর্গ নেই করোনাভাইরাস: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে সিদ্ধান্ত সময়মতো নেয়া হবে আখাউড়ায় ইতালি ফেরত ৩ প্রবাসী হোম কোয়ারেন্টাইনে ইউরোপকে করোনাভাইরাস মহামারির কেন্দ্রস্থল ঘোষণা সিলেটের যেসব স্থানে ফ্রি ওয়াইফাই জোন উপসর্গ দেখা গেলে না লুকিয়ে ডাক্তার দেখানো পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশিদের এই মুহুর্তে দেশে না আসার অনুরোধ গণফোরামের নতুন কমিটি নেই সুব্রত-মন্টু সিলেটে ভোক্তা অধিকার দিবসের অনুষ্ঠান স্থগিত করোনাভাইরাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ন মুজিববর্ষের ক্রিকেট ও কনসার্ট স্থগিত সিলেটে অধিক দামে মাক্স বিক্রির দায়ে ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে থাকবেন মোদি ওসমানী বিমানবন্দরে বসানো হয়েছে ‘থার্মাল স্ক্যানার’ ১৭ মার্চ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্র প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের খোঁজ রাখা হচ্ছে: ইমরান আহমদ ওসমানীনগরে স্ত্রীর অপকর্ম দেখে ফেলায় স্বামীকে শ্বাসরোধে হত্যা সিলেট আদালতে ৫৫ মামলার আলামত ধ্বংস বড় জনসমাবেশ বা গ্যাদারিং এড়িয়ে চলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর মোদির বাংলাদেশ সফর বাতিল মির্জাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়েসহ নিহত ৬ সিলেটে মাস্কের বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান করোনা ভাইরাস নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ দেশে ৩ করোনা রোগী শনাক্ত সিলেটে বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য ৬ নারীকে সম্মাননা দিয়েছে আ.লীগ নারী দিবসে সিসিকের শোভাযাত্রা কোনো ব্যাংকের শেয়ার দর বাড়েনি মানবিক বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন: বোন সেলিমা সুনামগঞ্জ বড়ধই বিলে প্রতিপক্ষের হাতে যুবক খুন ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ: বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা মুজিব বর্ষ: করোনার প্রভাবে অতিথিরা এখনো সফর বাতিল করেননি করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ২০২ তরুণ প্রজন্মকে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ট্রাকচাপায় পুলিশ কনস্টেবল নিহত তাহিরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন দুদকের মামলায় সাবেক এমপি আউয়াল স্ত্রীসহ কারাগারে ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হত্যা মামলার আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত সৌ‌দিতে ক‌রোনায় আক্রান্ত একজন সনাক্ত ছাত্রলীগের দুই নেতাকর্মী হত্যার ঘটনায় রাবিতে বিক্ষোভ র‌্যাব ও বিজিবির সঙ্গে পৃথক বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৮ মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে বাড়তি ব্যয় না করার নির্দেশ বন্ধুদের মধ্যে কিলিং হওয়া ঠিক না...., শ্রিংলাকে মোমেন সাগর রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন:২ খুনীর ডিএনএ শনাক্ত পিরোজপুরে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা সিলেটে যাত্রা শুরু করছে গ্র্যান্ড প্যালেস স্ত্রীকে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্বামী আত্মসমর্পণ সিলেটের গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে রেকর্ড রানে জিতলো বাংলাদেশ অতিথি হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মান পাবেন মোদি.... পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাইভেটকারের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৫ সিলেটে স্বাধীনতার মাসকে স্বাগত জানিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা মালয়েশিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী মুহিদ্দীন ইয়াসিন চার জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৩ বিয়ের দাওয়াত খেতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সিলেটে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না....প্রধানমন্ত্রী ভাষা সৈনিকদের রাষ্ট্রীয় সম্মান-সম্মানী দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে রিট সিলেটের যেসব এলাকায় শনিবার বিদ্যুৎ থাকবে না বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র.... নাহিদ আগামী প্রজন্মের ভাগ্য শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করে....প্রধানমন্ত্রী লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের খবর গুজব....বাংলাদেশ ব্যাংক শনিবার সিলেট চেম্বারে ফ্রি হাড় চেকআপ ক্যাম্পেইন ছাত্রীকে আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে শিক্ষক বহিষ্কার নগরীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জুতা পালিশ থেকে ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ চ্যাম্পিয়ন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই পাপিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে....কাদের ৭ মার্চকে ঐতিহাসিক জাতীয় দিবস ঘোষণার নির্দেশ হাইকোর্টের বিকল্প ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত খুঁটি না সরানোর অনুরোধ আইএসপির পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ২০ আজ পিলখানা ট্র্যাজেডি দিবস জুলাইয়ে শুরু হচ্ছে ঢাকা-সিলেট ৬ লেন সড়কের কাজ পদত্যাগ করেছেন মাহাথির সিলেটে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে শ্রীঘরে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী পারিবারিক কলহের জের ধরে আত্মহত্যা করেছেন সালমান শাহ....পিবিআই বর্তমান সরকার চিকিৎসা সেবাকে গুরুত্ব দিয়েছে....মাহমুদ উস-সামাদ জগন্নাথপুরে মেয়র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শুরু ট্রাকচাপায় তিন অটোরিকশাযাত্রী নিহত সিলেটে ছিনতাইকৃত প্রাইভেটকারসহ ছিনতাইকারী আটক শেখ হাসিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ অ্যাঞ্জেলিনা জোলি আজীবনের জন্য যুবমহিলা লীগ থেকে পাপিয়া বহিষ্কার করোনাভাইরাসে উহানে আরেক চিকিৎসকের মৃত্যু মাশরাফিকে অধিনায়ক করে ওয়ানডে দল ঘোষণা ট্রাম্পের প্রশংসা পেয়ে আয়ুষ্মান যা বললেন সিলেটের ব্যবসায়ীদের সৃষ্টিশীল মনোভাবের অভাব রয়েছে সিলেটে আটক শিবির ক্যাডারের দেয়া তথ্যে অস্ত্র উদ্ধার সিলেটের সাংবাদিকরা অতীতের গৌরবোজ্জ্বল পথ ধরে রেখেছে ২১ বছর জাতির পিতার নাম মুছে ফেলা হয়েছিল....প্রধানমন্ত্রী মার্চে আসছে ২০০ টাকার নোট পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর ছুড়িকাঘাতে স্ত্রী খুন সিলেটে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২ জৈন্তায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৫ ডাকাত আটক ইতিহাস ইতিহাসই, তা কেউ মুছে ফেলতে পারে না.... প্রধানমন্ত্রী পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘গোলাগুলিতে’ ২ ডাকাতের মৃত্যু রাস্তার কাজে অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলায় ৫ সাংবাদিক আহত সারা বিশ্বে ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত চীন থেকে ফল আমদানি নিরুৎসাহিত করছে সরকার মুনসীফ আলীর বিরুদ্ধে ৮৪ হাজার কোটি টাকার মানহানি মামলার হুমকি সুরমা মার্কেট থেকে ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার সিলেট যুবদলের ১৮ ইউনিটে ৬ সাংগঠনিক কমিটি গঠন জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন বেগম খালেদা জিয়া কচুরিপানা নিয়ে গবেষণা করতে বলেছি, খেতে নয়: পরিকল্পনামন্ত্রী ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক চোরাকারবারি নিহত করোনাভাইরাসে উহান হাসপাতাল প্রধানের মৃত্যু রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চলে গেলেন ভারতীয় অভিনেতা তাপস পাল নাহিদ সম্পাদিত ‘জয় বাংলা’র মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী একই দিনে চট্টগ্রাম সিটি-যশোর-বগুড়ার ভোট ক্ষমা চে‌য়ে আবেদন করলে বিবেচনা করবে সরকার....স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জগন্নাথপুরে ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত সাবেক এমপি রহমত আলী আর নেই রংপুর মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে ভর্তি এক চীনা নাগরিক স্ত্রীকে ঘরে তুলেই ব্যাংক কর্মকর্তার আত্মহত্যা বৃষ্টিতে মাঠে গড়ালো না জাহানারাদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ বিশ্বনাথে গাঁজাসহ আটক ১ মৃতের সংখ্যা ১৫২৩, গুরুতর অবস্থা ১১ হাজারৎ বিদায়ী সপ্তাহে ব্লকে ১২০ কোটি টাকার লেনদেন নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয় ঘিরে রেখেছে পুলিশ ভালোবাসা দিবসে ঘুরতে বের হয়ে দুর্ঘটনায় নববিবাহিত তরুণীর মৃত্যু করোনাভাইরাসে প্রাণহানিতে প্রধানমন্ত্রীর শোক প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিদেশ যেতে চান খালেদা জিয়া! শনিবার সিলেটের যেসব এলাকায় থাকবে না বিদ্যুৎ ভালোবাসা দিবসে সাকিবের আবেগী স্ট্যাটাস বাস ও নসিমনের সংঘর্ষে নিহত ৫ সিলেটে ১৬ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১ মন্ত্রিসভায় রদবদল সিলেটে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য গ্রেপ্তার কোটি টাকার পাজেরো পাচ্ছেন ইউএনওরা বিমান বন্দরে ফুলেল ভালোবাসায় সিক্ত বিশ্বকাপজয়ী সিলেটের সাকিব তুরস্কে বাংলাদেশিসহ ১৩৫ অবৈধ অভিবাসী আটক চবির শিক্ষার্থীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ২৫ এতো উৎসব, উচ্ছ্বাসে বিস্ময় আকবরের মুজিববর্ষেই দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌছানো হবে....প্রধানমন্ত্রী ইসহাক কাজলের সাংবাদিকতা ও লেখনী স্মরণীয় হয়ে থাকবে ফিটনেসবিহীন কোন গাড়ি চলতে পারবে না....হাইকোর্ট জগন্নাথপুরে ৪ ভাই সহ গ্রেফতার ৫ ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন ডাকাত সন্দেহে ২ যুবককে পিটিয়ে হত্যা সিলেটে ট্রাক চাপায় রিকশাচালকের মৃত্যু ভাইকে হত্যার পর থানায় হাজির হয়ে হত্যার কথা স্বীকার নিজ দায়িত্বে চীন থেকে ফিরতে হবে....পররাষ্ট্রমন্ত্রী দক্ষতার সঙ্গে টেলিটক পরিচালনা করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ সিলেট-জগন্নাথপুর সড়কে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু মাটির নিচ থেকে হলেও মাদক কারবারি নির্মূল করা হবে: র‌্যাবের ডিজি সাংবাদিক ইসহাক কাজলের মৃত্যুতে সিলেট প্রেসক্লাবের শোক বসানো হল ২৪তম স্প্যান, পদ্মা সেতুর ৩৬০০ মিটার দৃশ্যমান সিলেটে পুলিশের পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার ৫ করোনা ভাইরাস: মৃতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়াল, আক্রান্ত ৪০,৫৫৩ র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গা নিহত সিলেটে নবাব উদ্দীনের বই নিয়ে লেখক-পাঠক আড্ডা সিলেটের নতুন পিপি নিজাম উদ্দিন সিলেটে স্যামসাং শোরুম থেকে চুরি হওয়া মালামালসহ গ্রেপ্তার ৪ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যেন খারাপ কিছু স্পর্শ করতে না পারে পুঁজিবাজার চাঙ্গা করতে আসছে চারটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংক....অর্থমন্ত্রী আবু সরকারের জুলুম অত্যাচার থেকে পরিত্রাণ চান ট্রাক শ্রমিকেরা শেরপুরে মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে ভাড়া করা ১২ পরীক্ষার্থী আটক ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির রেল স্থাপনা পরিদর্শন করছেন রেলমন্ত্রী কোম্পানীগঞ্জে আ’লীগ নেতাকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য করলে দাঁতভাঙা জবাব শেখ হাসিনা বিশ্বের তিনজন সৎ ও পরিশ্রমী রাষ্ট্রনায়কের একজন টিলাগড়ে ছাত্রলীগ কর্মী খুনের ঘটনায় মামলা প্রাইভেটকার চাপায় মুক্তিযোদ্ধা নিহত মুবিজ বর্ষ উদযাপনে সিলেট প্রেসক্লাবের কর্মসূচি গ্রহণ সমাবেশে খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলবে না....তথ্যমন্ত্রী শ্রীমঙ্গলে চা বাগানে কিশোরীকে ‘পালাক্রমে ধর্ষণ’, আটক ৩ প্রধানমন্ত্রী নিয়ে ফেসবুকে মিথ্যা পোস্ট, সিলেটে যুবক আটক ভোট কম পড়ার পেছনে দায়ী বিএনপি....তথ্যমন্ত্রী জগন্নাথপুরে গৃহবধূর আত্মহত্যা ব্যাংক ঋণ নারী উদ্যোক্তাদের অধিকার....শিক্ষামন্ত্রী টিলাগড়ে কথা কাটিকাটির জেরে ছাত্রলীগ কর্মী খুন শ্রীমঙ্গলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ আ.লীগ নেতাকে গলা কেটে হত্যা: ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড চীন থেকে দেশে ফিরলেন হবিগঞ্জের ৬ শিক্ষার্থী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে নতুন ১৭টি দেওয়ানি মামলা দক্ষিণ সুরমায় বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ: নিহত ১ সুরঞ্জিত সেনের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত রোমে চ্যান্সেরি ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বছরে ২৬ হাজার কোটি টাকা পাচার করছে বিদেশি কর্মীরা নগরীতে মাদক মামলার ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী গ্রেপ্তার নবীগঞ্জে বয়লার বিস্ফোরণে নিহত ১, আহত ৬ তুচ্ছ ঘটনার জেরে বিয়ানীবাজারে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০ ঢাবি থেকে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ আপাতত গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই সিলেটে ছিনতাই করে পালানোর সময় ছিনতাইকারী আটক বিয়ে করলেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির যে ব্যায়াম করে ৪৪ কেজি ওজন কমালেন সারা সিলেটে নিজের বুকে গুলি চালিয়ে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যার চেষ্টা বাঁধ কেটে ডুবিয়ে দেয়া হল কোম্পানীগঞ্জের ২১ কোয়ারি করোনাভাইরাস ঠেকাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী র‌্যাবের অভিযানে মাদকসহ গ্রেপ্তার ২ সারাদেশে এসএসসি পরীক্ষায় বসেছে সাড়ে ২০ লাখ শিক্ষার্থী অনাগত সন্তানের লিঙ্গ প্রকাশ কেন অবৈধ নয়....হাইকোর্ট সিকৃবির পাশ থেকে অস্ত্রসহ যুবক আটক ভোলাগঞ্জে মাটি চাপায় পাথর শ্রমিক নিহতের ঘটনায় মামলা আকস্মিক অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা পেতে বিশেষ মহড়া বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল সেটাই ছিল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী এসএসসি পরীক্ষা ৩ ফেব্রুয়ারি শুরু চীনাদের অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা স্থগিত উত্তর-দক্ষিণে কাউন্সিলর হলেন যারা মেয়র হলেন তাপস- আতিক ইভিএমে ভোট: কেউ খুশি, কেউ বিরক্ত! উহান থেকে ফিরলেন ৩১৪ জন বাংলাদেশি রাণীগঞ্জ সেতু ঢালাই কাজের উদ্বোধন করলেন পরিকল্পনামন্ত্রী সিলেটে বইমেলার উদ্বোধন সিলেটে বর্ণমালার মিছিলের মাধ্যমে বরণ করা হলো ভাষার মাস চুরির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে খুন ট্রাক্টর ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ প্রাথমিকে আরও ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ ফেব্রুয়ারিতে: গণশিক্ষা প্রতিম সিলেটে ৯ জঙ্গি আটক দুই সিটি নির্বাচন: প্রচারণায় গিয়ে হামলার শিকার রিজভী হবিগঞ্জে কবর থেকে স্কুলছাত্রীর লাশ উত্তোলন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার সাবেক ইউপি সদস্যের গুলিতে এসএসসি পরীক্ষার্থী মৃত্যু ঢাকায় আসছেন মোদি র‍্যাবের পৃথক অভিযান: বিদেশি রিভলভারসহ গ্রেপ্তার ৪ পদ্মা সেতুর ৩৫ চীনা কর্মী বিশেষ নজরদারিতে শাবিপ্রবিতে মাসব্যাপী র‌্যাগিং বিরোধী ক্যাম্পেইন শুরু আর কোন দিন হেলিকপ্টার চড়বেন না সাকিব সীমান্তে অবৈধভাবে গরু আনতে গিয়ে নিহত হলে তার দায় নেবে না সরকার রাজধানীর সিটিং সার্ভিস হচ্ছে চিটিং সার্ভিস....কাদের দিরাই সড়কে পিকআপ চাপায় আমেরিকা প্রবাসীসহ ২জন নিহত মাধবপুরে ২ জনকে হত্যা, দুর্ঘটনার নাটক সাজায় লালমাটিয়ায় এসকে সিনহাকে ‘মাজায় দড়ি’ লাগিয়ে টেনে দেশে আনা হবে:মোজাম্মেল হক নিখুঁত ও স্বচ্ছতার সাথে জনশুমারি করতে হবে:পরিকল্পনামন্ত্রী হাইকোর্টে জামিন চাইলেন প্রথম আলোর সম্পাদক এসএসসি পরীক্ষা ৩ ফেব্রুয়ারি,সংশোধিত রুটিন প্রকাশ ইভটিজিং ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে বাল্যবিবাহ রোধ ও শিক্ষা বাড়বে মৌলভীবাজারে বাগানে ৪ জনকে কুপিয়ে হত্যার পর ঘাতকের আত্মহত্যা ভারতের নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের প্রয়োজন ছিল না:প্রধানমন্ত্রী হাসিনা শিক্ষা বানিজ্যের প্রতিবাদে সিলেট ল কলেজের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ‘প্রথম আলো’র সম্পাদকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ঢাবি ছাত্রীকে ধর্ষণ: আদালতে মজনুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সিলেটে বিয়ের প্রলোভনে কিশোরীকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ১ ‘হাইকোর্টের আদেশ মেনে আন্দোলন থেকে বিরত থাকুন’....কাদের

আমি ১৯৭১ সালের কথা বলব,আমি আমার বাবার কথা বলব

সাজ্জাদুল হাসান

প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০১৯  

মা-মাটি-মাতৃভূমি ও বাঙালির আত্মপরিচয় নিহিত বঙ্গবন্ধু, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের অমোচনীয় ইতিহাসে। ইতিহাস ও আত্মপরিচয় ছাড়া কোনো জাতি দাঁড়াতে পারেনি। যে জাতির কোনো ইতিহাস নেই, সে জাতির বর্তমান কিংবা আগামী নেই। অতীতই আমাদের প্রেরণা ও শক্তি। ১৯৭১ আমাদের ইতিহাসের সেই রক্তাক্ত অধ্যায়, যার লাল-কালো অক্ষরের ভেতরে আছে বাঙালির শক্তি ও অস্তিত্ব। 

আমি ১৯৭১ সালের কথা বলব। শরণার্থী জীবনের কথা বলব। শুধু স্মৃতিচারণ নয়, আত্মজীবনের জার্নাল। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু বাংলার সন্তানদের ডাক দিয়েছিলেন। তার ডাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সাড়া দিয়ে আমাদের টগবগে পূর্বপুরুষরাই দেশ স্বাধীন করেছেন। আমার পিতা ছিলেন তাদের একজন। তাই এ লেখার সর্বাংশে জড়িয়ে আছে আমার বাবার স্বপ্ন ও লড়াই। আত্মজীবনের লড়াইকে লিখতে এসে একজন লেখককে ভূমির ইতিহাস ও ঐতিহ্য ভুলে উদাসীন গল্প লিখলে চলে না। আমি পূর্বপুরুষের লড়াইয়ের কথা, আমার বাবার কথা বলতে চাই। আমি জানি, দেশের প্রতি দায় ও আত্মঅস্তিত্বের এই জার্নাল কখনোই মূল্যহীন হয়ে যাবে না, বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এসব লেখা অমূল্য হয়ে উঠবে। উত্তরাধিকারীরাই ইতিহাসের ভাষা ও শক্তিকে বহন করেন। আমাদের কৃতি, স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে তাদের কাছেই রেখে যেতে হবে। উত্তরাধিকারের পথরেখায় ওরা পথ চলতে থাকুক। আত্মপরিচয়ের শক্তিতে বেঁচে থাকুক।

আমি তো লেখক নই। শব্দের সঙ্গে বসবাস করতে শিখিনি। খাতা-কলম নিয়ে, একটা দায় ও দায়িত্ব নিয়ে লেখার টেবিলে বসে থাকি। ফ্রেমে বাঁধা বাবার ছবিটার দিকে তাকিয়ে তার দৃষ্টি ও দর্শনকে লিখতে চেষ্টা করি।

নেত্রকোনা জেলার হাওরাঞ্চলে আমার জন্ম। ছোট একটা থানা শহরে কেটেছে আমার শৈশব ও যৌবন। এখানকার মানুষ উকিল মুন্সির গানের মতো সহজ-সরল ও উদার। এখানকার মাটিতে ফলে সোনালি ফসল। এখানকার কংস, ধনু আর জলমগ্ন হাওরে মাছ আর মাছ। এখানকার জমির মতো মানুষের মনটাও উর্বর। খুব অল্পতেই এ অঞ্চলের মানুষ খুশি হয়। এ অঞ্চলের মানুষ বাইরে যেতে চায় না। কেন যাবে? হাওরভর্তি ধান-মাছ রেখে কোন দুঃখে বাইরে যাবে? কুয়াশার শীতল বাতাস, রৌদ্রের হাসিতে এখানকার মাঠ থেকে ভেসে আসে পাকা ধানের সুবাস। এই ধানের সুবাস নাকে নিয়ে কেউ অসুখী হতে পারে না। এমন ভাটি অঞ্চলের মানুষ আমি। আমার বাবা ডাক্তার আখলাকুল হোসেন আহমেদ। একজন মানুষ যখন আরেকজনকে দেখিয়ে বলে, 'উনি আখলাক ডাক্তারের ছেলে'; আমার বুকটা শান্তিতে ভরে যায়। হাওর ও ভাটি বাংলার সবুজ-শ্যামল প্রকৃতিতে আমার বাবাকে এক নামে সবাই চেনেন। বাবাও চিনতেন সবাইকে। হাওরের মতো বিশাল তার মন। তিনি বেশিরভাগ পরিচিতকে নাম ধরেই ডাকতেন। কারও সঙ্গে দেখা হলে বাড়ির সবার নাম বলে কুশলাদি জিজ্ঞেস করতেন। বাবার ছায়ার পাশে বসতে বসতে মানবিকতা, উদারতা, আন্তরিকতা শিখেছি। বাবা বলতেন, 'ভাষা শিখতে হবে। ভাষা শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। কি বাংলা, কি ইংরেজি; দুটি ভাষাতেই পারদর্শী হতে হবে। নিজেকে প্রকাশ করার একমাত্র মাধ্যম ভাষা। ভাষা শিক্ষা ছাড়া জ্ঞানার্জন অসম্ভব।' পরীক্ষায় ভালো ফলে তিনি অসম্ভব খুশি হতেন। স্কুলে আমার প্রথম স্থান অর্জনে আনন্দিত হতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে প্রথম শ্রেণি পাওয়ার কথা শুনে কতই না আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন! সবার কাছে আমার ভালো ফলের কথা বলতেন। আমি যখন বৃত্তি নিয়ে মাস্টার্স করতে অস্ট্রেলিয়া যাই, তিনি যে কত খুশি হয়েছিলেন, তা আজও মনে পড়ে। আমাদের উপজেলায় কোনো তরুণ কর্মকর্তা এলে তিনি আগ্রহ নিয়ে মিশতেন। আমরা ছোটবেলায় এ রকম অনেক কর্মকর্তার প্রশংসা শুনেছি বাবার মুখে। বাবা বলতেন, 'এই অফিসার খুব সৎ।' 

আমার বাবার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু বাবাকে প্রাদেশিক পরিষদে মনোনয়ন প্রদান করেন। ময়মনসিংহ-২২ আসনে নৌকা প্রতীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। বাবা ভারতের মেঘালয় রাজ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কাজ করেন। আজ আমি সে স্থানগুলোর কথা লিখব। আমার বাবার স্মৃতির খোঁজে এসব স্থান আমি ভ্রমণ করে এসেছি।

মেঘালয়ের পথে পথে :৪ থেকে ৭ এপ্রিল (২০১৮) ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো ঘুরে এসেছি। বর্ডারের এবড়োখেবড়ো পথ ধরে কখনও হেঁটেছি, আবার গাড়িতে পথ পাড়ি দিয়েছি আর শিহরিত হয়েছি। এই শিহরণ ও চেতনাকে ভাষায় প্রকাশ করা দুরূহ। এই জঙ্গলাকীর্ণ পাহাড়ে রাঙামাটির পথে ছড়িয়ে আছে ১৯৭১-এর স্মৃতি; আমার বাবার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। মেঘালয়ের এই তলদেশেই ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের ১১নং সেক্টর। মেঘালয়ের এই নির্জন ছায়াতেই আশ্রয় নিয়েছিল লাখ লাখ শরণার্থী। গড়ে উঠেছিল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। সাউথ গারো হিলের এমনই একটি প্রধান ক্যাম্পের নাম মহেষখলা।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে ভাটি বাংলার লোকেরা দলে দলে সীমান্ত এলাকায় হাজির হচ্ছিল। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তখন প্রধান দায়িত্ব ছিল এই অসহায় মানুষদের সহায়তা ও মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা। নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জের মানুষ এই মহেষখলা দিয়েই ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশ করেছিল। ভারতের অভ্যন্তরেও মহেষখলা নামে একটি স্থান ও বাজার রয়েছে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় মহেষখলা দু'ভাগে ভাগ হয়ে যায়। 

এই মহেষখলা ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন বাবা। পরবর্তীকালে তিনি সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিলের (Civil Administrative Council of Bhali Area of Mymensingh District N.E. Zone No II)  
চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। হাজার হাজার মানুষের আশ্রয়ের ব্যবস্থা, খাবার ও ওষুধ জোগাড় ছিল তার কাজ। মহেষখলা ক্যাম্পে যাওয়ার আগে তিনি ও আব্দুল খালেক (এমপিএ) মিলে পুরো ভাটি অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রহ করেছেন। এ সময় সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থেকে নির্বাচিত প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য আ. হেকিম চৌধুরীও দায়িত্ব পালন করেছেন। বাবার মতো আওয়ামী লীগ নেতারা সেদিন ঠিকই বুঝেছিলেন, গেরিলা যুদ্ধ ছাড়া পাকিস্তানি আর্মির মতো একটি শক্তিশালী বাহিনীর বিরুদ্ধে আমরা পারব না। তাই এই ভাটি অঞ্চল থেকে কৃষক, ছাত্র-জনতাকে সংগ্রহ করে ট্রেনিংয়ে পাঠিয়ে একটা শক্তিশালী মুক্তিবাহিনী তৈরিতেই কাজ করেছিলেন তিনি। এ ছাড়াও তিনি মহাদেও, রংড়া, তুরাসসহ বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব পালন করেছেন। বাবার স্মৃতি ও স্বাক্ষরগুলোকে খুঁজতেই আমার এই মেঘালয় ভ্রমণ। এই ভ্রমণের সঙ্গে আমার স্ত্রী লায়লা আরজুমান এবং আমার ছোট ছেলে সাবাব রয়েছে। আমার বড় ছেলে সাদাবকে নিয়ে আসতে পারলে খুব ভালো হতো। ইতিহাস সম্পর্কে ওর জানার আগ্রহ প্রবল। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ব্যস্ততার কারণে আসতে পারেনি। 

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর নাকুয়া বর্ডার দিয়ে আমরা ভারতীয় সীমানায় প্রবেশ করি। সীমান্তে প্রবেশের পর সাউথ হিল গারো ডিস্ট্রিক্টের একজন সহকারী কমিশনার, গৌহাটিতে কর্মরত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভ্যর্থনা জানান। তারা আমাদের একটি স্মৃতিসৌধে নিয়ে যায়। এটি মুক্তিযুদ্ধের স্মারক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের বিএসএফের যে ৯ জন বীর সেনানী এখানে জীবন দান করেছেন, তাদের উদ্দেশে নির্মিত ও তাদের নাম সংবলিত এই স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও নীরবতা পালন করি। কত রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা! এই নয়জন ভারতীয় সৈনিক হয়তো জীবনে কল্পনাও করেননি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন দিতে হবে। 

এর পর সাউথ গারো হিলস জেলার ডালু বর্ডার থেকে বাঘমারার উদ্দেশে রওনা হই। আমাদের মূল যাত্রা মহেষখলা। পাহাড় ও অরণ্যের নির্জন পথ। সন্ধ্যা হওয়ায় বাঘমারা সার্কিট হাউসে থাকতে হলো। সাউথ গারো হিলস জেলার ডেপুটি কমিশনার  Shri. H. B. Marak  সার্কিট হাউসে অভ্যর্থনা জানালেন। সঙ্গে জেলার ডিএসপি। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তাদের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছি। 

মহেষখলা ক্যাম্পের খোঁজে :৫ এপ্রিল মহেষখলার উদ্দেশে রওনা হই। পাহাড়ি রাস্তায় অনেক ছায়া। যেখানে গাছপালা নেই, সেখানে রোদ কড়া। গাড়ি এগিয়ে যাচ্ছে, দু'পাশে তাকিয়ে আমরা আঁকাবাঁকা পথ, চারপাশের জঙ্গল আর গভীর খাদ দেখছি। দূরে পাহাড়চূড়া কিংবা গাছের সবুজে তুলার মতো জমে আছে মেঘ। মেঘ জমে থাকে বলেই হয়তো এই পাহাড়ের নাম মেঘালয়। মেঘের ধারায় পাহাড়ের ঢালু বেয়ে কলকল শব্দে সমতলে নেমে আসে ঝর্ণা। প্রায় ৮২ কিলোমিটার দুর্গম পথ পার হতে আমাদের সময় লেগেছে প্রায় ৫ ঘণ্টা। কিন্তু মহেষখলায় গিয়ে সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেল।

১৯৭১ সালে আমার বাবা ডা. আখলাকুল হোসাইন এই মহেষখলা ক্যাম্পেরই ইনচার্জ ছিলেন। জিপ থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে কী এক আশ্চর্য প্রশান্তি নেমে এলো! মনে হলো, স্বপ্নে আমি এই জায়গায় বহুবার এসেছি। এই মাটির ঘাসে ঘাসে বাবার স্মৃতি। ইশ! যদি বেঁচে থাকতেন। যদি বাবার সঙ্গে এই মহেষখলার মাটিতে দাঁড়াতে পারতাম! আমার স্ত্রী লায়লা আরজুমান আমার আবেগ কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারছিল। সেখানে নেমেই টেলিফোনে আম্মার সঙ্গে কথা বললাম। আম্মাও টেলিফোনে কিছু স্মৃতিচারণ করলেন। তার বয়স এখন ৮০-এর ঊর্ধ্বে। 

হাঁটতে হাঁটতে বয়স্ক লোকদের সঙ্গে কথা বলি। আবেগপ্রবণ হই। বাবার কথা বলি, বাবার কথা জিজ্ঞেস করি। দু-একজন মুরব্বি স্মৃতিচারণও করলেন। ওই সময় বাঁশের বেত দিয়ে তৈরি মাচার ঘরে আমরা থাকতাম। সেই বাড়ি তো আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবু আমি সেই বাড়িটির অবস্থান বের করার চেষ্টা করি। স্মৃতি মেশানো বিবরণ শুনতে শুনতে বয়স্ক লোকেরা একটা জায়গা দেখালেন। আমারও মনে হলো, আমাদের থাকার জন্য যে ঘরটি ছিল, এটি সেই স্থান। আমার মনে আছে, ঝর্ণায় আমরা গোসল করতাম, সেই ঝর্ণার অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছি; যদিও ঝর্ণায় এখন পানি নেই। বারবার ঝর্ণার জায়গায় বসে স্মৃতি খুঁজেছি। 

৪৭ বছরে অনেক কিছুই বদলে গেছে। কিন্তু এলাকাটি এখনও অবহেলিত; তবে ৪৭ বছর আগে তার রূপ কেমন ছিল, তা আজ হয়তো কেউ অনুমান করতে পারবে না। আমার বাবার মতো প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতারা তখন ক্যাম্পে ক্যাম্পে শক্তি-সাহস ও প্রেরণার মন্ত্র ছড়িয়ে বেড়াতেন। গেরিলা আক্রমণ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য কৃষক ও ছাত্রদের মধ্য থেকে মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রহ করতেন। তাদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে গড়ে তুলতেন- কার যুদ্ধ? কেন যুদ্ধ? কার সঙ্গে যুদ্ধ? এসব প্রশ্ন না জেনে কেউ গেরিলা হতে পারে না। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ যে ভাষণ দিয়েছিলেন, সেই ভাষণের ভেতরেই ছিল গেরিলাদের রাজনৈতিক প্রস্তুতির অভিজ্ঞান। বঙ্গবন্ধু সেদিন সবাইকে প্রস্তুত হতে বলেছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষ আসলে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতই ছিল। যুদ্ধে যাওয়ার জন্য কৃষক-যুবাদের যখন ডাক এলো, তখন আর কেউ দ্বিধা করেনি। 

৪৭ বছর আগের একটা বাঁশের বেত দিয়ে তৈরি ঘর আর আমার বাবার স্মৃতির স্বাক্ষরগুলো খুঁজতে খুঁজতে আমি মহেষখলার মাটিতে হাঁটতে থাকি। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া আমার শৈশবটা খুঁজতে থাকি। কিছুক্ষণ পর মহাদেও ক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা হই।

মহাদেও এবং রংড়া ক্যাম্পের খোঁজে :এই মহাদেও থেকে বাবা চিঠি লিখেছিলেন আম্মাকে। রশীদ হায়দারের সম্পাদনায় একাত্তরের চিঠির যে সংকলন প্রকাশিত হয়েছে, সে সংকলনের ২৭ পৃষ্ঠায় এই চিঠি ছাপা হয়েছে। ১৬ জুন লেখা এই চিঠিতে স্পষ্ট বোঝা যায়, তিনি মহেষখলা থেকে মহাদেও এসেছেন। কিন্তু তার গন্তব্য তুরা। রংড়া হয়ে তুরা যাবেন। সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আব্দুল খালেক এমপিএ ও জোবেদ আলী এমএনএ। চিঠির বিবরণ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, পরিবার নিয়ে কতটা উদ্বিগ্ন তিনি। আম্মাকে সাবধানে থাকতে বলছেন। বাড়িতে থাকলে আক্রমণ হতে পারে- এ রকম আশঙ্কাও করেছেন তিনি। চিঠিটি পড়ে বোঝা যায়, আম্মাকে আরও চিঠি লিখেছেন তিনি। কিন্তু সেসব দুর্লভ চিঠি আমরা হারিয়ে ফেলেছি। 

মহেষখলা ও রংড়ার একটা মধ্যবর্তী স্থান এই মহাদেও। মহাদেও ইয়ুথ ক্যাম্পে যুবকদের ভর্তি করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রশিক্ষণে পাঠানো হতো। প্রবীণ লোকদের জিজ্ঞেস করলাম, মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্যাম্পটা কোথায় ছিল। তাদের সাহায্যে জায়গাটি খুঁজেও পেলাম। ভাবতে অবাক লাগে, এমন একটি জঙ্গলাকীর্ণ স্থানে কীভাবে মুক্তিযোদ্ধারা দিন-রাত কাটিয়েছিলেন! বারবার জায়গাটি ঘুরেফিরে দেখলাম, ছবি তুললাম। অতঃপর সেখান থেকে রংড়ার উদ্দেশে রওনা হলাম। ১৬ জুন আম্মাকে লেখা চিঠিতে এও লেখা ছিল, 'তোমরা বাড়ি থেকে সরে গেছ কি-না জানি না। তোমাদের উপর আক্রমণ আসতে পারে, তাই পূর্ব পত্রে লিখেছিলাম বাড়ি থেকে সরে যেতে। কোথায় আছ তা যেন অন্য লোকে না জানে।' আবার লিখেছেন, 'স্বাধীন বাংলা বেতারের খবর নিশ্চয়ই শুনেছ যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িও আক্রমণ করতে ছাড়েনি। সুতরাং খুব সাবধান।' চিঠির বিবরণ অনুযায়ী মহেষখলা থেকে রংড়ার পুরো ৩৫ কিলোমিটারের পথ বাবা সহযাত্রীদের নিয়ে হেঁটে এসেছিলেন। 

আমরা গাড়িতেই রংড়া এসেছি। সেখানে একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদের সহায়তায় রংড়া ক্যাম্পের স্থানগুলো অবলোকন করলাম। খাড়া অসমতল পাহাড়ের রাস্তা দিয়ে বাঘমারায় সার্কিট হাউসে ফেরার সময় প্রচণ্ড বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে পাহাড়ি এলাকার লাল মাটি। ঘন পাহাড়ের এই সবুজ অরণ্যই ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়। পরদিন ওয়েস্ট গারো হিলস জেলার তুরার দিকে রওনা হই। সেখানেও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রয়েছে। 

তুরা ক্যাম্পের খোঁজে :সকালে তুরার পথে বাঘমারা সার্কিট হাউস থেকে বের হলাম। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে সভায় অংশগ্রহণের জন্য বাবা মহেষখলা থেকে তুরা এসেছিলেন। তাই তুরা দেখতে কেমন, সে আগ্রহ ও আবেগ ছিল। বারবার বাবার কথা মনে হচ্ছিল। বাঘমারা থেকে তুরা প্রায় ১০৪ কি.মি.। কিন্তু রাস্তা খারাপ হওয়ায় সাউথ গারো হিলস জেলার সিকিউরিটিতে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তাদের সহায়তায় ডালু হয়ে গাছুয়াপারা থেকে আম্পাট্টির দিকে রওনা হই (৯০ কি.মি.)। আম্পাট্টিতে অবস্থিত জেলার সার্কিট হাউসে তুরা যাওয়ার পথে বিশ্রাম নিই। সেখানে সাউথ ওয়েস্ট গারো হিলস জেলার ডেপুটি কমিশনার Shri. Cyril V. Darlong Diengdoh আমাদের স্বাগত জানান। ওয়েস্ট গারো হিলসের জেলা শহর তুরায় পৌঁছার পর সার্কিট হাউসে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা আমাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সার্কিট হাউসের প্রবেশদ্বারে তাদের স্থানীয় সংস্কৃতিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উত্তরীয়, মাথায় টুপি এবং কটি পরিধান করিয়ে বরণ করা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ডিআইজি সাহেব সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন। 

বাবা এই তুরায় মূলত বিভিন্ন মিটিংয়ে আসতেন। তুরা ছিল মূলত প্রশিক্ষণ শিবির। মহেষখলা, মহাদেও, রংড়া, বাঘমারা, শিববাড়ী ক্যাম্পে যেসব মুক্তিযোদ্ধাকে ভর্তি করা হতো, তাদেরকে প্রশিক্ষণের জন্য তুরায় প্রেরণ করা হতো। তুরায় ঘুরে সর্বক্ষণ বাবার স্মৃতি মনে ভাসছিল। 

আমার বাবার মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতিবিজড়িত এলাকা ছিল মহেষখলা, মহাদেও, রংড়া ও তুরা। আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে এপ্রিল মাসেই তিনি এ কাজের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। চিকিৎসাসেবা দিয়ে, শরণার্থীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণে সহায়তা প্রদান করে, মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রহ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তিনি নিবেদিতভাবে এই গারো হিল অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ৪৭ বছর পর আমি সেই স্থানগুলোতে আমার ছোট ছেলে সাবাবকেও নিয়ে এসেছি। ও জানুক ওর পূর্বপুরুষের কৃতি। আমার বাবা যদি আজ বেঁচে থাকতেন, একসঙ্গে নিয়ে স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো দেখাতে পারতাম। তার জীবদ্দশায় মুক্তিযুদ্ধের অজানা কাহিনী আরও যদি জেনে নিতে পারতাম, সে কথাই আজ ভীষণভাবে মনে পড়ছে! বাবার পদস্পর্শিত স্থানে গিয়ে উপলব্ধি করেছি পিতৃস্নেহের প্রবলতা। তার চিঠি, তার নেতৃত্ব ও সংগ্রাম, পরিবারের প্রতি ভালোবাসা আর দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ আমাকে, আমার উত্তর-প্রজন্মকে আরও বেশি উজ্জীবিত করে তুলবে। 

আমি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতি, যিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন আমার বাবার স্মৃতিময় জায়গাগুলো পরিবারসহ ভ্রমণের সুযোগ করে দিয়েছেন। তার এই সহৃদয় সহায়তা আমাকে শিকড়ের সন্ধানে অগ্রসর হতে উদ্বুদ্ধ করেছে। জায়গাগুলো ঘুরতে গিয়ে ভারত সরকারের যে সহযোগিতা পেয়েছি, সে জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এ ভ্রমণ স্মৃতিতে চিরঅম্লান হয়ে থাকবে।-সৌজন্যে: সমকাল।

সাজ্জাদুল হাসান: সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক।

আরও পড়ুন
মুক্তিযুদ্ধ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত